প্রতীকী ছবি।
পোলেরহাট ২ পঞ্চায়েত দফতরে হামলার জেরে বুধবার থেকে কাজ বন্ধ করে দিলেন সরকারি কর্মচারীরা। নিরাপত্তার ব্যবস্থা না করা হলে তাঁরা কাজে যোগ দেবেন না বলে জানিয়েছেন।
নিরাপত্তা চেয়ে ভাঙড় ২-এর বিডিওকে চিঠিও দিয়েছেন তাঁরা। কর্মীরা কাজে না এলে বিভিন্ন প্রকল্প-সহ নানা উন্নয়নমূলক কাজে অচলাবস্থা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।
গত সোমবার ভাঙড় ২ ব্লকের পোলেরহাট ২ পঞ্চায়েতে হামলা চলে। অভিযোগ, মুখে গামছা বেঁধে জমি কমিটির সমর্থকরা পঞ্চায়েত দফতরে হামলা চালায়। ভাঙচুর করা হয় সরকারি সম্পত্তি। ভেঙে ফেলা হয় সিসি ক্যামেরা।
পঞ্চায়েত সচিব সুশান্ত দে সরকার, উপপ্রধান হাকিমুল ইসলাম-সহ পঞ্চায়েতের সরকারি কর্মীদের মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ। ভাঙচুর করা হয় উপ-প্রধানের গাড়ি। ওই ঘটনায় সুশান্ত-বাবু সহ কয়েকজন সরকারি কর্মচারী জখম হন।
গত বছরও ওই পঞ্চায়েতের সরকারি কর্মীদের উপর হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছিল জমি কমিটির বিরুদ্ধে।
অতীতে ভাঙড় ২ ব্লকের ভগবানপুর পঞ্চায়েতে রেশন কার্ড সংক্রান্ত বিষয়ে শাসক দলের দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষেও পঞ্চায়েত দফতরে ভাঙচুর চলে।
পঞ্চায়েত কর্মীদের দাবি, বিভিন্ন সময় এরকম নানা ঘটনার সম্মুখীন হতে হচ্ছে তাঁদের। সরকারি কর্মীদের মারধর, তাঁদের উপর আক্রমণ এখন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মানুষের পরিষেবা দিতে গিয়েই আক্রান্ত হচ্ছেন সরকারি কর্মীরা। অথচ তাদের নিরাপত্তার কোনও ব্যবস্থা নেই। এই পরিস্থিতিতে কাজের জায়গায় নিরাপত্তার দাবিতে সরব হয়েছেন পঞ্চায়েতের সরকারি কর্মচারীরা।
পোলেরহাট ২ পঞ্চায়েতের সচিব সুশান্ত দে সরকার বলেন, “এর আগেও আমাদের সঙ্গে এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। আমরা প্রশাসনের সর্বস্তরে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছিলাম। অথচ কোনও সুরাহা পাইনি। আমাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়নি। এবারও পরিকল্পিতভাবে আমাদের উপর হামলা চালানো হয়েছে। আমরা উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েছি। আমরা আতঙ্কে ভুগছি। আমাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা না হলে কাজে যাওয়া সম্ভব নয়।”
ভোগালি ১ পঞ্চায়েতের সচিব জুলমাত মোল্লা বলেন, “সরকারি কর্মীদের উপর আক্রমণ কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এই ঘটনার প্রতিবাদে আমরা সমস্ত পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে ব্লক প্রশাসনের দফতরে স্মারকলিপি দেব।”
পোলেরহাট ২ পঞ্চায়েতের উপপ্রধান হাকিমুল ইসলাম বলেন, “সরকারি কর্মীদের উপর আক্রমণ নিন্দনীয়। কর্মচারীরা যদি দফতরে না আসেন তাহলে এলাকার উন্নয়নমূলক কাজ থমকে যাবে। বিষয়টি নিয়ে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলব।”
জমি কমিটির যুগ্ম সম্পাদক মির্জা হাসান বলেন, “সরকারি কর্মীদের উপর আক্রমণ আমরা কোনওভাবেই সমর্থন করি না। আমরা এর নিন্দা করছি। তবে পঞ্চায়েত অফিসগুলিকে দলীয় কার্যালয়ে পরিণত করা যাবে না। সরকারি কর্মীদের নিরপেক্ষভাবে মানুষের পরিষেবা দিতে হবে। সেক্ষেত্রে আমরা সরকারি কর্মীদের পাশে থেকে তাদের সবরকম সহযোগিতা করব।”
ভাঙড় ২ ব্লকের বিডিও কার্তিক চন্দ্র রায় বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।”