আশায় দিন গুণছেন আরও অনেকে

ক্ষতিগ্রস্ত কিছু মৎস্যজীবী পরিবারের পাশে পঞ্চায়েত

কাকদ্বীপের ট্রলার দুর্ঘটনায় মৃত ও নিখোঁজ ৮ মৎস্যজীবীর পরিবারকে সাহায্যের ব্যবস্থা করল স্থানীয় পঞ্চায়েত।শুক্রবার প্রতাপাদিত্যনগর পঞ্চায়েত এলাকার ওই আটটি পরিবারের সদস্যদের হাতে এককালীন ১০ হাজার টাকা, ৫০ কেজি চাল, ৫ কেজি করে ডাল ও আলু এবং শাড়ি তুলে দেন সুন্দরবন উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী মন্টুরাম পাখিরা।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৭ অগস্ট ২০১৬ ০১:০০
Share:

সাহায্য পেয়েও কান্নায় ভেঙে পড়লেন ইনি। শুক্রবার শান্তশ্রী মজুমদারের তোলা ছবি

কাকদ্বীপের ট্রলার দুর্ঘটনায় মৃত ও নিখোঁজ ৮ মৎস্যজীবীর পরিবারকে সাহায্যের ব্যবস্থা করল স্থানীয় পঞ্চায়েত।

Advertisement

শুক্রবার প্রতাপাদিত্যনগর পঞ্চায়েত এলাকার ওই আটটি পরিবারের সদস্যদের হাতে এককালীন ১০ হাজার টাকা, ৫০ কেজি চাল, ৫ কেজি করে ডাল ও আলু এবং শাড়ি তুলে দেন সুন্দরবন উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী মন্টুরাম পাখিরা। পরিবারগুলিকে পঞ্চায়েতের তরফ থেকে মাসে মাসে ৭৫০ করে টাকা ভাতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে।

প্রতাপাদিত্যনগর এ হেন উদ্যোগ করলেও রামকৃষ্ণ, বিবেকানন্দ এবং মধূসূদনপুর পঞ্চায়েত এলাকা থেকে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া আরও ১২টি মৎস্যজীবী পরিবার অবশ্য এখনও সাহায্যের আশায় বসে। মন্ত্রী জানান, বাকি পঞ্চায়েতগুলির মাধ্যমে সকলকে সাহায্য করার চেষ্টা হবে।

Advertisement

বৃহস্পতিবার ‘এফবি মা মহাগৌরী’ ট্রলারের মৃত মৎস্যজীবী দীপঙ্কর দাস, তাপস দাস এবং ওই ট্রলারের নিখোঁজ মৎস্যজীবী কানু দাস, লিটন দাসের পরিবার এবং ‘এফবি প্রসেনজিৎ-১’ ট্রলারের তিন নিখোঁজ মৎস্যজীবী ইন্দ্রজিৎ দাস, রামধন দাস এবং অভিরাম দাসের পরিবারকে সাহায্য করেছে প্রতাপাদিত্যনগর পঞ্চায়েত।

উপপ্রধান দেবব্রত মাইতি বলেন, ‘‘আমরা ওঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট করে দিয়েছি। তাতেই মাসে মাসে টাকা ঢুকে যাবে। এ সময় সামান্য টাকাও নিয়মিত ভাবে প্রয়োজন ওঁদের।’’ ২০১৪ সাল থেকে নিজেদের তহবিল গড়ে ৫০টি পরিবারকে এ রকম সাহায্য দিয়ে আসছে এই পঞ্চায়েত। তাতে আরও ৮টি পরিবার যুক্ত হল।

কিছু দিন আগে রাস্তায় অবহেলায় পড়ে থাকা বৃদ্ধা মহিলা বীণাপানি রথকে তুলে চিকিৎসা করিয়ে তাঁর ছেলে উত্তমের আশ্রয়ে ফিরিয়ে দিয়েছে পুলিশ এবং পঞ্চায়েত। ওই বৃদ্ধাকেও ৭৫০ টাকা করে মাসে সাহায্য দেওয়া হবে বলে পঞ্চায়েচ সূত্রের খবর।

কাকদ্বীপে গত কয়েক বছরের মধ্যে এ বছরই সবচেয়ে বড় ট্রলার দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে ২০টি মৎস্যজীবী পরিবার। দুঃস্থ অবস্থা বেশিরভাগেরই। রামকৃষ্ণ পঞ্চায়েতের ‘পল্লবী’ ট্রলারের মাঝি হরিপদ দাসের মৃত্যু হয়েছে সামুদ্রিক ঝড়-ঝঞ্ঝায়। তাঁর স্ত্রী সুজনা বললেন, ‘‘ওরা টাকা পেয়েছে, সাহায্য পেয়েছে। আমরা তো সে সব জানিই না। দু’টি বাচ্চাকে নিয়ে খুব কষ্টে রয়েছি হাত খালি। ভাড়াবাড়ি ছেড়ে পাশেই আমার বাপের বাড়িতে রয়েছি। একটু সাহায্যের ভীষণ প্রয়োজন।’’ একই অবস্থার মধ্যে রয়েছেন ওই পঞ্চায়েতেরই প্রসেনজিৎ-১ ট্রলারের মৎস্যজীবী রতন দাসের স্ত্রী শিপ্রা দাস। দুধের শিশুকে নিয়ে কোনও রকমে দিন গুজরান করছেন। কোনও সাহায্য মেলেনি এখনও। বিবেকানন্দ পঞ্চায়েতের নিখোঁজ মৎস্যজীবী মণীন্দ্র দাসও ছিলেন ‘মহাগৌরী’ ট্রলারে। তাঁর স্ত্রী মঞ্জু দু’টি সন্তানকে নিয়ে অক্ষয়নগরের ভাঙাচোরা বাড়িতে থাকেন। পঞ্চায়েত থেকে কোনও সাহায্যই পাননি বলে জানালেন।

কাকদ্বীপের মৎস্যজীবী সংগঠনের নেতা বিজন মাইতি, সতীনাথ পাত্ররা বলেন, ‘‘একটি পঞ্চায়েত সাহায্য করছে খুবই ভাল কথা। কিন্তু একই রকমের সাহায্য অন্যান্য পরিবারগুলিকেও করা হোক। তা না হলে তো সংগঠন হিসেবে আমাদের অনেক জবাব দিতে হবে। আমরা মন্ত্রীর কাছে আবেদন জানাব।’’

দেহ উদ্ধারের দিনই মন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছিলেন, যত দিন না সরকারি সাহায্যের টাকা পাওয়া যাচ্ছে, তত দিন সাহায্যের সাময়িক কিছু ব্যবস্থা অন্তত করা হবে। মন্টুরামবাবু বলেন, ‘‘সবগুলি পঞ্চায়েতকেই বলব, এ রকম সাহায্য করতে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement