—প্রতীকী চিত্র।
বিজেপি কার্যালয়ে ডেকে ২৩ লক্ষ টাকা দিতে হবে বলে মুচলেকা লেখানো হয়েছিল তৃণমূল নেতাকে দিয়ে। অভিযোগ, সেই মানসিক চাপে বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন কর্মাধ্যক্ষ। পূর্ব বর্ধমানের দেওয়ানদিঘির জগদাবাদে শোরগোল চলছে এ নিয়ে। তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
মৃতের নাম স্বরূপ রানা। বর্ধমান-১ পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন খাদ্য ও মৎস্য কর্মাধ্যক্ষ তিনি। বর্তমানে বর্ধমান-১ ব্লকের তৃণমূল কংগ্রেস কমিটির সদস্য ছিলেন তিনি। পরিবারের অভিযোগ, স্থানীয় কয়েক জন বিজেপি কর্মীর লাগাতার হুমকি, আর্থিক দাবিদাওয়ার কারণে চাপে পড়ে আত্মহত্যার রাস্তা বেছে নিয়েছেন স্বরূপ। মৃতের ভাই শ্যামল রানা জানান, গত কয়েক দিন ধরে দাদাকে নানা হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। তাঁর অভিযোগ, গত ২২ জুন তাঁর তৃণমূল নেতা দাদাকে স্থানীয় বিজেপি কার্যালয়ে ডাকা হয়। সেখানে প্রথমে তাঁর কাছে ৫০ লক্ষ টাকা দাবি করা হয়। পরে সেটা দাঁড়ায় ২৩ লক্ষ টাকায়। তবে সাত দিনের মধ্যে সেই টাকা দিতে হবে শর্ত চাপানো হয়। ওই মর্মে একটি মুচলেকা লেখানো হয়েছিল।
মৃত তৃণমূল নেতার পরিবারের অভিযোগ, টাকা না দিলে বাড়ি ভাঙচুর করা থেকে তাদের সবাইকে গ্রামছাড়া করার হুমকি দেওয়া হয়। এ সব নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন স্বরূপ। মঙ্গলবার সকালে তিনি বিষপান করেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় তৃণমূল নেতাকে। ভর্তি করানো হয় বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে। বুধবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গিয়েছেন তিনি।
তৃণমূল নেতার মৃত্যুতে পরিবার পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছে। তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে দেওয়ানদিঘি থানার পুলিশ।
স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, তৃণমূল নেতার মৃত্যুর সঙ্গে পদ্মশিবিরের কোনও সম্পর্ক নেই, যোগসূত্রও নেই। সেখানকার বিজেপি মণ্ডল সভাপতি রাজকুমার সাউ বলেন, ‘‘এমন ঘটনা কখনও কাম্য নয়। উনি দু’বারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ছিলেন। আমরা ওঁর পরিবারের পাশে আছি এবং নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করছি।’’ তবে তিনি এ-ও জানান, ওই অভিযোগের পর আগেই দলের কয়েক জনকে শো কজ় করা হয়েছিল। পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক দেবু টুডু বলেন, ‘‘পরিবারের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া উচিত। যে দলেরই হোক দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতেই হবে।’’
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় শোকের ছায়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে।