প্রতিবাদ: ভাঙড়ের দু’ জায়গায় অবস্থান-বিক্ষোভ, বিজয়গঞ্জ বাজারে আরাবুল ইসলামের নেতৃত্বে। ছবি: সামসুল হুদা।
পেট্রল-ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে দলীয় নির্দেশে ব্লকে ব্লকে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছে তৃণমূল। শনিবার ভাঙড় ২ ব্লকেও পেট্রোপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে কর্মসূচি নেওয়া হয়। কিন্তু তৃণমূলের যুযুধান দুই গোষ্ঠী এ দিন আলাদা আলাদা কর্মসূচি পালন করে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ছবিই আরও একবার সামনে চলে আসছে।
এ দিন ভাঙড় ২ ব্লকের বিজয়গঞ্জ বাজারে প্রাক্তন বিধায়ক তথা ভাঙড় ২ পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি আরাবুল ইসলামের নেতৃত্বে অবস্থান-বিক্ষোভ হয়। বিক্ষোভ মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন ভাঙড় ২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বিশ্বজিৎ মণ্ডল, ভাঙড় ২ ব্লক যুব তৃণমূলের সভাপতি কাশেফুল করুব খান, যুব নেতা মমিনুল ইসলাম, হাকিমুল ইসলাম-সহ অন্যান্যরা। শোনপুর বাজারে অন্য একটি অবস্থান-বিক্ষোভে উপস্থিত ছিলেন ভাঙড় ২ ব্লক তৃণমূলের কার্যকরী সভাপতি আব্দুর রহিম, তৃণমূল নেতা মিজানুর রহমান, ভাঙড়ে বিধানসভায় তৃণমূল প্রার্থী রেজাউল করিম-সহ আরও অনেকে।
ভাঙড়ে শাসকদলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নতুন নয়। বিধানসভা নির্বাচনে জেলায় একমাত্র ভাঙড় বিধানসভা কেন্দ্রেই হেরে যায় তৃণমূল। অনেকে মনে করেন, এই হারের পিছনে রয়েছে দলের ভিতরের দ্বন্দ্ব। ভোটের আগে থেকেই এলাকায় আরাবুল ইসলাম, ওহিদুল ইসলাম, নান্নু হোসেন, কাইজার আহমেদরা একে অন্যের বিরুদ্ধ গোষ্ঠীর নেতা হিসেবে পরিচিত। বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরেই শারীরিক অসুস্থতায় মৃত্যু হয় জেলা পরিষদ সদস্য নান্নু হোসেনের। কিছুদিন পরে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় ভাঙড় ২ ব্লক তৃণমূলের সভাপতি ওহিদুল ইসলামের। দুই নেতার মৃত্যুতেও যে দ্বন্দ্ব মেটেনি, তা প্রমাণ হল এ দিন।
এলাকায় নান্নু ঘনিষ্ঠ নেতা হিসেবে পরিচিত আব্দুর রহিম, মিজানুর রহমান, মহসিন গাজিরা। তাঁরাই এ দিন আলাদা করে কর্মসূচি পালন করলেন। নির্বাচনের পরে এই গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন রেজাউল করিমও। রহিম বলেন, “দলের সিনিয়র নেতারা যদি আমাদের সম্মান না দেন, তা হলে আমরাও তাঁদের সম্মান দেব না। দলের নির্দেশ মেনে কর্মসূচি পালন করছি। আমরা স্বচ্ছ ভাঙড় গড়তে বদ্ধপরিকর। কোনও দুর্নীতিগ্রস্ত নেতার সঙ্গে চলতে চাই না।”
আরাবুল আবার বলেন, “আমরা সকলকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। দু’একজন বাদে অধিকাংশ পঞ্চায়েত প্রধান, পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য-সহ অন্যান্য নেতৃত্ব আমাদের কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়েছিলেন। কেউ কেউ আমাদের সঙ্গে না এসে নিজেদের মতো আলাদা কর্মসূচি পালন করেছেন।” গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের প্রসঙ্গ উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “ভাঙড়ে তৃণমূল ঐক্যবদ্ধ ভাবে সমস্ত লড়াই-সংগ্রামে আছে।”
শোনপুর বাজারে বিরোধী গোষ্ঠীর নেতা আব্দুর রহিমের নেতৃত্বে কর্মসূচি।
রেজাউলের কথায়, “দল নির্দেশ দিয়েছে, পেট্রোপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে কর্মসূচি পালন করার জন্য। সেই মতো কার্যকরী সভাপতি আব্দুর রহিমের নেতৃত্বে ওই কর্মসূচিতে আমি যোগ দিয়েছি। অন্য কোনও কর্মসূচিতে আমাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।” তিনি আরও বলেন, “আমাকে হারানোর ক্ষেত্রে দলের মধ্যে অন্তর্ঘাত ছিল। বিষয়টি দল দেখছে।”
এ দিনের ঘটনা প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক তৃণমূল নেতা বলেন, “এ ভাবে চলতে থাকলে কর্মীরা মনোবল হারাবেন। স্বচ্ছ ভাবমূর্তির কোনও নেতাকে ভাঙড়ের দায়িত্ব দেওয়া হোক, যিনি সকলকে সঙ্গে নিয়ে চলতে পারবেন।”
এ বিষয়ে জেলা তৃণমূলের ভাইস চেয়ারম্যান শক্তি মণ্ডলের মত, “ভাঙড়ে সকলকে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করতে হবে। দল বিষয়টির উপরে নজর রেখেছে। আশা করছি দ্রুত সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে।”