—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অরক্ষিত অংশে কাঁটাতারের বেড়া বসানোর কাজ দ্রুত শেষ করতে হবে। নির্দেশ দিল কলকাতা হাই কোর্ট। উচ্চ আদালতের আরও নির্দেশ, সীমান্তবর্তী এলাকায় যে সব জমি অধিগ্রহণের জন্য কেন্দ্র টাকা দিয়েছে, তা অবিলম্বে বিএসএফের হাতে তুলে দিতে হবে রাজ্যকে। সময় বেঁধে দিল হাই কোর্ট।
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে একটি বিস্তৃত অঞ্চল এখনও কাঁটাতারবিহীন রয়েছে গিয়েছে। সেই অরক্ষিত অংশে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া নিয়ে ‘জটিলতা’ তৈরি হয়। কাঁটাতার বসানোর জন্য জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন। রাজ্যকে সেই জমি অধিগ্রহণ করে সীমান্তরক্ষা বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে তুলে দিতে বলা হয়। অভিযোগ ওঠে, ওই সীমান্তে বেড়া বসানোর জন্য অধিগ্রহণ করা জমি দিচ্ছে না রাজ্য! মামলা গড়ায় হাই কোর্টে। মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, ইতিমধ্যে যে সব জমি অধিগ্রহণ হয়েছে এবং যার জন্য কেন্দ্র টাকা দিয়েছে, সেই জমি দেরি না করে বিএসএফ-কে দেওয়া উচিত। আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে রাজ্যকে ওই নির্দেশ কার্যকর করতে হবে বলেও জানায় আদালত।
শুনানিতে প্রধান বিচারপতির প্রশ্ন, “জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন জড়িত থাকা সত্ত্বেও রাজ্য কেন নিজস্ব ক্ষমতায় জমি অধিগ্রহণ করছে না? প্রয়োজনে ভূমি অধিগ্রহণ আইনের ধারা ৪০ কেন ব্যবহার করা হচ্ছে না?” বিচারপতি সেনের মন্তব্য, আন্তর্জাতিক সীমানার অংশিদার হয়েও রাজ্যের উদ্যোগ না নেওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আদালতের পর্যবেক্ষণ, জমি হস্তান্তর করার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ‘সোশ্যাল ইম্প্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট’ প্রক্রিয়ার অজুহাত ঠিক নয়।
আদালতের আরও পর্যবেক্ষণ, ইতিমধ্যে প্রায় ১৮০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় জমি অধিগ্রহণের জন্য টাকা দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। পাশাপাশি আদালত এ-ও জানায়, কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য যে সব জমির ক্ষেত্রে এখনও পর্যন্ত রাজ্য মন্ত্রিসভার অনুমোদন মেলেনি, সেখানে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে জরুরি ভিত্তিতে অধিগ্রহণ সম্ভব কি না— সে বিষয়ে কেন্দ্র এবং রাজ্যের বক্তব্য শোনা হবে। দু’পক্ষকেই হলফনামা দিতে হবে। আগামী ২ এপ্রিল এই মামলার পরবর্তী শুনানি।