Lakshmir Bhandar Fraud

‘লক্ষ্মী’-ছেলের খোঁজ অশোকনগরেও! বৃদ্ধের নামে অ্যাকাউন্ট খুলে ‘ভান্ডারের’ টাকা হাতানোর অভিযোগ তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে

অশোকনগরের বাসিন্দা বিমল দাস শারীরিক ভাবে সক্ষম নন। তাঁর এই অসহায়তার সুযোগ নিয়ে বিমলের নামে একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলেন সমীর দে নামে স্থানীয় তৃণমূল নেতা।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১০ জুন ২০২৬ ১৪:৫৪
Share:

আর এক ‘লক্ষ্মী’-ছেলের খোঁজ পাওয়া গেল উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরে। তবে এই গল্প আলাদা। এক প্রতিবন্ধী বৃদ্ধের নামে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলে ‘লক্ষ্মীর ভান্ডারের’ টাকা হাতানোর অভিযোগ উঠল স্থানীয় তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। অভিযোগ, ২০২১ সাল থেকে চলতি বছরের এপ্রিল মাস পর্যন্ত ওই অ্যাকাউন্টে মাসে মাসে মহিলাদের জন্য দেওয়া ভাতা ঢুকত।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে খবর, অশোকনগরের বাসিন্দা বিমল দাস শারীরিক ভাবে সক্ষম নন। তাঁর এই অসহায়তার সুযোগ নিয়ে বিমলের নামে একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলেন সমীর দে নামে স্থানীয় তৃণমূল নেতা। ২০২১ সাল থেকে ওই অ্যাকাউন্টে ‘লক্ষ্মীর ভান্ডারের’ টাকা ঢুকছিল। অভিযোগ, সমীর নিজের কাছেই ওই অ্যাকাউন্টের পাসবই রাখতেন। মাসে মাসে ব্যাঙ্কে গিয়ে পাসবুক আপডেট করতেন। নিজের নামে অ্যাকাউন্ট হলেও বিমল জানতেই পারেননি, মাসে মাসে সরকারের থেকে ভাতা পাচ্ছেন।

শুধু তা-ই নয়, বিমল আবাস যোজনার টাকাও হাতে পাননি বলে অভিযোগ। ২০১৮ সালে ওই বৃদ্ধের নামে আবাস যোজনায় ঘর মঞ্জুর হয়। অভিযোগ, টাকা না-পাওয়ায় বাড়ি নির্মাণের কাজ অসম্পূর্ণ অবস্থাতে পড়ে রয়েছে। আর সেই টাকা হাতানোর অভিযোগও উঠেছে সমীরের বিরুদ্ধে।

Advertisement

সমীরের ‘কীর্তি’ প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকাবাসীরা। অভিযুক্তের বাড়ির সামনে জড়ো হন বহু মানুষ। অভিযোগ, সমীর না-থাকায় বিক্ষুব্ধ জনতা তাঁর বাড়ি লক্ষ্য করে ডিম ছোড়েন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় অশোকনগর থানার পুলিশ। অভিযুক্তের ভাইকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যায়। যদিও এই অভিযোগ নিয়ে সমীরের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

রাজ্যে পালাবদলের পরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান যে, ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’-এ দেদার বেনোজল ঢুকেছে। আর সেই কারণেই যোগ্য মানুষদের চিহ্নিত করতে প্রত্যেককেই এ বার ‘অন্নপূর্ণা ভান্ডার’-এর ফর্ম পূরণ করতে হবে। জালিয়াতির উদাহরণ হিসাবে মুখ্যমন্ত্রী মুর্শিদাবাদের রাকিবুল শেখের নাম, ঠিকানা ও বাড়ির সমস্ত তথ্য প্রকাশ করেন। অভিযোগ, ২০২৩ সাল থেকে নিয়মিত ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’-এর ভাতা পাচ্ছিলেন রাকিবুল। শুধু তা-ই নয়, তাঁর স্ত্রী-ও এই সুবিধা পাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ। তার পরে একে মুর্শিদাবাদ থেকে জনা ছয়েক ‘লক্ষ্মী’-ছেলের খোঁজ মেলে। এ বার অশোকনগরের তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে টাকা হাতানোর অভিযোগ উঠল।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement