BJP

টাকা চাইতেই কর্মীর পায়ে পড়লেন বিজেপির জেলা সভাপতি! ভিডিয়ো নিয়ে কটাক্ষ তৃণমূলের

প্রকাশ্যে আসা ওই ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, বিজেপির মথুরাপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি প্রদ্যোৎ বৈদ্য হাতজোড় করে চেয়ারে বসে থাকা এক ব্যক্তির পায়ে পড়ে যাচ্ছেন।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৭:৪০
Share:

বিজেপির মথুরাপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি প্রদ্যোৎ বৈদ্য। নিজস্ব ছবি।

আর্থিক সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা রাখেননি বিজেপির সাংগঠনিক জেলা সভাপতি। উল্টে দলের এক কর্মীর গ্যাঁটের কড়ি খসেছে দলীয় কর্মসূচিতে। সেই কর্মী ‌এখন টাকা ফেরতের দাবি করায় তাঁর পায়ে পড়ে যেতে দেখা গেল জেলা সভাপতিকে! সমাজমাধ্যমে সেই ঘটনার একটি ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়েছে। তা নিয়ে বিজেপিকে কটাক্ষ করতে ছাড়ছে না তৃণমূল। ভাইরাল ভিডিয়োটির সত্যতা যদিও আনন্দবাজার অনলাইন যাচাই করেনি।

Advertisement

প্রকাশ্যে আসা ওই ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, বিজেপির মথুরাপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি প্রদ্যোৎ বৈদ্য হাতজোড় করে চেয়ারে বসে থাকা এক ব্যক্তির পায়ে পড়ে যাচ্ছেন। দ্বিতীয় ব্যক্তিকে সেই সময় বলতে শোনা যায়, ‘‘পায়ে পড়লেও আমি ছাড়ব না।’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘এ বার টাকা নিয়েই আমি যাব। অনেক দিন ধরে তুমি এ সব করে যাচ্ছ! তোমার ব্যাঙ্কে লক্ষ লক্ষ টাকা আছে।’’ তাঁকে রাজি করাতে না পেরে ওই ঘরে উপস্থিত বাকিদের পায়েও পড়তে দেখা যায় প্রদ্যোৎকে।

দলীয় সূত্রে খবর, ভিডিয়োয় জেলা সভাপতিকে যাঁর পায়ে পড়তে দেখা গিয়েছে, তিনি দক্ষিণ ২৪ পরগনার রায়দিঘির বাসিন্দা নিমাই পাল। সম্প্রতি দলের পক্ষ থেকে ‘মোদী কাপ’-এর আয়োজন করা হয় এলাকায়। প্রতিশ্রুতি দিয়েও সেই কর্মসূচির টাকা দেননি প্রদ্যোৎ। দাবি, নিমাইয়ের অনেক টাকা খসে গিয়েছে ওই কর্মসূচির জন্য। শুধু তা-ই নয়, প্রদ্যোৎও ব্যক্তিগত ভাবে নিমাইয়ের থেকে টাকা নিয়েছেন। সেই টাকা ফেরত চাইতে গেলে নিমাইয়ের পায়ে পড়েন প্রদ্যোৎ। এমনটাই দাবি দলীয় সূত্রে। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে প্রদ্যোতের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে আনন্দবাজার অনলাইন। তবে তিনি ফোন ধরেননি।

Advertisement

ভিডিয়োটি প্রকাশ্যে আসার পরেই প্রদ্যোতের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে সরব হয়েছে দলের একাংশ। পায়ে পড়ার ওই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসাবে নিজেকে দাবি করে রায়দিঘির ৫ নম্বর মণ্ডল কমিটির সভাপতি প্রেমানন্দ জানা বলেন, ‘‘আলো, প্যান্ডেল ভাড়ার খরচ আমাদের কাছ থেকে নিয়েছিলেন জেলা সভাপতি। বলেছিলেন, পরে দিয়ে দেবেন। কিন্তু সেই টাকা আর পাইনি। টাকা চাইতে গেলে আমাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারও করা হয়েছে। আমাদের কাছে খবর আছে, উনি অনেক দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। অনেকের থেকে টাকা নিয়ে তা ফেরত দেননি।’’

এই ঘটনা প্রসঙ্গে রায়দিঘির তৃণমূল বিধায়ক অলোক জলদাতা বলেন, ‘‘বিজেপির সবাই দুর্নীতিগ্রস্ত। সংগঠন নেই বললেই চলে। কর্মীদের সঙ্গে প্রতারণা করে বলেই কেউ দলে থাকে না।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement