পরিদর্শন: গাইন গার্ডেন ঘুরে দেখছেন রাজ্য হেরিটেজ কমিশনের সদস্যেরা।
‘হেরিটেজ ভবন’ ঘোষণা হতে পারে বসিরহাট মহকুমার অন্যতম স্থাপত্য ধান্যকুড়িয়ার ‘গাইন গার্ডেন’।
সম্প্রতি রাজ্য হেরিটেজ কমিশনের চেয়ারম্যান শুভাপ্রসন্ন মজুমদারের নেতৃত্বে কুড়ি জনের একটি দল ইন্দো-ইউরোপীয় মিশ্র আঙ্গিকের স্থাপত্যে গড়া গাইন গার্ডেন পরিদর্শন করেন। এই ভবনকে অবিলম্বে হেরিটেজ তকমা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয় উপস্থিত সরকারি আধিকারিকদের।
বসিরহাট-বেড়াচাঁপার টাকি রাস্তার ধারে অবস্থিত ধান্যকুড়িয়ার গাইন গার্ডেন। ঐতিহ্যশালী ওই স্থাপত্য প্রায় ২৭ বিঘা জমি জুড়ে। প্রায় দেড়শো বছর আগে পাট ব্যবসায়ী মহেন্দ্রনাথ গাইন ধান্যকুড়িয়ায় দুর্গের আদলে ভবনটি নির্মাণ করেন। সেখানে দীর্ঘদিন পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত একটি সরকারি বালিকা হোম-সহ মেয়েদের স্কুল চলত।
গাইন পরিবারের অন্যতম সদস্য মনোজিৎ গাইন বলেন, ‘‘২০০৮-০৯ সালে সরকার গাইন গার্ডেন নিজেদের মালিকানায় নেয়। বছর দু’য়েক আগে সংস্কারের কথা বলে মেয়েদের হোম ও স্কুল তুলে দেওয়া হয়। বর্তমানে এটি ভগ্নদশায় পড়ে রয়েছে। সম্প্রতি হেরিটেজ কমিশন থেকে গাইন গার্ডেনকে হেরিটেজ তকমা দিতে চলেছে বলে জানানো হয়েছে।’’
রাজ্য হেরিটেজ কমিশনের দলটি বেড়াচাঁপার অস্থায়ী ভাবে তৈরি চন্দ্রকেতু গড় সংগ্রহশালাও ঘুরে দেখে। শুভাপ্রসন্ন জানান, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা চন্দ্রকেতু গড়ের প্রত্নতাত্ত্বিক সামগ্রী একত্রিত করে দেগঙ্গার বেড়াচাঁপায় চন্দ্রকেতুগড় সংগ্রহশালা তৈরি হবে। সেখানে গবেষণাগার, অডিটোরিয়াম, গেস্টহাউস ও রেস্তরাঁ থাকবে। চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে নতুন ভবনের কাজ শুরু হবে বলে জানানো হয়েছে।