কাটোয়া থানায় ‘প্রতারিত’ নয়ন ঘোষ। —নিজস্ব চিত্র।
প্রেম-ভালবাসার সম্পর্ক ছিল তাঁদের মধ্যে। সেই সম্পর্ক পরিণয়ে গড়ানো পর্যন্ত সব ঠিকঠাকই ছিল। বিয়ের দিন কোন অজ্ঞাত কারণে সব ভেস্তে গেল, এখনও বুঝে উঠতে পারছেন না নয়ন ঘোষ। এখনও পর্যন্ত সেই তরুণী বা তাঁর পরিবারের কারও সঙ্গেই যোগাযোগ করতে পারেননি তিনি। গোটা ঘটনায় মানসিক ভাবে ভেঙে পড়ে এখন বিচার আশায় নদিয়ার ওই যুবক।
বিয়ের রীতি মেনে সবই করেছিলেন দু’জনে। আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আইবুড়ো ভাত খাওয়া থেকে শুরু করে নান্দীমুখ পর্ব। কিন্তু তাল কেটেছে বিয়ের দিনে। রবিবার রাতে ধুতি-পাঞ্জাবি, টোপর পরে পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ায় বিয়ে করতে গিয়েছিলেন নয়ন। যে তরুণীর সঙ্গে বিয়ে হওয়ার কথা, তিনি নয়নকে জানিয়েছিলেন, কাটোয়ায় এক আত্মীয়বাড়িতে তাঁদের বিয়ে হবে। সেই মতো রবিবার আত্মীয়স্বজন এবং বন্ধুবান্ধব-সহ ১৫ জনকে সঙ্গে নিয়ে কাটোয়ার গোয়ালপাড়া ঘাটে পৌঁছন নয়ন। কনে পক্ষের কথা মেনে তাঁরা পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ায় ভাগীরথীর ফেরিঘাটের কাছে অপেক্ষা করছিলেন। বাইরে হাড়কাঁপানো ঠান্ডা তখন। অভিযোগ, ফেরিঘাটে পৌঁছেই কনের বাড়িতে ফোন করা হয়। তাঁদের বলা হয়, ‘‘লোক যাচ্ছে। নিয়ে আসবে।’’ কিন্তু কেউই আসেনি। যত বারই ফোন করা হয়েছে, তত বার সেই এক কথা! এই ভাবে প্রায় তিন ঘণ্টা কেটে যায়। অধৈর্য হয়ে শেষবার যখন ফোন করা হয় মেয়ের বাড়িতে, তখন দেখা যায়, সকলের ফোন বন্ধ। এর পরেই থানায় যান নয়ন।
নয়ন রাজস্থানের জয়পুরে সোনার গয়না তৈরির কাজ করেন। তিনি জানান, মুর্শিদাবাদের শক্তিপুরের বাসিন্দা সোমনাথ ঘোষ তাঁর সহকর্মী। তাঁর মাধ্যমেই বর্ধমানের দত্তপাড়া এলাকার ওই তরুণীর সঙ্গে পরিচয় হয়। সেখান থেকেই প্রেম। বর্ধমান স্টেশনে মাঝেমধ্যেই দেখা করতেন দু’জনে। নয়নের পরিবারের দাবি, রবিবারের বিয়ের প্রস্তাব তরুণীই দিয়েছিলেন। সেই মতোই বিয়ের দিন ঠিক হয়েছিল। রবিবার তরুণী ও তাঁর পরিবার নিরুদ্দেশ হওয়ার পর নয়নের পরিবারের লোকেরাও খোঁজখবর করা শুরু করেছিলেন। পরিবারের দাবি, তরুণী নয়নকে নিজের ঠিকানা বর্ধমান শহরের দত্তপুকুর বলেছিলেন। খোঁজ নিয়ে দেখা গিয়েছে, শহরে এ রকম কোনও জায়গাই নেই!
পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। কী কারণে তরুণী এই ঘটনা ঘটালেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এর পিছনে অন্য কোনও কারণ ছিল না, দেখা হচ্ছে তা-ও।