ছবি: সংগৃহীত।
বিশ্বের অন্যতম ধনীদের বাস এই শহরে। সেই ঝাঁ চকচকে শহরেরই অন্যরকম দৈন্য প্রকট হয়েছে সমাজমাধ্যমে। এশীয় দেশের সেই শহরে গৃহহীন গৃহকর্মীরাই। ছুটির দিনে সেতু ও আন্ডারপাসে গাদাগাদি করে কোনও রকমে কার্ডবোর্ডের বাক্সের মধ্যে ঢুকে দিন গুজরান করেন তাঁরা। কাগজের নড়বড়ে দেওয়ালগুলো এই ব্যস্ত মহানগরীতে সামান্য আশ্রয় জোগায় সেই সমস্ত মানুষদের। হংকঙে এক নেটপ্রভাবীর তোলা একটি ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ভাইরাল হয়েছে ভিডিয়োটি। যদিও এই ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
কার্ডবোর্ডের তৈরি ‘ঘরের’ একটি ভিডিয়ো ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করে নেটপ্রভাবী জানিয়েছেন, যেখানে বিশাল বিশাল ইমারত মাথা তুলে সগর্বে দাঁড়িয়ে রয়েছে সেখানে গৃহকর্মীদের ঠাঁই নেই। শহর সচল রাখেন যাঁরা, মাথা গোঁজার আশ্রয় নেই তাঁদেরই। রাফা নামের এক জাপানি সমাজমাধ্যমপ্রভাবী ব্যাখ্যা করেছেন যে, হংকঙে একটি ‘লিভ-ইন’ নিয়ম রয়েছে। সেই অনুযায়ী বিদেশি গৃহকর্মীদের তাঁদের নিয়োগকর্তার বাসভবনেই থাকতে হয়। এই নিয়মের কারণে ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলি থেকে আসা গৃহকর্মীদের হংকঙে কোনও বাসস্থান নেই। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে তাঁরা আশ্রয় ও গোপনীয়তার জন্য বড় কার্ডবোর্ডের বাক্স ব্যবহার করে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত স্থানে থাকতে বাধ্য হন।
এটিকে হংকঙের অদৃশ্য শ্রম সঙ্কট বলে উল্লেখ করেছেন রাফা। কার্ডবোর্ডের বাক্সে মহিলাদের ঘুমিয়ে ও বসে থাকার একটি ভিডিয়ো শেয়ার করে তিনি ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন, “হংকং দাঁড়িয়ে রয়েছে এমন কিছু মানুষের শ্রমের ওপর, যাঁদের থাকার জায়গা দিতে অস্বীকার করে শহরটিই। যে শহরটি তাঁদের উপর নির্ভরশীল, সেখানে অস্থায়ী বাসিন্দার মতো আচরণ করা হয় এই বিদেশি গৃহকর্মীদের সঙ্গে।’’
ভিডিয়োটি ‘দ্য টেল অফ ট্রাভেল’ নামের একটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে পোস্ট করার পর লক্ষ লক্ষ বার দেখা হয়েছে। ভিডিয়োটি দেখে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নেটাগরিকেরা। এক নেটাগরিক লিখেছেন, ‘‘ধনীদের আরামের জন্য গরিবদেরই শ্রম প্রয়োজন।’’ আর এক নেটাগরিক নেটপ্রভাবীর দাবির পাল্টা জবাবে লিখেছেন, “পুরোপুরি মিথ্যা বর্ণনা। এই গৃহকর্মীদের সবারই থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা থাকে। তাঁরা ছুটির দিনে খাওয়া-দাওয়া, বিশ্রাম এবং বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করার জন্য এগুলো তৈরি করেন। রাত ৯টার মধ্যে তাঁরা জিনিসপত্র গুছিয়ে, পরিষ্কার করে বাড়ি চলে যান।’’