Citizenship Amendment Act

বৈধ নথির তালিকাভুক্ত হল সিএএ শংসাপত্র

পশ্চিমবঙ্গের ডিরেক্টর অব সেন্সাস অপারেশনস এবং ডিরেক্টর অব সিটিজ়েন রেজিস্ট্রেশন পদে কয়েক দিন আগেই স্থায়ী নিয়োগ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। যা নিয়ে প্রশাসনের অন্দরে চর্চা তুঙ্গে উঠেছিল—তবে কি সিএএ-র জমে থাকা শংসাপত্রগুলিদ্রুত অনুমোদন দিতেই এই নিয়োগ!

চন্দ্রপ্রভ ভট্টাচার্য

শেষ আপডেট: ০৭ জানুয়ারি ২০২৬ ০৮:৩১
Share:

— প্রতীকী চিত্র।

নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) শংসাপত্রও এ বার জাতীয় নির্বাচন কমিশনের তালিকাভুক্ত হল। বলে দেওয়া হয়েছে, নাগরিকত্ব সম্পর্কিত অন্য যে কোনও নথিও এসআইআর-এ দাখিল করা যাবে। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, সম্প্রতি জাতীয় নির্বাচন কমিশন এ ব্যাপারে সবুজ সংকেত দেওয়ার পরে এসআইআরের সঙ্গে যুক্ত জেলা আধিকারিকদের পোর্টালে তা নথিবদ্ধও হয়ে গিয়েছে। মতুয়া, বাংলাদেশ থেকে আসা সে দেশের সংখ্যালঘু মানুষদের নিয়ে যে রাজনৈতিক টানাপড়েন সম্প্রতি তৈরি হয়েছে, সেই দিক থেকে কমিশনের এই সিদ্ধান্ত খুবই অর্থবহ।

পশ্চিমবঙ্গের ডিরেক্টর অব সেন্সাস অপারেশনস এবং ডিরেক্টর অব সিটিজ়েন রেজিস্ট্রেশন পদে কয়েক দিন আগেই স্থায়ী নিয়োগ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। যা নিয়ে প্রশাসনের অন্দরে চর্চা তুঙ্গে উঠেছিল—তবে কি সিএএ-র জমে থাকা শংসাপত্রগুলিদ্রুত অনুমোদন দিতেই এই নিয়োগ! সিএএ শংসাপত্রকে বৈধ নথির তালিকাভুক্ত করে কমিশন সেই চর্চা আরও উস্কে দিল।

এসআইআরের শুনানি পর্বের সঙ্গে ভোটার তালিকায় নতুন নাম তোলার আবেদনও হচ্ছে। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ পাবে। কমিশন সূত্রের বক্তব্য, দীর্ঘদিনের বিধি মেনে আগামী বিধানসভা ভোটের মনোনয়ন পর্যন্ত চলবে এই সুবিধা। ফলে আগামী ভোটের আগে নতুন ভোটারদের কাছে নাম তোলার সময় থাকছে অনেক বেশি। এই সময়ের মধ্যে সিএএ শংসাপত্র থাকা কোনও ব্যক্তি আবেদন করলে, সেই নথির ভিত্তিতে নতুন ভোটার হিসেবে তিনি তালিকাভুক্ত হবেন। নাগরিকত্বের অন্য যে কোনও প্রমাণকেও গ্রাহ্য করার সিদ্ধান্ত কমিশন নেওয়ায়, ছিটমহলের (এ দেশের অংশে) কোনও বাসিন্দাও নাগরিকত্বের যে কোনও প্রমাণ দেখাতে পারবেন। কমিশনের এক কর্তার বক্তব্য, “দেশেরসুনির্দিষ্ট আইনের আওতায় এমন শংসাপত্র পেতে পারেন যোগ্য আবেদনকারী। দেশের সংবিধান বলছে, একমাত্র ভারতীয় নাগরিকেরাই দেশের ভোটার হতে পারেন। ফলে সে দিক থেকে এমন নথি গ্রাহ্যহওয়াই স্বাভাবিক।”

প্রসঙ্গত, সিএএ শংসাপত্র হাতে না পেলে ভোট যে দেওয়া যাবে না, তা আদালত আগেই জানিয়ে দিয়েছিল। ফলে চলতি এসআইআরে বিশেষ করে মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষদের মধ্যে চরম উৎকন্ঠা তৈরি হয়। তা নিয়ে তৈরি হয় রাজনৈতিক নানা বিতর্কও। তবে কিছু দিন আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ রাজ্যে এসে মতুয়াদের উদ্দেশে অভয়-বার্তা দিয়ে গিয়েছিলেন। ঘটনাচক্রে, তার পরে সিএএ শংসাপত্র কমিশনের তালিকাভুক্ত হওয়া এখনকার রাজনৈতিক পরিবেশেখুবই তাৎপর্যপূর্ণ।

ইতিমধ্যেই ২০০৬ ব‍্যাচের আইএএস অফিসার রশ্মি কোমলকে পশ্চিমবঙ্গের ডিরেক্টর অব সেন্সাস অপারেশনস এবং ডিরেক্টর অব সিটিজ়েন রেজিস্ট্রেশন পদে তিন বছরের জন্য নিয়োগ করেছে কেন্দ্র। জেলা স্তরে সিএএ কমিটি সিএএ শংসাপত্রের জন‍্য জমা পড়া আবেদন যাচাই করে পাঠায় সেন্সাস ডিরেক্টরের কাছেই। সেখান থেকে তা যায় কেন্দ্রের কাছে। তবে জেলাগুলি থেকে আসা বিপুল সংখ্যক সিএএ আবেদন রাজ্য স্তরেই জমে থাকার অভিযোগ উঠেছিল। ঘটনাচক্রে, গত দুর্গাপুজোর আগেই রাজ্যের জনগণনা অধিকর্তার পদ থেকে কৌশিক সাহাকে মেয়াদ ফুরনোর আগেই সরিয়ে দেয় কেন্দ্র। ওড়িশার জনগণনা অধিকর্তা নিখিল পবন কল্যাণকে কিছু দিনেরজন্য পশ্চিমবঙ্গের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়।

প্রসঙ্গত, এত দিন কমিশনের তালিকায় ছিল কেন্দ্র-রাজ্য সরকার বা স্বশাসিত সংস্থার দেওয়া কোনও পরিচয়পত্র, পেনশন নথি, ১৯৮৭ সালের আগে কেন্দ্র, রাজ্য সরকার, স্থানীয় প্রশাসন, ব্যাঙ্ক, পোস্ট অফিস, এলআইসি, সরকার অধিগৃহীত সংস্থার থেকে পরিচয়পত্র, শংসাপত্র-নথি, জন্মের শংসাপত্র, পাসপোর্ট, স্বীকৃত বোর্ড বা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার শংসাপত্র, উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের দেওয়া স্থায়ী বাসিন্দা শংসাপত্র, বৈধ এসসি-এসটি-ওবিসি শংসাপত্র, এনআরসি-নথি (এ রাজ্যে প্রযোজ্য নয়), রাজ্য সরকার বা স্থানীয় প্রশাসনের দেওয়া বংশ-রেজিস্টার (যেখানে প্রযোজ্য), সরকারের দেওয়া জমি-বাড়ির শংসাপত্র, আধার (শুধুমাত্র সচিত্র পরিচয়পত্র হিসেবে, সঙ্গে অন্য কোনও নথি প্রয়োজন), বিহারের গত এসআইআর। এ বার এর সঙ্গে যুক্ত হল সিএএ বা অন্য কোনও নাগরিকত্ব শংসাপত্র-নথিও।

অন্য দিকে, তথ্যগত গরমিল (লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি) থাকা প্রায় ৯৬ লক্ষ (আগে ছিল ১.৩৬ কোটি) ভোটারদের শুনানির নোটিস পাঠানোর কাজ শুরু হচ্ছে। কমিশন বলে দিয়েছে, ১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সব শুনানি শেষ করতে হবে। ফলে দৈনিক কমবেশি ১৫০টি করে শুনানি করতে হবে এক জন আধিকারিককে। এ নিয়ে আপত্তি তুলেছেন জেলাশাসকদের একাংশ। পাশাপাশি, কোন নথির ভিত্তিতে এই শুনানি হবে, তা-ও জানতে চাওয়া হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে তা জানিয়ে দিতে পারে কমিশন। তবে এখনই শুনানির সময় কিছুটা বাড়বে কি না, তা নিয়ে চর্চা রয়েছে কমিশনের অন্দরে। মঙ্গলবার এসআইআর-এর শুনানি প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখতে সোনারপুর, বারুইপুরে ঘুরলেন নির্বাচনকমিশনের রোল-পর্যবেক্ষক সি মুরুগন। আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকও করেন তিনি।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন