জাপানে সায়নী। নিজস্ব চিত্র ।
জাপানের সুগারু চ্যানেল জয়ের লক্ষ্যে শনিবার জলে নামছেন কালনার সাঁতারু সায়নী দাস। লক্ষ্য পূরণ হলে দেশের প্রথম মহিলা সাঁতারু হিসাবে তিনি সপ্তসিন্ধু জয় করবেন। জলে নামার পর থেকে সায়নীর গতিবিধি যাতে সাধারণ মানুষ এবং স্কুল পড়ুয়ারা দেখতে পায়, তার জন্য ব্যবস্থা নিচ্ছে জেলা প্রশাসন। কালনার পুরশ্রী মঞ্চে এবং স্মার্ট ক্লাস থাকা স্কুলে তাঁর সাঁতারের দৃশ্য দেখানো হবে। সায়নীর সাফল্য চেয়ে সমাজ মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বহু মানুষ।
এক সময় কালনার সাতগাছি পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা হলেও পরে কালনা শহরের বারুইপাড়ায় উঠে আসেন সায়নীরা। ছোট থেকেই সাঁতারে ঝোঁক তাঁর। ২০১৭ সালে ইংলিশ চ্যানেল জেতেন। আর থামেননি। একে একে অতিক্রম করেছেন জিব্রাল্টার প্রণালী, নর্থ চ্যানেল, ক্যাটালিনা, মলোকাই, কুকস্টেট প্রণালী। জলে নেমে কখনও ভয়ঙ্কর স্রোত, কখনও কনকনে ঠান্ডা, কখনও ভয়াল সমুদ্রে হাঙর, জেলিফিসের মুখোমুখি হয়েছেন। বাধা কাটিয়ে প্রতিবার সফলও হয়েছেন। এ বার পালা সপ্তসিন্ধুর শেষ সিন্ধু জাপানের সুগারু চ্যানেল জয়ের। কয়েক মাস ধরেই অনুশীলন করছেন তিনি। স্রোতের বিপরীতে সাঁতার কাটার জন্য ওজন বাড়িয়েছেন। পেশি শক্তি বাড়িয়েছেন। সম্প্রতি মা-বাবাকে নিয়ে রওনা দিয়েছেন জাপান। সেখানকার প্রতিকূল আবহাওয়াতেও কিছুদিন অনুশীলন করেছেন। তাঁর পিছনে থাকা নৌকার পাইলট, পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার ভারতীয় সময় রাত ১২টা ৪১ মিনিটে (জাপানের সময় ভোর ৪টে ১১ মিনিটে) জলে নামছেন সায়নী। কোডমারি পোর্ট থেকে শুরু হবে যাত্রা।
শুক্রবার সায়নীর বাবা রাধেশ্যাম দাস জানান, প্রায় ১৪ ঘণ্টার পথ। প্রথম ৬ ঘণ্টা আবহাওয়া ঠিকঠাক থাকলে তেমন অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। পরের ছ’ঘণ্টা কঠিন লড়াই। কারণ তখন স্রোতের বিপরীতে সাঁতার কাটতে হবে। রয়েছে জলজ প্রাণীর উপদ্রবও। তবে মেয়েকে নিয়ে আত্মবিশ্বাস তিনি। তিনি বলেন, ‘‘মেয়ে জাপানে ইতিহাস তৈরি করবে। আমি আর ওর মা সাক্ষী থাকব। দেশের মানুষের প্রার্থনা সঙ্গে রয়েছে।’’ জাপানের কোডমারি পোর্ট থেকে সায়নী একটি আবেগঘন ভিডিয়ো পাঠিয়েছেন। তাঁর দাবি, সুগারু চ্যানেল সপ্তসিন্ধুর শেষ সিন্ধু। এই চ্যানেল জয়ের জন্য দেশের মানুষ যেন তাঁকে আশীর্বাদ করেন।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে