lockdown

ধরপাকড়ে মিলছে ফল, পথঘাট দিনভর শুনশানই

শনিবারের লকডাউনে দুই জেলা কার্যত বনধের চেহারা নিয়েছিল। তবে অকারণে ফাঁকা রাস্তায় হাঁটতে বেরোলেও যে ছাড়া মিলবে না, শনিবার তা বুঝিয়ে দিল পুলিশ।

Advertisement

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ২৬ জুলাই ২০২০ ০৪:১২
Share:

লকডাউন সফল করতে বনগাঁয় র‌্যাফ। ছবি: নির্মাল্য প্রামাণিক

লকডাউন না মানলে যে ছাড় মিলবে না, তা বৃহস্পতিবার পুলিশের পদক্ষেপই বুঝিয়ে দিয়েছিল। ফলে শনিবারের লকডাউনে দুই জেলা কার্যত বনধের চেহারা নিয়েছিল। তবে অকারণে ফাঁকা রাস্তায় হাঁটতে বেরোলেও যে ছাড়া মিলবে না, শনিবার তা বুঝিয়ে দিল পুলিশ। মাস্ক ছাড়া যাঁরা পথে নামলেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও কঠোর পদক্ষেপ করল পুলিশ। কোথাও জামা খুলিয়ে নাকে-মুখে বাঁধতে বাধ্য করা হল। গ্রেফতারের সংখ্যাও বাড়ল আগের লকডাউনের থেকে। শুধু মাত্র ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটে এলাকায় এ দিন ১২৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়। আগের দিনে সেই সংখ্যা ছিল ৬৮।
এ দিন সকালে বনগাঁ শহরে ১ নম্বর রেলগেট এলাকায় মাস্ক না পড়ে বাইরে বেরিয়েছিলেন এক যুবক। পুলিশ কর্মীরা তাঁর টি-শার্ট খুলিয়ে নাকে-মুখে বেঁধে বাড়ি পাঠিয়ে দেন। তারপরেও বেশ কয়েকজনের ক্ষেত্রেও একই পদক্ষেপ করা হয়। বনগাঁ মহকুমায় সর্বত্রই এ দিন রাস্তাঘাট ছিল শুনশান।
জটলা দেখলেই লাঠি উঁচিয়ে পুলিশ তেড়ে গিয়েছে। বনগাঁ থানার পুলিশ লকডাউন আটজনকে গ্রেফতার করেছে। আটক করা হয়েছে একটি গাড়ি। হাবড়া-অশোকনগর-গোবরডাঙা এলাকায় লকডাউন ভেঙে গ্রেফতার অকারণ বাড়ির বাইরে বেরিয়ে গ্রেফতার হল ১৬ জন।
অকারণ রাস্তায় হাঁটতে বেরোনোর জন্য হাসনাবাদ থানার টাকি থেকে সাতজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মাস্ক না থাকায় হিঙ্গলগঞ্জ থানা এলাকায় কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়। মাস্ক ছাড়া অকারণ ঘোরাঘুরি করতে দেখলে বসিরহাটের রাস্তায় পুলিশ লাঠিপেটা করেছে। বয়স্কদের অবশ্য কিছুটা ছাড় মিলেছে। মাস্ক পরিয়ে, তাঁদের হাতে জবা ফুল গুঁজে সতর্ক করে বাড়ি পাঠিয়েছে পুলিশ। যাঁরা মুখে রুমাল বেঁধে ঘোরাফেরা করছিলেন, তাঁদের পুলিশ মাস্ক দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। কেবল বসিরহাট থানা এলাকা থেকে ৬২ জনকে পাকড়াও করেছে পুলিশ। বাদুড়িয়া, হাসনাবাদ, মাটিয়া, হাড়োয়া, মিনাখাঁ, স্বরূপনগর সর্বত্রই ছিল বন্ধের চেহারা।
আর পাঁচটা দিনের মতোই অটো নিয়ে বের হয়েছিলেন এক যুবক। পোলেরহাট বাজারে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে যান। শেষ পর্যন্ত কান ধরে ওঠবস করে বাড়ি ফেরার ছাড়পত্র পেয়েছেন। অনেককেই পুলিশ এ ভাবে বাড়ি পাঠায়। ভাঙড় ১ ও ২ এবং জীবনতলা ব্লক এলাকার সমস্ত দোকান-বাজার বন্ধ ছিল। বাসন্তী হাইওয়ে থেকে শুরু করে প্রতিটি রাস্তায় যাঁরা গাড়ি নিয়ে বাইরে বেরিয়েছিলেন, তাঁদের উপযুক্ত প্রমাণপত্র যাচাই করে ছাড়পত্র দেয় পুলিশ। ভাঙড়ের মাড়িয়া গ্রামের এক যুবক বাসন্তী হাইওয়ে দিয়ে ফেরা এক যুবক ঘটকপুকুরে পুলিশের হাতে ধরা পড়তেই বলেন, হাসপাতালে ভর্তি স্ত্রীকে দেখে বাড়ি ফিরছেন। পুলিশ তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে চায়। যুবক কোনও নথিও দেখাতে পারেনি। দীর্ঘক্ষণ আটক থাকার পরে ছাড় পান ওই যুবক। তিন থানা থেকে পুলিশ ২০ জনকে গ্রেফতার করেছে।ক্যানিং, বাসন্তী ও গোসাবা থানা এলাকা থেকে পুলিশ ১৪ জনকে গ্রেফতার করে। ডায়মন্ড হারবার ও কাকদ্বীপ মহকুমায় সকাল থেকেই জোরদার পুলিশি টহলদারি চলে। তার ফলে কোথাও বাজারহাট খোলেনি। অকারণ বাইরে বেরোলেই পুলিশ বাড়ি ফেরানোর চেষ্টা করেছে। তবে বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement