মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। —ফাইল চিত্র।
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পাড়ার দুর্গাপুজোয় এ বছর থাকছে ইতিহাস ও দেশাত্মবোধের বিশেষ মেলবন্ধন। পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথির নান্দনিক ক্লাবের ৪৭তম বর্ষের শারদোৎসবের থিম ‘পুণ্যভূমি মেদিনীপুরের বীরগাথা’। অবিভক্ত মেদিনীপুর জেলার স্বাধীনতা আন্দোলনের গৌরবময় ইতিহাস এবং সেই সংগ্রামের অগ্রণী বীরদের অবদান তুলে ধরা এ বার মণ্ডপসজ্জার মূল বিষয়।
নান্দনিক ক্লাবের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই জড়িয়ে রয়েছে অধিকারী পরিবার। ক্লাবের আলঙ্কারিক সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ক্লাবের সম্পাদক কাঁথির সাংসদ তথা তাঁর ছোটভাই সৌমেন্দু অধিকারী। পিতা প্রাক্তন সাংসদ শিশির অধিকারী ক্লাবের আজীবন সদস্য। পুজোর সার্বিক আয়োজনের অন্যতম দায়িত্বও অধিকারী পরিবারের সদস্যদের হাতেই। এ বারের থিমশিল্পীর দায়িত্ব নিয়েছেন শিল্পী অনির্বাণ দাস। তাঁর পরিকল্পনায় মণ্ডপ জুড়ে ফুটে উঠবে অবিভক্ত মেদিনীপুরের স্বাধীনতা সংগ্রামের নানা অধ্যায়। দর্শনার্থীরা এক ছাদের নীচে দেখতে পাবেন স্বাধীনতা আন্দোলনে জেলার ঐতিহাসিক অবদান এবং সেই সময়ের নানা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ও ব্যক্তিত্বের স্মৃতি।
রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে দীর্ঘদিন ধরেই দুর্গাপুজোর সঙ্গে বিভিন্ন নেতার প্রত্যক্ষ যোগ দেখা গিয়েছে। তবে তৃণমূলে থাকার সময়ও শুভেন্দু অধিকারী কখনও কোনও বড় বারোয়ারি পুজোর পরিচালনায় সক্রিয় ভূমিকা নেননি। বরং জননেতার ভূমিকায় বিভিন্ন প্রান্তের পুজোর উদ্বোধন ও আমন্ত্রণ রক্ষা করতেই তাঁকে বেশি দেখা গিয়েছে। নান্দনিক ক্লাবের আলঙ্কারিক সভাপতি হলেও পুজোর দৈনন্দিন আয়োজনে তাঁর প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ সীমিত। বর্তমানে তিনি দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর কেন্দ্রের বিধায়ক হওয়ায় মেদিনীপুরের পাশাপাশি কলকাতার বিভিন্ন পুজোতেও তাঁকে সময় দিতে হবে বলে সূত্রের খবর।
থিমশিল্পী অনির্বাণ বলেন, “আমি মেদিনীপুর শহরের ছেলে। আমার দাদু স্বাধীনতা সংগ্রামী শৈলেন্দ্রনাথ দাস দীর্ঘদিন ব্রিটিশদের কারাগারে বন্দি ছিলেন। তাঁর বাবা চারুচন্দ্র দাস অনুশীলন সমিতির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন। আমাদের পরিবারের বহু সদস্য স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশ নিয়েছেন। তাই এই মাটির ইতিহাসকে শিল্পের মাধ্যমে তুলে ধরার সুযোগ আমার কাছে অত্যন্ত গর্বের।” কলকাতার একাধিক বিখ্যাত দুর্গাপুজোর থিম নির্মাণের অভিজ্ঞতা রয়েছে অনির্বাণের। কখনও প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের চেতলা অগ্রণীর পুজো, কখনও আবার প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের সুরুচি সংঘের পুজোর আসর সাজিয়েছেন তিনি। অতীতে অ্যাসিড আক্রান্তদের জীবনসংগ্রাম, সত্যজিৎ রায়কে শ্রদ্ধার্ঘ কিংবা সুকুমার রায়ের ‘আবোল তাবোল’-এর ভাবনা মণ্ডপে ফুটিয়ে তুলেছেন তিনি। এ বার তাঁর লক্ষ্য মেদিনীপুরের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসকে নতুন প্রজন্মের সামনে জীবন্ত করে তোলা।
ঘরের ছেলে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পদে বসেছেন। যা কাঁথি শহরবাসীর জন্য শ্লাঘার বিষয় বলেই মনে করছে নান্দনিক ক্লাবের কর্মকর্তারা। তাই অবিভক্ত মেদিনীপুর জেলার ইতিহাসকে নিজেদের মণ্ডপে তুলে ধরে নিজেদের ঐতিহ্যকে আবারও সামনে আনতে চাইছেন তাঁরা। শিল্পীর কথায়, মণ্ডপে স্থান পাবেন অবিভক্ত মেদিনীপুর জেলার কৃতী সন্তানেরা। সেই তালিকায় রয়েছে সুশীল ধাড়া, বীরেন্দ্রনাথ শাসমল, মাতঙ্গিনী হাজরা, অজয় মুখোপাধ্যায়, সতীশ সামন্ত, ক্ষুদিরাম বসু, প্রদ্যোৎকুমার ভট্টাচার্য এবং হেমচন্দ্র কানুনগো-সহ বহু বীর বিপ্লবীর কর্মকাণ্ড। আগামী ২৪ জুলাই, উল্টোরথের দিন খুঁটিপুজোর মধ্য দিয়ে শুরু হবে এ বারের শারদোৎসবের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি।