উত্তরবঙ্গে ঘুরে আঁতকে উঠেছি

শোষণ করা হচ্ছে প্রাকৃতিক সম্পদ। ক্ষতি হচ্ছে জীববৈচিত্রের। বলছেন পরিবেশবিদ সুভাষ দত্ত।শোষণ করা হচ্ছে প্রাকৃতিক সম্পদ। ক্ষতি হচ্ছে জীববৈচিত্রের। বলছেন পরিবেশবিদ সুভাষ দত্ত।

Advertisement
শেষ আপডেট: ০৫ মার্চ ২০১৬ ০২:২১
Share:

উত্তরবঙ্গের প্রকৃতিতে দূষণের প্রকোপ কতটা পড়ছে?

Advertisement

জবাব: সুন্দরবন যাবে ডুবে, উত্তরবঙ্গ যাবে উড়ে। পরিবেশ দূষণে জরাজীর্ণ উত্তরবঙ্গের চেহারা তুলে ধরতে এর চেয়ে বেশি কী আর বলা যেতে পারে। দিনের পর দিন উন্নয়নের কথা বলে বেহিসেবি ভাবে শোষণ করা হচ্ছে প্রাকৃতিক সম্পদ। মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে জীব বৈচিত্র্যের।

আমি নিজে উত্তরবঙ্গের নানা জায়গা ঘুরে যা দেখেছি তাতে আঁতকে উঠেছি। পর্যটনের উন্নয়ন অবশ্যই কাম্য।

Advertisement

কিন্তু তার জন্য দরকার সঠিক পরিকল্পনা। আমাদের দুর্ভাগ্য যে সরকার তা করে না। কলাবাড়ি ফরেস্টের মধ্যে ক্রাশার ইউনিট করা হয়েছে, এতে শব্দ ও বায়ুদূষণ দু’টোই হচ্ছে। গজলডোবায় বৈকুণ্ঠপুর ফরেস্ট লাগোয়া অঞ্চলে মেগা ট্যুরিস্ট প্রজেক্টের নামে একাধিক ইমারত তৈরি করা হচ্ছে পরিবেশের তোয়াক্কা না করেই। এই ধরনের কাজের আগে পরিবেশের উপর তার কী প্রভাব পড়তে পারে সেটা বিচার করা উচিত, যা করা হচ্ছে না। এ ছাড়া নানা জায়গায় বেআইনি হোটেল রিসর্ট তৈরি করা ও গাছ কাটা তো চলছেই। উত্তরবঙ্গে প্রায়ই বন্যপ্রাণিদের লোকালয়ে আসার ঘটনা দেখা যায়। বনাঞ্চলে অপরিণামদর্শী কাজকর্মের ফলেই এই ঘটনাগুলি ঘটছে।

সারা রাজ্যের মতোই উত্তরবঙ্গের লাইফলাইন এখানকার নদী। কিন্তু আত্রেয়ী, করলা বা তিস্তা সর্বত্রই শু‌ধু ধ্বংসের ছবি। একাধিক জায়গায় নদীখাত থেকে বেআইনি ভাবে বালি-পাথর তোলায় পরিবেশের ক্ষতি হলেও প্রশাসন নীরব। এর সঙ্গে বালি পাথর নিয়ে লরি চলাচলে প্রবল বায়ু দূষণ হচ্ছে। যে দিকেই তাকাচ্ছি দেখছি প্রাকৃতিক সম্পদের মাত্রা ছাড়া বাণিজ্যিক শোষণ চলছে।

প্লাস্টিক দূরীকরণের জন্য এখন অবশ্য উত্তরবঙ্গের নানা জায়গায় একাধিক পদক্ষেপ করা হচ্ছে। কিন্তু মনে হয় না সেগুলি ফলপ্রসূ হবে। কারণ প্লাস্টিক বন্ধ করতে গেলে উৎপাদন বন্ধ করা দরকার। যা করা হচ্ছে না। সাময়িক অভিযান চালিয়ে রাজনৈতিক সুবিধে হলেও আখেরে লাভ হয় না। এই প্লাস্টিকের লাগামছাড়া ব্যবহারের ফলে দূষণ ছড়াচ্ছে। উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি অঞ্চলে ঝর্না, নদীতে প্লাস্টিক সামগ্রী নিক্ষেপের ফলে জলেপ্রবাহের গতি রুদ্ধ হচ্ছে। তা ভূমি ধসের অন্যতম প্রধান কারণ।

ভোটের জন্য রাজনৈতিক তরজা হয়। সবাই নানারকম নাগরিক সুবিধের কথা বলে। কিন্তু পরিবেশের কথা কেউ বলে না। অথচ প্রাকৃতিক পরিবেশের সংরক্ষণ করা হলে অনেক নাগরিক অস্বাচ্ছন্দ্যের অনেকাংশেই নিরসন সম্ভব। পরিবেশ দূষণ রোধে একাধিক আইন তৈরি করা হলেও তা আইনের বইতেই আটকে থাকে। প্রশাসন কিছু করে না। তাই আমি বার বার আইনের দরজার কড়া নাড়ি। কারণ আমি মনে করি এই লড়াই লড়ে যেতেই হবে। পরিবেশ রক্ষায় সকলেরই এগিয়ে আসা উচিত অন্তত নিজেদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা ভেবে।

(সাক্ষাৎকার: অভিরূপ দত্ত)

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
Advertisement
Advertisement
আরও পড়ুন