—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
একটি বেসরকারি ইস্পাত কারখানার গেটে বিএমএসের নেতৃত্বে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন শ্রমিক ও এলাকাবাসীর একাংশ। দুর্গাপুরের কোকআভেন থানা এলাকার নমো সগড়ভাঙায় পুলিশ তাঁদের সরাতে গেলে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। পুলিশের বড় বাহিনী তাঁদের জোর করে সরিয়ে গেট খুলে দেয়।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, এলাকাবাসী দূষণের যন্ত্রণা ভোগ করছেন। অথচ, কারখানায় কাজ পাচ্ছেন বহিরাগতেরা। অবিলম্বে স্থানীয় বেকারদের নিয়োগের দাবিতে শুক্রবার থেকে ওই বেসরকারি ইস্পাত কারখানার ৪ নম্বর ইউনিটের গেটে বিএমএসের নেতৃত্বে বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, আগাম কিছু না জানিয়ে কাজ থেকে বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে শ্রমিকদের। অথচ, অবসরকালীন প্রাপ্য মেটানো হচ্ছে না। তাঁদের জায়গায় বাইরে থেকে লোক এনে কাজে লাগানো হচ্ছে। অথচ, স্থানীয়দের নিয়োগ করা হচ্ছে না। কারখানার দূষণ ভোগ করতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। যাঁদের কাজ থেকে বসানো হয়েছে, তাঁদের ফেরানো এবং স্থানীয়দের কাজের দাবিতে গেটের সামনে বিক্ষোভ হওয়ায়, কার্যত গেট বন্ধ হয়ে যায়।
খবর পেয়ে শুক্রবার পুলিশ আসে। বিক্ষোভকারীদের গেট থেকে সরে যাওয়ার আর্জি জানায়। কিন্তু পরিস্থিতি বদলায়নি। শনিবারও গেট বন্ধ করে বিক্ষোভ চলতে থাকে। এসিপি (দুর্গাপুর) সুবীর রায়ের নেতৃত্বে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী দুপুরে কারখানার গেটে পৌঁছয়। বিক্ষোভকারীদের উঠে যেতে বলে পুলিশ। কিন্তু তাঁরা অনড় থাকায়, পুলিশ জোর করে বিক্ষোভ তুলতে যায়। দু’পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে গেট খুলে দেয়। বিক্ষোভকারীরা পুলিশের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন। তাঁদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ আন্দোলন জোর করে বন্ধ করার চেষ্টা করছে পুলিশ। প্রতিবাদে তাঁরা গেটের পাশে অবস্থান শুরু করে দেন।
বিক্ষোভকারীদের পাশে দাঁড়িয়ে দুর্গাপুর পূর্ব বিধানসভার বিজেপির ৩ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি বুদ্ধদেব মণ্ডলের দাবি, “কারখানা কর্তৃপক্ষের উচিত ছিল, আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধান করার। পুলিশ দিয়ে এ ভাবে আন্দোলন দমন করা যাবে না।” পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কারখানার সামনে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে কারখানা কর্তৃপক্ষ কোনও মন্তব্য করতে চাননি।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে