—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।
প্রবল ঠান্ডায় কাঁপছে গোটা রাজ্য। এই পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী প্রাথমিক স্কুল পড়ুয়ারাও। কারণ, তাদের সকালে স্কুলে যেতে হয়। তার জন্য বাড়ি থেকে ভোরবেলা বেরোতে হয়। এই পরিস্থিতিতে প্রতিকূল আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখে প্রাথমিক স্কুলগুলির সময় এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়ার জন্য প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদকে আবেদন করলেন প্রাথমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের একাংশ। প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের সভাপতি গৌতম পাল অবশ্য বলেছেন, "এই পরিস্থিতিতে সময় এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়া হবে কি না, সেই ব্যাপারে স্কুলগুলিকে স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। আলিপুরদুয়ারের শীত, পুরুলিয়ার শীত এবং কলকাতার শীত তো এক নয়। স্কুলগুলি তাদের এলাকার ঠান্ডা বুঝে স্কুল শুরুর সময় বদলাতে পারে।"
প্রসঙ্গত, রাজ্যে বেশির ভাগ প্রাথমিক স্কুল শুরু হয় সকাল সাড়ে ৬টায়। কিছু কিছু স্কুল পৌনে ৭টায় শুরু হয়। জেলার প্রত্যন্ত এলাকার স্কুলগুলিতে প্রবল ঠান্ডায় সকাল সাড়ে ৬টায় বেশির ভাগ পড়ুয়া আসতে পারছে না বলে খবর। কুয়াশাতেও সমস্যা হচ্ছে। দৃশ্যমানতা কম থাকলে পথেঘাটে বিপদের আশঙ্কাও থাকছে। বঙ্গীয় প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনন্দ হান্ডা বলেন, ‘‘আমাদের স্কুলে পড়ুয়াদের উপস্থিতির হার এই ঠান্ডায় কমে গিয়েছে। প্রবল ঠান্ডা তো আছে। তার উপরে সকালে এত কুয়াশা যে অভিভাবকরা দুর্ঘটনার আশঙ্কায় ছেলে-মেয়েদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন। এক ঘণ্টা দেরিতে স্কুল শুরু হলে ছুটিও সাধারণ সময়ের এক ঘণ্টা পরে হবে। আমরা প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদকে চিঠি লিখে এই ব্যাপারে অনুমতি চেয়েছি।”
তবে যে সব প্রাথমিক স্কুলের বাড়িতেই মাধ্যমিক স্কুল চলে সেখানে প্রাথমিক স্কুলের সময় পিছিয়ে দিলে সমস্যা হতে পারে। কারণ, প্রাথমিক স্কুল শেষ হলেই সেখানে মাধ্যমিক স্কুল শুরু হয়। যদিও শিক্ষকদের অনেকে বলছেন, প্রাথমিকে ক্লাসের সময় ১০ মিনিট করে কমিয়ে দিলেই কিন্তু সব ক্লাস হওয়া সম্ভব। অথবা একটা পিরিয়ড কম করা যেতে পারে। যত দিন প্রবল ঠান্ডা থাকবে তত দিন এই ব্যবস্থা চললে পড়াশোনার ক্ষতিহবে না।
উল্লেখ্য, পর্ষদের অনুমতি আসার আগেই কয়েকটি স্কুল সকালে দেরিতে ক্লাস শুরু করেছে। কলকাতার টাকি বয়েজ়ের প্রধান শিক্ষিকা স্বাগতা বসাক বলেন, ‘‘আমাদের স্কুল পৌনে ৭টায় শুরু হওয়ার কথা । সেই জায়গায় সওয়া ৭টায় শুরু করছি। আমাদের স্কুলে অনেকে দূর থেকে আসে। পৌনে ৭টায় শুরু করলে অনেক পড়ুয়াকে ভোর ৬টার সময় বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়তে হয়। তাই সওয়া ৭টায় স্কুল শুরু করছি। আমাদের স্কুলের সঙ্গে মাধ্যমিক স্কুল রয়েছে। প্রাথমিকের ক্লাসের সময় ১০ মিনিট করে কমিয়ে দিয়েছি। এতে কোনও পড়াশোনার ব্যাঘাত ঘটছে না।” তিনি জানান, তাঁদের স্কুলের অনেক পড়ুয়া অর্থনৈতিক ভাবে দুর্বল। তাদের স্কুলের পোশাকের সঙ্গে নির্দিষ্ট সবুজ রঙের সোয়েটার পরে আসার কথা। কিন্তু বলা হয়েছে যে ওই সোয়েটার ছিঁড়ে গেলে অন্য যে কোনও সোয়েটার পরে আসা যাবে।
বাঙুরের নারায়ণদাস মাল্টিপারপাস স্কুলের প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় বড়ুয়া জানান, তাঁদের স্কুলও সাড়ে ৭টায় শুরু হচ্ছে।কলকাতা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের চেয়ারম্যান কার্তিক মান্না বলেন, ‘‘প্রাথমিক স্কুলগুলিকে এক ঘন্টা দেরিতে ক্লাস শুরুর সামগ্রিক নির্দেশের ব্যাপারে শিক্ষা দফতরের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।”
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে