Calcutta High Court

স্যালুট জানানোর হাতে ট্যাটু! নিয়োগ করল না সিএপিএফ, নির্দেশ বহাল রাখল কলকাতা হাই কোর্টও

সিএপিএফের জওয়ানেরা চাইলে বাঁ হাতের কব্জিতে ট্যাটু করাতে পারেন। কিন্তু ডান কব্জিতে ট্যাটু নৈব নৈব চ। কারণ, ডান হাত তুলেই স্যালুট জানানোর রীতি রয়েছে সিএপিএফ জওয়ানদের।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ ২২:৩৮
Share:

—প্রতীকী চিত্র।

ডান হাতে ট্যাটুর জন্য এক যুবককে নিয়োগ করেনি কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (সিএপিএফ)। তাদের সেই নির্দেশই বহাল রেখেছে কলকাতা হাই কোর্ট।

Advertisement

প্রসঙ্গত, সিএপিএফের জওয়ানেরা চাইলে বাঁ হাতের কব্জিতে ট্যাটু করাতে পারেন। কিন্তু ডান কব্জিতে ট্যাটু নৈব নৈব চ। কারণ, ডান হাত তুলেই স্যালুট জানানোর রীতি রয়েছে সিএপিএফ জওয়ানদের। আবেদনকারী হুগলির যুবক যখন জানতে পারেন যে, ডান কব্জিতে ট্যাটু থাকার কারণে নিয়োগপরীক্ষায় তাঁকে ‘আনফিট’ ঘোষণা করা হয়েছে, তখন তিনি লেজ়ার থেরাপির মাধ্যমে সেই ট্যাটু তুলে ফেলেন। যদিও তার পরেও মেডিক্যাল পরীক্ষায় তাঁকে ‘আনফিট’ ঘোষণা করে সিএপিএফ। তাদের সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন হুগলির যুবক।

গত ২ জানুয়ারি বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের পর্যবেক্ষণ, ‘‘মেডিক্যাল পরীক্ষায় কোনও অনিয়ম হলে প্রার্থী অবশ্যই পুনর্বিবেচনার দাবি তুলতে পারেন। সেই অধিকার রয়েছে তাঁর। কিন্তু এক বার মেডিক্যাল পরীক্ষা হয়ে যাওয়ার পরে, পরবর্তী রিভিউ পরীক্ষার আগে ফিট সার্টিফিকেট পেতে যদি কেউ নিজের শরীরের ট্যাটু তুলে ফেলেন, তা অনুমোদনযোগ্য নয়।’’ বিচারপতির আরও পর্যবেক্ষণ, কারও শরীরে ট্যাটু থাকলেও ‘হয়তো তাঁর ত্বক সুস্থ’। কিন্তু তা বলে তাঁকে সিএপিএফের নিয়োগ পরীক্ষায় ‘ফিট’ ঘোষণা করতে হবে, এমন কোনও কথা নেই।

Advertisement

গত বছর ৩ ডিসেম্বর সিএপিএফ নিয়োগের প্রথম মেডিক্যাল পরীক্ষা হয়। সেই পরীক্ষায় যখন যুবককে ‘আনফিট’ ঘোষণা করা হয়, তখন তিনি সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেন। তার পরে ৬ ডিসেম্বর কল্যাণীর হাসপাতালে আবার রিভিউ মেডিক্যাল পরীক্ষা হয় যুবকের। রিপোর্টে বলা হয়, যুবক ট্যাটু তুলতে লেজ়ার থেরাপি করেছেন।

বিচারপতি আবেদনকারীর আইনজীবীকে জিজ্ঞেস করেন, কবে তাঁর মক্কেলের লেজ়ার হয়েছিল। আইনজীবী তার জবাব দিতে পারেননি। তার পরেই বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, ‘‘কখন লেজ়ার হয়েছে, তা কী করে ভুলতে পারেন প্রার্থী?’’ তার পরেই ধরে নেওয়া হয় যে, ৩ থেকে ৬ ডিসেম্বরের মধ্যেই ট্যাটু মুছতে লেজ়ার করিয়েছেন যুবক। তাঁর আইনজীবী জানান, সিএপিএফ নিয়োগ পরীক্ষা পাশের এটাই শেষ সুযোগ ছিল যুবকের। তার পরেই বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, ‘‘নিজের কবর নিজেই খুঁড়েছেন প্রার্থী।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement