ছবি: ভিডিয়ো থেকে নেওয়া।
শীত পড়তে না পড়তেই পুরো হ্রদটি বরফে জমে যায়। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য পর্যটকেরা সেখানে ভিড় জমান বটে, তবে হ্রদে না নামার নিষেধাজ্ঞা জারি করে সাইনবোর্ড লাগানো থাকে এলাকায়। সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই বরফজমা হ্রদে নেমে পড়েছিলেন এক পর্যটক। ভার নিতে না পেরে বরফ ভেঙে যায়। কনকনে ঠান্ডা জলে ডুবে যান তিনি। তাঁকে উদ্ধার করতে ছুটে যান আরও দু’জন পর্যটক। সেই ব্যক্তিকে জল থেকে তুলে উদ্ধার করতে সফল হলেও বরফ ভেঙে জলে ডুবে যান তাঁরা। মৃত্যু হয় দুই পর্যটকের। সম্প্রতি সমাজমাধ্যমের পাতায় এমনই একটি ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়েছে (যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম)।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য অরুণাচল টাইমস’ সূত্রে খবর, সাত জন পর্যটকের দল অরুণাচল প্রদেশে ঘুরতে গিয়েছিলেন। গুয়াহাটি থেকে রওনা হয়ে তাওয়াং পৌঁছোন তাঁরা। তাওয়াংয়ে পৌঁছে শুক্রবার দুপুরে বরফজমা সেলা হ্রদে ঘুরতে যান সকলে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বছর ডিসেম্বর মাসে জেলা প্রশাসনের তরফে নিষেধাজ্ঞা জারি করে সতর্ক করা হয়েছিল যে, বরফজমা হ্রদগুলি নিরাপদ নয়।
বরফ যে কোনও সময় ভেঙে যেতে পারে এবং তা মানুষের ভার সহ্য করতে সক্ষম নয়। পর্যটকেরা যেন অ্যাডভেঞ্চারের শখে বরফজমা হ্রদে নেমে হাঁটাহাঁটি না করেন তা জানিয়ে সাইনবোর্ডও লাগানো হয়েছিল। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে শুক্রবার দুপুরে হ্রদে নেমে পড়েছিলেন এক ব্যক্তি।
বরফ ভেঙে জলে ডুবতে শুরু করেন তিনি। তাঁকে উদ্ধার করতে সেখানে দৌড়ে যান দুই তরুণ পর্যটক। ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করতে পারলেও বরফ ভেঙে জলে পড়ে যান তাঁরা। বরফজলে ডুবে মৃত্যু হয় তাঁদের। দুই তরুণের নাম যথাক্রমে দিনু (২৬) এবং মহাদেব (২৪)। দু’জনেই কেরলের বাসিন্দা। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধারকারী দল নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় জেলা পুলিশ।
কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং রাজ্য দুর্যোগ প্রতিক্রিয়া বাহিনীর (এসডিআরএফ) সহায়তায় যৌথ ভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। দিনুর দেহ শুক্রবার উদ্ধার করা গেলেও মহাদেবের দেহ খুঁজে পেতে দেরি হয়। আবহাওয়ার কারণে দৃশ্যমানতা কমে আসায় উদ্ধারকাজ স্থগিত রাখা হয়। উদ্ধারকৃত মৃতদেহটি নিকটবর্তী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রাখা হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, শনিবার সকালে দ্বিতীয় মৃতদেহটি উদ্ধার করার পর ময়নাতদন্তের কাজ শুরু করা হবে।