নিট পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে দিচ্ছেন চিন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়। — নিজস্ব চিত্র।
ত্রাতার ভূমিকায় পুলিশ। রবিবার, নিট পরীক্ষার দিন যানজটে আটকে পড়া দুই পরীক্ষার্থীকে সময় মতো পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছে দিয়ে প্রশংসা কুড়োলেন বর্ধমান শহরের বীরহাটা ট্রাফিক গার্ডের ওসি চিন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়।
বর্ধমান-আরামবাগ রোডের সদরঘাট কৃষক সেতুর উপরে একটি ডাম্পারের সঙ্গে এক পরীক্ষার্থীর গাড়ির সংঘর্ষ হয়। দুর্ঘটনার জেরে যানজটের সৃষ্টি হয়। দু’দিকের লেনেই যান চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। ঘটনাস্থলে আটকে পড়েন দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়ির আরোহী তথা হুগলির জয়রামবাটির বাসিন্দা নিট পরীক্ষার্থী মেহক পারভিন। নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছোতে না পারার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যেরা। সেই সময়ে যানজট নিয়ন্ত্রণে ব্যস্ত ছিলেন ট্রাফিক ওসি চিন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়। পরীক্ষার্থীর সমস্যার কথা জানতে পেরে তিনি নিজের মোটর বাইকে মেহক ও তাঁর বাবাকে তুলে দ্রুত পৌঁছে দেন বর্ধমান শহরের সুভাষপল্লীর হরিসভা হিন্দু গার্লস (মর্নিং) স্কুলে।
একই ভাবে সদরঘাট কৃষক সেতুর যানজটে আটকে পড়েন বাঁকুড়ার রসুলপুরের বাসিন্দা হাবিবা খাতুনও। তাঁর পরীক্ষা কেন্দ্র ছিল বর্ধমান শহরের কাছারি রোডের শিব কুমার হরিজন বিদ্যালয়ে। বিষয়টি জানতে পেরে ট্রাফিক ওসি চিন্ময় তাঁকেও নিজের বাইকে করে পরীক্ষা কেন্দ্রে সময়মতো পৌঁছে দেন।
নিট পরীক্ষার্থী মেহকের মা জরিনা খাতুন বলেন, ‘‘তখন গাড়ির মধ্যে বসে আমরা কান্নাকাটি করছি। ভাবছিলাম কী ভাবে সময়মতো পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছোব। ঠিক সেই সময়ে আমাদের কাছে ভগবানের দূত হয়ে আসেন চিন্ময়বাবু। মেয়েকে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে দেন।’’
স্থানীয়েরা জানাচ্ছেন, এ বারই প্রথম নয়। অতীতেও মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার সময়ে বহু পরীক্ষার্থীকে সাহায্য করতে দেখা গিয়েছে ট্রাফিক ওসিকে। কর্তব্য পালনের পাশাপাশি মানবিক ও সামাজিক দায়িত্ববোধের পরিচয় দিয়ে তিনি বারবার মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন।