গঙ্গাসাগর মেলা চলাকালীন যান চলাচল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও মজবুত করার দাবি বাস সংগঠনগুলির। —ফাইল চিত্র।
গঙ্গাসাগর মেলা শুরুর আগেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সাধু-সন্ন্যাসী ও পুণ্যার্থীদের ঢল নামতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই বাবুঘাট-সহ একাধিক জায়গায় গঙ্গাসাগরমুখী মানুষের জমায়েত লক্ষ করা যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে গঙ্গাসাগর যাতায়াতের প্রধান সড়ক এনএইচ-১১৭-এ যান চলাচল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও মজবুত করার দাবি তুলল বাস সংগঠন।
জয়েন্ট কাউন্সিল অব বাস সিন্ডিকেটস-এর সম্পাদক তপন বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, খিদিরপুর থেকে নামখানা পর্যন্ত ১১৭ নম্বর জাতীয় সড়ক গঙ্গাসাগর যাত্রার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট। বিশেষ করে জোকা পার হওয়ার পর রাস্তা এক লেনের হওয়ায় প্রতি বছরই যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। মেলার সময় ভিন্রাজ্য থেকে বহু বাস আসে, যাদের চালকদের এই রাস্তা সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা থাকে না। পাশাপাশি রাজ্যেরও প্রচুর বাস এই পথে চলাচল করে।
বাস সংগঠনের দাবি, মেলার সময় রাস্তায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ জোরদার করতে হবে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জোকা থেকে নামখানা পর্যন্ত রাস্তার দুই ধারে আগের মতো সাদা রঙের খুঁটি কালো বর্ডার-সহ বসাতে হবে। এতে ঘন কুয়াশার রাতে চালকেরা সহজে রাস্তার ধারের অবস্থান বুঝতে পারবেন। একই সঙ্গে রাস্তার দুই পাশে ফগ লাইট বসানোর প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। সংগঠনের মতে, এই সময় অতিরিক্ত এলইডি আলো ব্যবহার না করাই ভাল, কারণ তীব্র আলো চোখে লাগার ফলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ে।
এ ছাড়াও গঙ্গাসাগরমুখী বাসগুলিকে অহেতুক পুলিশি হয়রানি না করার আবেদন জানানো হয়েছে। পরিষেবা স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের সঙ্গে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে বাস সংগঠন। কুম্ভের পর দেশের সর্ববৃহৎ মেলা হিসাবে পরিচিত গঙ্গাসাগর মেলায় কলকাতা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে বিপুল সংখ্যক বাস যায়। তবে মেলার সময় পুলিশের প্রয়োজনে বহু বাস অধিগ্রহণ করা হয়, ফলে ৯ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত সাধারণ যাত্রীদের অসুবিধায় পড়তে হয়।
এই প্রসঙ্গে সংগঠনের দাবি, পুলিশ অধিগ্রহণ করা বাসের ভাড়া ও শ্রমিকদের খোরাকি সময়মতো দিতে হবে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ডিজ়েল বাদে প্রতিদিন বাসপ্রতি ভাড়া ২৫০০ টাকা এবং শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৩০০ টাকা নির্ধারণ করা হোক। পাশাপাশি বিল জমা দেওয়ার সাত দিনের মধ্যে অর্থ মিটিয়ে দেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে গঙ্গাসাগর মেলার সময় বাসভাড়া বৃদ্ধি করার বিষয়টিও প্রশাসনের কাছে পুনরায় তুলে ধরা হয়েছে।