— প্রতীকী চিত্র।
বিগত সরকারের আমনে ক্লাব নিয়ে রাজনীতির অভিযোগ উঠেছে বার বারই। বছর বছর সরকারি কোষাগার থেকে দলের নেতা-বিধায়কদের অনুগত নানা ক্লাবকে অনুদান দিয়ে রাজনীতিতে ব্যবহার করছে তৃণমূল, অভিযোগ তুলত বিরোধীরা। সরকারি অর্থের অপব্যবহার থেকে শুরু করে এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার মতো নানা অভিযোগ ছিল বিভিন্ন ক্লাবের বিরুদ্ধে। পালাবদলের পরে বিজেপির একাংশের মধ্যে সেই সব ক্লাব দখলের চেষ্টা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে বিজেপি নেতৃত্বের স্পষ্ট বার্তা, তৃণমূল-ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত কোনও ক্লাবে যেন বিজেপির কেউ পা না দেন।
প্রশাসনের একটি সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালে রাজ্যের নানা প্রান্তে ছড়িয়েছটিয়ে থাকা ক্লাবগুলির জন্য অনুদান চালু করেছিল তৃণমূল সরকার। প্রথম বছর এককালীন দু’লক্ষ এবং পরবর্তী তিন বছর এক লক্ষ টাকা করে অনুদান দেওয়া হত। অভিযোগ ছিল, খেলাধুলো, সংস্কৃতিচর্চার সঙ্গে যুক্ত ক্লাবেদের বাদ দিয়ে, অনুদান পাইয়ে দেওয়া হয় ভুঁইফোড় নানা ক্লাবকে। স্থানীয় তৃণমূল নেতারাই ঠিক করতেন, কোন ক্লাব সে তালিকায় থাকবে। অনুদানের জন্য নতুন ক্লাবের নাম নথিভুক্ত করার দায়িত্ব দেওয়া হয় শাসক দলের বিধায়কদের। তৃণমূলের একটি সূত্রের দাবি, কার্যত প্রচ্ছন্ন বার্তা ছিল, অনুদান পেতে গেলে ভোটে শাসক দলের হয়ে সক্রিয় থাকতে হবে। এই অনুদান দিয়ে আসলে ক্লাবগুলির রাজনীতিকরণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছিলেন তৎকালীন বিরোধী দলনেতা সূর্যকান্ত মিশ্র, আব্দুল মান্নানেরা। তবে বহু ক্লাব খরচের যথাযথ হিসাব না দেওয়ায় এবং সরকারি কোষাগারের চাপ কমাতে শেষ পর্যন্ত তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০২৩ সালে এই প্রকল্প বন্ধ করে দেন।
স্থানীয় নানা সূত্রের দাবি, সরকার বদলের পরে দুর্গাপুরের বিভিন্ন ক্লাবে তৃণমূলের কর্তৃত্ব প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছে। কার্যত ফাঁকা পড়ে থাকছে বহু ক্লাব। এই পরিস্থিতিতে, সেই সব ক্লাবের দিকে নজর পড়েছে বিজেপির যুব কর্মী-সমর্থকদের একাংশের। এ নিয়ে তাঁরা উদ্বিগ্ন বলে দাবি দলের নেতাদের। তাঁদের বক্তব্য, ওই সব ক্লাবে বিজেপির লোকজন গেলে বাসিন্দাদের ধারণা হবে, বিজেপি এসেও পরিস্থিতি বদলায়নি। শুধু তৃণমূলের জায়গায় বিজেপির লোকজন বসছেন ক্লাবে। তাতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হবে। তা হতে দেওয়া যাবে না। তৃণমূলের কার্যালয় দখলের মতো ক্লাব দখলেরও বিরুদ্ধে তাঁরা।
সম্প্রতি দলের কর্মীদের এক সভায় কড়া বার্তা দেন দুর্গাপুর পূর্বের বিজেপি বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়। ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত, দুর্নীতিতে অভিযুক্ত আইএনটিটিইউসি-র প্রাক্তন কোর কমিটির সদস্য, তৃণমূলের যুব নেতাদের নাম উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, বিজেপির লোকজন যদি ওই সব ক্লাবের দিকে নজর দেন, তা হলে তৃণমূলের তাবড় নেতাদের যা অবস্থা হয়েছে, তেমনটা বিজেপির নেতাদেরও হবে। তাঁর কথায়, “যদি চান, পাঁচ বছর পরে আমার দিকে কেউ পচা ডিম না ছুড়ুক, তা হলে আমার কথাশুনবেন। ওই সব ক্লাবে যদি আপনারা যান, তা হলে মানুষ আপনাদেরও তৃণমূলের মতো তোলাবাজ ভাববে। বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে সাধারণ মানুষের ভোটে, ক্লাব নিয়ে রাজনীতি করে নয়।” দুর্গাপুর পশ্চিমের বিধায়ক লক্ষ্মণ ঘোড়ুইয়ের কথায়, “ক্লাব ক্লাবের কাজ করবে। সেটাই চাই। এর সঙ্গে রাজনীতি জুড়ে তৃণমূলের মতো বিষাক্ত পরিবেশ তৈরি করতেদেওয়া হবে না।”
তৃণমূল নেতৃত্বের অবশ্য দাবি, রাজ্য সরকার সেই সময়ে ক্লাবগুলিকে অনুদান দিয়েছিল খেলাধুলো,সংস্কৃতি চর্চার প্রসারের জন্য। দলের নাম করে কেউ বেআইনি কিছু করে থাকলে, তার দায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা সেই প্রতিষ্ঠানের।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে