— প্রতীকী চিত্র।
বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় এসে গোবরডাঙার বন্ধ গ্রামীণ হাসপাতাল চালু করতে তৎপর হল। শনিবার বন্ধ হাসপাতাল চালু করতে স্থানীয় গাইঘাটার বিজেপি বিধায়ক সুব্রত ঠাকুর এবং স্বাস্থ্য দফতরের কর্তারা হাসপাতাল পরিদর্শন করলেন।
সুব্রত পরে বলেন, ‘‘বিধানসভা ভোটের আগে আমরা গাইঘাটার জন্য সংকল্পপত্র প্রকাশ করেছিলাম। সেখানে গোবরডাঙা গ্রামীণ হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গ ভাবে চালু করার কথা জানিয়েছিলাম। এখন সেই কাজ আমরা শুরু করেছি। গোবরডাঙা গ্রামীণ হাসপাতাল নিয়ে ইতিমধ্যেই আমার সঙ্গে রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কথা হয়েছে। শনিবার আমরা সরেজমিনে দেখে নিয়েছি হাসপাতালের বর্তমান পরিস্থিতি। এ বার স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর কাছে প্রজেক্ট জমা দেব। হাসপাতালটিকে আমরা আর্বান প্রাইমারি হেলথ সেন্টার হিসেবে চালু করব। এখানে রোগী ভর্তির ব্যবস্থা থাকবে। পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল হিসেবেই চালু হবে।’’
এ দিন হাসপাতালে গিয়ে জানা গিয়েছে, এসি মেশিন-সহ কিছু জিনিসপত্র চুরি হয়ে গিয়েছে। এ দিন অনেক মানুষ হাসপাতাল এলাকায় ভিড় করেন। তাঁদের কথায়, ‘‘তৃণমূল আমলে এমন পরিদর্শন অনেক বার হয়েছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছু হয়নি। আমরা আশা করব, এ বার হাসপাতালটি চালু হবে।’’ বাসিন্দারা জানালেন, হাসপাতাল বন্ধ থাকায় তাঁদের রোগী নিয়ে হাবড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতাল বা বনগাঁ সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে যেতে হয়। এর ফলে সময় এবং টাকা অনেক বেশি খরচ হয়। বিশেষ করে, কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে দুর্ভোগের শেষ থাকে না। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে অনেকেই মারা গিয়েছেন।
বন্ধ হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল হিসেবে চালুর দাবিতে দীর্ঘদিন আন্দোলন করে আসছে গোবরডাঙা পৌর উন্নয়ন পরিষদ। সংগঠনের সহ সভাপতি পবিত্র মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘নতুন সরকারের কাছে আমাদের আবেদন, গোবরডাঙা গ্রামীণ হাসপাতালটি স্টেট জেনারেল হাসপাতাল হিসেবে চালু করুক।’’
অতীতে জেলা পরিষদ পরিচালিত হাসপাতালে রোগী ভর্তির ব্যবস্থা ছিল। আউটডোর এবং ইনডোর চিকিৎসা হত। ছোটখাটো অস্ত্রোপচার হত। গোবরডাঙা পুরসভা এবং সংলগ্ন কয়েক লক্ষ মানুষের চিকিৎসার ভরসার জায়গা ছিল ওই হাসপাতাল। ২০১৪ সালের নভেম্বর মাস থেকে ওই হাসপাতালে রোগী ভর্তি বন্ধ হয়ে যায়। বহির্বিভাগে খুঁড়িয়ে চলছিল পরিষেবা। ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাস থেকে তা-ও বন্ধ হয়ে যায়।অতিমারি পর্বে হাসপাতালটিকে ‘কোভিড হাসপাতাল’ হিসেবে ঘোষণা করে পরিকাঠামো তৈরি করা হয়েছিল। অতিমারি-পর্ব কাটার পরে আবার পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল হিসেবে চালু হবে—এই আশায় ছিলেন বাসিন্দারা, কিন্তু তা আর হয়নি। জেলা পরিষদে জানিয়ে দিয়েছিল, তাদের পক্ষে হাসপাতাল চালানো সম্ভব নয়।
২০১৭ সালের মে মাসে ব্যারাকপুরে প্রশাসনিক সভায় গোবরডাঙার তৎকালীন পুরপ্রধান তৃণমূলের সুভাষ দত্ত হাসপাতালটি চালু করার আবেদন করে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন। অভিযোগ, মমতা পুরপ্রধানের কথা বলার ধরণ নিয়ে ব্যঙ্গ করেছিলেন। হাসপাতাল চালু হবে না বলেও জানিয়ে দিয়েছিলেন। সে সময়ে বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয় এলাকায়। প্রতিবাদ মিছিল, বন্ধ, সভা থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়াতেও সরব হন বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি ছিল, বন্ধ হাসপাতালটি স্টেট জেনারেল হাসপাতাল হিসেবে চালু করা হোক।
এখন বিজেপি সরকার মানুষের দাবিকে মান্যতা দিয়ে হাসপাতাল চালু করে কিনা, সে দিকেই তাকিয়ে সকলে।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে