Bapi Halder's Office

তৃণমূল সাংসদ বাপির অফিসে ভাঙচুর চালিয়ে স্লোগান! শাটার ভেঙে ত্রাণসামগ্রী নিয়ে গেলেন রায়দিঘির বাসিন্দারা, উত্তেজনা

দক্ষিণ ২৪ পরগনার মথুরাপুর লোকসভার তৃণমূল সাংসদ বাপি হালদারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর করলেন স্থানীয়েরা। ত্রাণসামগ্রী নিয়ে চলে গেলেন মহিলা থেকে পুরুষ।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ৩১ মে ২০২৬ ২০:৪৬
Share:

বাপি হালদারের কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন মহিলা-পুরুষ। —নিজস্ব চিত্র।

তৃণমূলের আরও এক সাংসদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ক্ষোভ ব্যক্ত করলেন এলাকাবাসী। শুধু তা-ই নয়, ভাঙচুর চালানো হল সাংসদের কার্যালয়ে। ত্রাণসামগ্রী থেকে নানা জিনিস টেনে নিয়ে গেলেন স্থানীয়েরা। অভিযোগ, সরকারি ত্রাণসামগ্রী নিজের কাছে রেখে দিয়েছিলেন ওই সাংসদ। ঘটনাস্থল সেই দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা। এ বার মথুরাপুর লোকসভা।

Advertisement

রবিবার সন্ধ্যায় মথুরাপুর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ বাপি হালদারের অফিস তথা তৃণমূল কার্যালয়ে ভাঙচুর চালান মহিলা থেকে পুরুষেরা। বাপির বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে দিতে শাটার ভাঙা হয় তাঁর অফিসের। ভাঙা হয় সামনের সাইনবোর্ড। কয়েক জন ঢুকে পড়েন ভিতরে। তার পর নানা জিনিসপত্র নিয়ে বেরিয়ে যান তাঁরা। বিক্ষোভকারীদের দাবি, সরকারি ত্রাণের জিনিস এলাকাবাসীদের না দিয়ে নিজের অফিসে ‘লুকিয়ে রেখেছিলেন’ সাংসদ। এগুলো জনগণের জিনিস। জনগণ-ই নিয়ে যাচ্ছেন।

মথুরাপুরের যে জায়গায় ওই বিক্ষোভ এবং ভাঙচুর চলেছে, সেটি রায়দিঘি বিধানসভার মথুরাপুর থানার কৃষ্ণচন্দ্রপুর এলাকায়। ভাঙচুর এবং লুটপাটের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় পুলিশ। কিন্তু তাদের সামনেই ভাঙচুর চলে। জিনিসপত্র নিয়ে বেরিয়ে যান কেউ কেউ। বাকিরা ভাঙা কার্যালয়ের সামনে বসে বাপির বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন। এমতাবস্থায় তৃণমূলের কাউকে দেখা যায়নি ঘটনাস্থলে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ এবং কার্যালয়-অফিস ভাঙচুর নিয়ে এখনও বাপির প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

Advertisement

শনিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলারই আর এক সাংসদ তথা তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সোনারপুর এলাকায় ক্ষোভের মুখে পড়েন। ইট-পাটকেল, ডিম-জুতো ছোড়া হয় তাঁর দিকে। চড়-থাপ্পড়-ঘুষিও মারা হয়েছে। ওই ঘটনা রাজ্য রাজনীতির আঙিনা ছাড়িয়ে দেশের রাজনৈতিক মহলে আলোচনায় উঠে এসেছে। ওই ঘটনার প্রতিবাদে নেমে হুগলিতে জখম হয়েছেন শ্রীরামপুরের প্রবীণ সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। দিন কয়েক আগে দমদমের সাংসদ সৌগত রায়ও বিক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন। ‘চোর-চোর’ স্লোগান দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রবীণ সাংসদের দিকে ডিম ছোড়া হয়।

একই সঙ্গে নানা অভিযোগে জেলায় জেলায় তৃণমূল নেতাদের ধরপাকড় চলছে। কেউ গ্রেফতার হয়েছেন দুর্নীতির অভিযোগে, কেউ ভোট-পরবর্তী হিংসায় তো কেউ অস্ত্র আইনে অভিযুক্ত হয়ে। বাপির বিরুদ্ধে এ ভাবে জনরোষ দেখা যায়নি আগে। ত্রাণ লুকিয়ে রাখার অভিযোগ নিয়ে তিনি বা তাঁর দলের কেউ এখনও প্রতিক্রিয়া দেননি।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement