SIR in West Bengal

প্রতিপক্ষ শুধু বিজেপি নয় আর, ‘ত্রয়ী’র বিরুদ্ধে বাঙালির লড়াই বিধানসভা নির্বাচনে, জানিয়ে দিল তৃণমূলপন্থী বিদ্বজ্জন-মঞ্চ

এসআইআরের কারণে ‘হেনস্থার শিকার’ বিভিন্ন অংশের মানুষকে সামনে এনে কমিশন এবং বিজেপির বিরুদ্ধে আক্রমণ শানাল ‘দেশ বাঁচাও গণমঞ্চ’। হাজির ছিলেন রাজ্যসভার তৃণমূল সাংসদ দোলা সেন, রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী পূর্ণেন্দু বসু, সঙ্গীত শিল্পী সৈকত মিত্র-সহ আরও অনেকে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২০ জানুয়ারি ২০২৬ ১৮:৩৮
Share:

মঙ্গলবার ‘দেশ বাঁচাও গণমঞ্চ’-এর সাংবাদিক বৈঠকে পূর্ণেন্দু বসু, সৈকত মিত্র-সহ অন্যান্য সদস্যেরা। ছবি: সংগৃহীত।

এসআইআর নিয়ে বিজেপির সঙ্গে নির্বাচন কমিশনকে এক বন্ধনীতে ফেলে আক্রমণ করছে তৃণমূল। আর তৃণমূলপন্থী বিদ্বজ্জনেদের সংগঠন ‘দেশ বাঁচাও গণমঞ্চ’ এ বার সুনির্দিষ্ট করে প্রতিপক্ষ চিহ্নিত করল ‘ত্রয়ী’কে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে সেই তালিকায় রাখা হল দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নাম। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে এই ত্রয়ীর বিরুদ্ধে বাঙালির লড়াই হিসাবে অভিহিত করল তারা।

Advertisement

২০২১ সালের বিধানসভা ভোট থেকেই তৃণমূল বাঙালি গরিমার ভাষ্যকে সামনের সারিতে রাখছে। পাঁচ বছর আগের বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের স্লোগান ছিল ‘বাংলা নিজের মেয়েকে চায়’। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে শাসকদল স্লোগান দিয়েছিল, ‘জনগণের গর্জন, বাংলা বিরোধীদের বিসর্জন’। আর এ বারের স্লোগান, ‘যতই করো হামলা, আবার জিতবে বাংলা’। মঙ্গলবার এক সাংবাদিক বৈঠকে ‘দেশ বাঁচাও গণমঞ্চ’ দলীয় কোনও স্লোগানের কথা উল্লেখ করেনি। তবে স্পষ্ট করে দিয়েছে, অভিমুখ কী। মোদী, শাহের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে জ্ঞানেশের নাম। আর তাঁদের বিরুদ্ধে লড়াইকে বাঙালির অস্তিত্বের লড়াই হিসাবে তুলে ধরা হয়েছে।

মঞ্চের অন্যতম ‘মুখ’ রন্তিদেব সেনগুপ্ত বলেন, ‘‘বাঙালির লাশের উপর দিয়ে বিজেপি বাংলা দখল করতে চাইছে। প্রতিরোধ গড়তে না-পারলে, বাঙালির অস্তিত্ব বিপন্ন হবে।’’ তিনিই মোদী-শাহের সঙ্গে জ্ঞানেশের নামকে জুড়ে প্রতিপক্ষ চিহ্নিত করতে চেয়েছেন। ঘটনাচক্রে, এই রন্তিদেবই গত বিধানসভা নির্বাচনে দক্ষিণ হাওড়া বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। কিন্তু তৃণমূলের নন্দিতা চৌধুরীর কাছে তাঁকে ৫০ হাজার ভোটে হারতে হয়েছিল।

Advertisement

এসআইআরের কারণে ‘হেনস্থার শিকার’ হওয়া বিভিন্ন অংশের মানুষকে সামনে এনে কমিশন এবং বিজেপির বিরুদ্ধে আক্রমণ শানায় তৃণমূলপন্থী মঞ্চটি। হাজির ছিলেন রাজ্যসভার তৃণমূল সাংসদ দোলা সেন, রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী পূর্ণেন্দু বসু, সঙ্গীতশিল্পী সৈকত মিত্র, অভিনেতা বিবস্বান ঘোষ প্রমুখ। ছিলেন পানিহাটির বাসিন্দা ‘এসআইআর আতঙ্কে’ মৃত প্রদীপ করের ভাগ্নি শিল্পী ওঝা, ‘কাজের চাপে’ মৃত মুকুন্দপুরের বিএলও অশোক দাসের স্ত্রী সুদীপ্তা দাস। ছিলেন মতুয়া মহাসঙ্ঘ ও গোসাঁই পরিষদের প্রতিনিধিরাও। সুদীপ্তা বলেন, ‘‘আমার স্বামী যাদবপুর বিধানসভার ১১০ নম্বর অংশের বিএলও ছিলেন। চাপ নিতে পারছিলেন না। বুথে মাথা ঘুরে পড়ে যাওযার পরে জানানো হয়েছিল। কিন্তু তার পরেও কাজ করে যেতে হয়েছে।’’ তাঁর আর্জি, ‘‘১৩ বছরের পুত্রকে নিয়ে কী ভাবে সংসার সামলাব জানি না। সরকার যদি বাড়ির কাছে একটা কাজের বন্দোবস্ত করে তা হলে খুব ভাল হয়।’’ প্রাক্তন মন্ত্রী পূর্ণেন্দু জানিয়েছেন, এই বিষয়টি তাঁরা সরকারের গোচরে আনবেন।

মতুয়া সমাজের প্রতিনিধিরাও সরব হয়েছেন এসআইআর নিয়ে। তাঁদের অভিযোগ, বিজেপি এবং আরএসএস মিলে প্রান্তিক অংশের মানুষকে রাষ্ট্রহীন করতে চাইছে। এসআইআরের শুনানিতে ডাক পেয়েছিলেন কবি জয় গোস্বামী। তিনিও ভিডিয়ো বার্তায় বর্ণনা করেন, কী ভাবে তাঁকে অসুস্থ অবস্থার মধ্যে ডেকে পাঠানো হয়েছিল। তাঁর কথায়, ‘‘মনে জোর পাই শুধু এইটা ভেবে, মাথার উপর নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আছেন। সঙ্গেই আছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।’’ এসআইআরে নোটিস পাওয়া নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের সচিব গীতিকণ্ঠ মজুমদারও তাঁর অভিজ্ঞতার কথা জানান ভিডিয়ো বার্তার মাধ্যমে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement