কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। —ফাইল চিত্র।
মহারাষ্ট্র বিধানসভার স্পিকার রাহুল নার্বেকর শিবসেনা ভেঙে বেরিয়ে যাওয়া একনাথ শিন্দের গোষ্ঠীকেই ‘আসল শিবসেনা’ বলে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। এনসিপি ভেঙে বেরিয়ে যাওয়া অজিত পওয়ারের গোষ্ঠীকেও ‘আসল এনসিপি’ বলে তকমা দিয়েছিলেন। এ বার পশ্চিমবঙ্গেও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেসের ‘বিদ্রোহী বিধায়ক’-দের গোষ্ঠীকেই রাজ্য বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু ‘আসল তৃণমূল’-এর তকমা দিয়েছেন।
এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আগামী সপ্তাহেই তৃণমূল কংগ্রেস কলকাতা হাই কোর্টে মামলা দায়ের করবে বলে জানিয়েছে। তৃণমূলের লোকসভার সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, ‘‘এই বিরোধী দল অবৈধ। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে দল বহিষ্কার করেছে। যিনি দলে নেই, তিনি কী ভাবে তৃণমূলের বিরোধী দলনেতা হতে পারেন? তিনি তো তৃণমূলের কেউ নন।’’ প্রসঙ্গত, মহারাষ্ট্রের স্পিকারের বিরুদ্ধে শরদ পওয়ার, উদ্ধব ঠাকরেরা সুপ্রিম কোর্টে গেলেও এখনও তার ফয়সালা হয়নি।
বিজেপি শিবিরের অবশ্য যুক্তি, বিধানসভায় শাসক শিবির বাদে অন্য দলগুলির মধ্যে যাদের সংখ্যা বেশি, তাদেরই বিরোধী দলের স্বীকৃতি দিতে পারেন স্পিকার। মহারাষ্ট্রের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্ট এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার এক্তিয়ার স্পিকারের উপরে ছেড়ে দিয়েছিল। স্পিকার একনাথ শিন্দে বা অজিত পওয়ারের পরিষদীয় দলকেই আসল শিবসেনা, আসল এনসিপি বলে তকমা দিয়েছিলেন। তার পরে নির্বাচন কমিশনও ওই দুই গোষ্ঠীর হাতেই শিবসেনা, এনসিপি-র নির্বাচনী প্রতীক তুলে দিয়েছিল। সেই কারণে উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা, শরদ পওয়ারের এনসিপি-কে পরবর্তী কালে অন্য প্রতীক নিয়ে লড়তে হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে বিদ্রোহী বিধায়কেরা এখনই আলাদা করে তৃণমূলের প্রতীক দাবি করছেন না। তবে অদূর ভবিষ্যতে পুর নির্বাচনের সময়ে কী পরিস্থিতি তৈরি হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছে।
মহারাষ্ট্রে বিজেপি প্রথমে শিবসেনাতে ভাঙন ধরিয়েছিল। উদ্ধব ঠাকরে চিরাচরিত শত্রু কংগ্রেস, এনসিপি-র সঙ্গে হাত মিলিয়ে সরকার তৈরির পরে শিবসেনার মধ্যে ক্ষোভ ছিলই। একনাথ শিন্দে ও তাঁর নেতৃত্বে ৩৪ জন বিধায়ক বিদ্রোহ করেন। শিন্দের অনুগামীরা তাঁকেই পরিষদীয় দলনেতা করে প্রস্তাব পাশ করেন। উদ্ধবকে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিতে হয়। শিন্দে বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন। শিবসেনার দুই গোষ্ঠীই বিপক্ষ গোষ্ঠীর বিধায়কদের পদ খারিজের আর্জি জানিয়েছিল। কিন্তু স্পিকার কোনও আর্জিই গ্রহণ করেননি।
পরবর্তী কালে শরদ পওয়ারের এনসিপি-তে ভাঙন ধরে। সে ক্ষেত্রেও মহারাষ্ট্র বিধানসভার স্পিকার অজিতের এনসিপি-কেই আসল এনসিপি বলে স্বীকৃতি দেন। কারণ, অজিতের সঙ্গে ৪১ জন বিধায়ক ছিলেন। শরদ পওয়ারের সঙ্গে ছিলেন মাত্র ১২ জন। সে ক্ষেত্রেও দুই গোষ্ঠী পরস্পরের বিধায়কদের সদস্যপদ খারিজের আবেদন করেছিল। স্পিকার যাবতীয় আবেদনই খারিজ করেন।
মহারাষ্ট্রের দৃষ্টান্ত তুলে ধরে বিজেপি শিবিরের বক্তব্য, ঋতব্রতর নেতৃত্বে বিধায়কেরা দলত্যাগ করেননি। তাঁরা অন্য দলে যোগ দেননি। তৃণমূলের পরিষদীয় দলকে অন্য দলের সঙ্গে মিশিয়ে দেননি। ফলে এ ক্ষেত্রে দলত্যাগ বিরোধী আইন খাটছে না। তাঁদের সঙ্গে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি বিধায়ক রয়েছেন। তাই তাঁদেরই আসল তৃণমূল বলে স্পিকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুযায়ী, স্পিকার এ ক্ষেত্রে ট্রাইবুনালের কাজ করেন। তাঁর সিদ্ধান্ত আদালত পর্যালোচনা করতেই পারে। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবশ্য যুক্তি, ‘‘পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভার স্পিকার যা করেছেন, গোটা ভারতে তার নজির নেই। যিনি দলেই নেই, তাঁকে বিরোধী দলনেতা করে দিয়েছেন। তাই হাই কোর্টে মামলা দায়ের করা হবে।’’
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে