—প্রতীকী চিত্র।
আর দিন কয়েক পরেই বারাসতে জনসভা করবেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। তার আগে পানিহাটিতে শাসকদলের চরম গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব মেটাতে দু’পক্ষকে নিয়ে বৈঠকে বসেছিলেন জেলা নেতৃত্ব। কিন্তু সেখানেও প্রকট হয়েছিল দ্বন্দ্ব। তাই, জনসভার প্রস্তুতি বৈঠকে শনিবার কী হয়, তা নিয়ে ছিল উত্তেজনা। যদিও বৈঠক ভাল ভাবেই মিটেছে বলে খবর।
আপাতদৃষ্টিতে ঐক্যের ছবি মনে হলেও, পানিহাটিতে শাসকদলের জমি কতটা চোর-কাঁটা মুক্ত হয়েছে, তা নিয়ে সংশয়ে খোদ পানিহাটির দলীয় কর্মীরাই। ঘনিষ্ঠ মহলে তাঁরা বলছেন, আদৌ কি সব মিটমাট হয়েছে, না কি ছাই চাপা আগুনের মতো বড় ছক কষছে ক্ষমতাশীল গোষ্ঠী?
দীর্ঘ দিন ধরেই পানিহাটির তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষের বিরুদ্ধে পরিবারতন্ত্র ও একনায়কতন্ত্রের অভিযোগ রয়েছে তাঁর দলের অন্য নেতা-কর্মীদের। তাতে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়েছে। বিভিন্ন সভা থেকে সম্প্রতি বিধায়কের নেতৃত্বে হওয়া পানিহাটি উৎসবেও অনুপস্থিত থেকেছেন অপর পক্ষ।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসভায় যাতে কোনও ভাবেই পানিহাটির গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের প্রভাব না পড়ে, তার জন্য শুক্রবার বৈঠক ডেকেছিলেন জেলা নেতৃত্ব। দীর্ঘ দিন ধরে নির্মল ও তাঁর পুত্র তথা পুরসভার চেয়ারম্যান পারিষদ সদস্য তীর্থঙ্কর ঘোষের গোষ্ঠী বনাম পুরপ্রধান সোমনাথ দে, পুরপ্রতিনিধি ও পূর্ব পানিহাটি শহর তৃণমূলের সভাপতি তথা তৃণমূল মুখপাত্র সম্রাট চক্রবর্তীর গোষ্ঠীর বিবাদে সরগরম পানিহাটি।
বাস্তব পরিস্থিতি বলছে, প্রাচীন জনপদ পানিহাটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে, সম্রাট ও সোমনাথকে একাধিক বার প্রাণনাশের হুমকিও পেতে হয়েছে। কিন্তু কারা হুমকি দিল, তা আজও স্পষ্ট হয়নি। বিরোধীদের কটাক্ষ, ‘‘তৃণমূলের অনুপম দত্তকে খুনের নেপথ্যে কারা, সেই সত্য সামনে এলেই এই হুমকিগুলিও স্পষ্ট হবে।’’
শুক্রবার টিটাগড়ে ব্যারাকপুর-দমদম সাংগঠনিক জেলার কার্যালয়ে দুই পক্ষকে নিয়ে বৈঠকে বসেছিলেন জেলা সভাপতি, সাংসদ পার্থ ভৌমিক। ছিলেন আইপ্যাকের প্রতিনিধিরাও। ছিলেন নির্মল, তীর্থঙ্কর এবং সোমনাথ, সম্রাট ও চেয়ারম্যান পারিষদ সদস্য তাপস দে-রা। সূত্রের খবর, নির্মল সেখানে বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন। পাল্টা দীর্ঘ দিন ধরে দলীয় ক্ষেত্রে ও পুরসভা থেকে শুরু করে সমস্ত ওয়ার্ডে কী ভাবে বিধায়ক গোষ্ঠী পরিবারতন্ত্র কায়েমের চেষ্টা করছেন, তা নিয়ে সরব হন সোমনাথ, সম্রাট, তাপসেরা।
উভয় পক্ষের বাদানুবাদে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পার্থ এবং আইপ্যাকের প্রতিনিধিরা দু’পক্ষকেই শান্ত করে একজোট হয়ে চলার বার্তা দেন। এ দিনের বৈঠক আপাতত দ্বন্দ্বহীন বলে জানাচ্ছেন কর্মীরা। পার্থ বলেন, ‘‘কোনও দ্বন্দ্ব নেই। দলের অভ্যন্তরীণ বিষয় তো বাইরে বলার নয়।’’ তবে জেলা নেতৃত্বের দেওয়া মলম পানিহাটির ক্ষতে কতটা প্রলেপ দিল, প্রশ্ন থাকল দলের অন্দরেই।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে