বনগাঁয় দাবি বাড়ছে কোভিড হাসপাতালের 

স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের খবর, ওই দু’জনের চিকিৎসার ব্যবস্থা হবে। তাঁদের সংস্পর্শে যাঁরা এসেছেন, তাঁদেরও পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৯ জুলাই ২০২০ ০৫:৩৮
Share:

প্রতীকী ছবি।

বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি থাকা এক শিশু এবং এক বৃদ্ধ করোনায় আক্রান্ত হলেন। বনগাঁ মহকুমা হাসপাতাল সুপার শঙ্করপ্রসাদ মাহাতো বলেন, ‘‘দু’জনের রিপোর্ট এসেছে। করোনা পজ়িটিভ এসেছে। শিশুটি চাইল্ড ওয়ার্ডে এবং ওই বৃদ্ধ পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ডে অন্য রোগ নিয়ে দিন কয়েক আগে ভর্তি ছিলেন। শুক্রবার তাঁদের হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়া হয়। তাঁদের করোনার কোনও উপসর্গ ছিল না। রুটিনমাফিক লালারস সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল।’’ শঙ্কর জানান, শনিবার সেই রিপোর্ট এলে দেখা যায়, দু’জনই পজ়িটিভ।

Advertisement

স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের খবর, ওই দু’জনের চিকিৎসার ব্যবস্থা হবে। তাঁদের সংস্পর্শে যাঁরা এসেছেন, তাঁদেরও পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই দু’টি ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা রোগীদের আপাতত আইসোলেশন ওয়ার্ডে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। ওয়ার্ড দু’টি জীবাণুমুক্ত করা হবে।

Advertisement

বনগাঁয় দিনের পর দিন বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। কিন্তু এলাকায় কোভিড হাসপাতাল নেই। বনগাঁর মানুষ এ বার কোভিড হাসপাতালের দাবি তুললেন।

পরিযায়ী শ্রমিকদের এলাকায় ফেরা কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তারপরেও রোজই বনগাঁ মহকুমায় লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। সম্প্রতি করোনায় আক্রান্তদের মধ্যে রয়েছেন পঞ্চায়েত এবং পঞ্চায়েত সমিতির জনপ্রতিনিধি, পুলিশকর্মী, অফিসার, দমকলের অফিসার। মহকুমা জুড়ে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় উদ্বিগ্ন এলাকার মানুষ।

মহকুমায় একটি কোভিড হাসপাতাল তৈরির দাবি তুলেছেন তাঁরা। সোশ্যাল মিডিয়াতেও এ নিয়ে সরব হয়েছেন। বনগাঁর প্রাক্তন বিধায়ক সিপিএমের পঙ্কজ ঘোষ বলেন, ‘‘বনগাঁয় একটি কোভিড হাসপাতাল তৈরির দাবি প্রশাসনের কাছে জানানো হয়েছে। আমরা প্রস্তাব দিয়েছি, বনগাঁ স্টেডিয়ামকে কোভিড হাসপাতাল হিসাবে তৈরি করা হোক।’’

স্বাস্থ্য দফতর ও প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার মহকুমায় আরও এক মহিলা-সহ তিনজন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁদের বাড়ি গোপালনগর ও বাগদা থানা এলাকায়। বনগাঁর বিএমওএইচ মৃগাঙ্ক সাহা রায় বলেন, ‘‘শনিবার পোলতা এলাকার এক শিশু-সহ দু’জন করোনা পজ়িটিভ হয়েছেন।’’ বাগদার বিএমওএইচ প্রণব মল্লিক বলেন, ‘‘আক্রান্ত এক মহিলার বাড়ি বাগদা পঞ্চায়েত এলাকায়। তাঁর ছেলে আগেই করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। অন্য আক্রান্ত যুবকের বাড়ি হেলেঞ্চা পঞ্চায়েত এলাকায়।’’

স্বাস্থ্য দফতর ও প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার পর্যন্ত বনগাঁ মহকুমা করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ১৩০ জন। সব থেকে বেশি আক্রান্ত হয়েছেন গাইঘাটা ব্লকে। সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ৫০। এরপরেই আছে বনগাঁ ব্লক। সেখানে আক্রান্ত ৪৫ জন। বাগদা ব্লকে আক্রান্তের সংখ্যা ২৩ জন।

আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও মহকুমায় কোনও কোভিড হাসপাতাল নেই। মহকুমায় কোনও মানুষ করোনায় আক্রান্ত হলে তাঁকে বাড়িতে রেখে বা বারাসত ও নিউটাউনে কোভিড হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা করা হচ্ছে। অনেকে বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। বাসিন্দারা জানিয়েছেন, খাতায়-কলমে বনগাঁ শহরের একটি নার্সিংহোমকে ‘কোভিড হাসপাতাল’ হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছিল। সেখানে অবশ্য কোনও রোগী শনিবার পর্যন্ত ভর্তি করা হয়নি।

শহরের বাসিন্দা, মানবাধিকার কর্মী দেবাশিস রায়চৌধুরী, শিক্ষক তন্ময় দে বলেন, ‘‘আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। আমরা চাই বনগাঁয় একটি কোভিড হাসপাতাল তৈরি করা হোক। কারণ, বারাসত বা নিউটাউনে রোগী নিয়ে যেতে অনেক সময় লেগে যায়। অনেকে দূরে যেতে চান না।’’ ভ্রাম্যমান লালারস সংগ্রহ কেন্দ্রেরও দাবি আছে স্থানীয় মানুষের।

জেলা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে, বারাসতে ইতিমধ্যেই কোভিড হাসপাতাল রয়েছে। সেখানে যথেষ্ট শয্যা আছে। সোমবার বারসতে আরও একটি কোভিড হাসপাতাল চালু হওয়ার কথা। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক তাপস রায় বলেন, ‘‘বনগাঁয় একাধিক সেফ হাউজ রয়েছে। ওখানে এখনই কোভিড হাসপাতাল তৈরির সরকারি কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement