১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ইআরও-দের: সুপ্রিম কোর্ট
SIR

নাম তুলতে তুলতে ভোট শেষ? প্রশ্ন

রাজনৈতিক শিবিরে প্রশ্ন, কারও নাম ২৮ ফেব্রুয়ারির তালিকায় না থাকলে তাঁকে পরবর্তী তালিকার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু তা করতে করতে যদি ভোট ঘোষণা হয়ে যায়, তখন কী হবে?

প্রেমাংশু চৌধুরী

শেষ আপডেট: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৭:৪০
Share:

ভোটের প্রাক্কালে যদি দেখা যায়, ভোটার তালিকায় নামই নেই, তা হলে মানুষ কী করবেন? জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে কি আবেদন করার সময় থাকবে? আপিলের ফয়সালা হতে হতে তো বিধানসভা নির্বাচন শেষ হয়ে যাবে!

মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর নিয়ে নতুন নির্দেশ দেওয়ার পরে রাজ্যের ভোটারদের মধ্যে নতুন করে এই প্রশ্ন উঠে গেল। প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের নির্দেশ, ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পরেও পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর-এ নিয়মিত ভাবে ভোটারদের তালিকা প্রকাশিত হতে থাকবে। তথ্যগত অসঙ্গতি ও ‘আনম্যাপড’-এর তালিকায় থাকা ৫০ লক্ষ ভোটারের নথি যাচাইয়ের কাজ যখন যেমন শেষ হবে, তখন তেমন অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হতে থাকবে। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট তার কোনও সময়সীমা বেঁধে দেয়নি।

রাজনৈতিক শিবিরে প্রশ্ন, কারও নাম ২৮ ফেব্রুয়ারির তালিকায় না থাকলে তাঁকে পরবর্তী তালিকার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু তা করতে করতে যদি ভোট ঘোষণা হয়ে যায়, তখন কী হবে? নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, এসআইআর-এ কারও নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় না থাকলে, তিনি জেলাশাসক তথা জেলা নির্বাচনী আধিকারিক (ডিইও)-র কাছে প্রথমে আপিল করতে পারেন। তার পরে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে আবেদন করতে পারবেন। এ ছাড়া ফর্ম-৬ পূরণ করে নতুন ভোটার হিসেবে আবেদন করতে তো পারবেনই। কিন্তু তিনি যে কেন্দ্রের ভোটার, সেই কেন্দ্রে মনোনয়ন পর্ব শেষ হয়ে গেলে, তিনি আর নাম তোলার আবেদন করতে পারবেন না। তার জন্য ভোট পর্ব শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

আজ সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি বিপুল পাঞ্চোলির বেঞ্চে তৃণমূলের মামলাকারীদের হয়ে এই আশঙ্কার কথা জানান আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী মনোনয়নের শেষ দিনের অন্তত সাত দিন আগে ফর্ম-৬ জমা দিতে হয়। সেই সময় যেন থাকে, তা নিশ্চিত করা দরকার। বিচারপতি বাগচী বলেন, চিন্তার কারণ নেই। সুপ্রিম কোর্ট নিজের ক্ষমতা কাজে লাগাবে। সুপ্রিম কোর্ট আজ তার সংবিধানের ১৪২তম অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে নির্দেশ দিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারির পরে প্রকাশিত তালিকায় যে সব ভোটারের নাম থাকবে, তাঁরা ২৮ ফেব্রুয়ারির তালিকাতেই ছিলেন বলে ধরা হবে। কল্যাণ পরে বলেন, ‘‘সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, চিন্তার কারণ নেই। মানুষ বিপাকে পড়লে আমরা আবার সুপ্রিম কোর্টে আসব।’’

রাজনৈতিক দলের নেতাদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, মার্চের মাঝামাঝি যদি নির্বাচন ঘোষণা হয় এবং এপ্রিলের মাঝামাঝি সময় থেকে পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন শুরু হয়, তার আগে কি এসআইআর-এর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা তৈরি হয়ে যাবে?

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার মেয়াদ ৭ মে শেষ হচ্ছে। তার আগে নির্বাচন শেষ করে ফল ঘোষণা করতে হবে। ২০২১-এ ২৬ ফেব্রুয়ারি ভোট ঘোষণা হয়েছিল। ২৭ মার্চ থেকে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত আট দফায় ভোট হয়েছিল। ২ মে ফল ঘোষণা হয়েছিল। এ বার নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধি দল পশ্চিমবঙ্গে যাচ্ছেই মার্চের ১ ও ২ তারিখে। ১৪ মার্চ অসমে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি প্রকল্প উদ্বোধন রয়েছে। সে ক্ষেত্রে তার পরে ভোট ঘোষণা হবে। ১৫ মার্চও ভোট ঘোষণা হলে এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে ভোট শুরুর সম্ভাবনা।প্রদেশ কংগ্রেসের এসআইআর বিষয়ক কমিটির নেতা প্রসেনজিৎ বসু বলেন, ‘‘যদি এই ভোটার তালিকা প্রকাশের শেষ দিন নির্দিষ্ট না করা হয়, তা হলে বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্টে সমস্যা আসতে পারে। বিধানসভার মেয়াদ ৭ মে শেষ হচ্ছে। তার আগে নির্বাচনী প্রক্রিয়া শেষ না হলে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হয়ে যাবে। ফলে মার্চে নির্বাচন ঘোষণা করে প্রক্রিয়া শুরু করে দিতে হবে। কিন্তু তার আগে এসআইআর প্রক্রিয়া শেষ করা চ্যালেঞ্জের বিষয়।’’

এসআইআর নিয়ে এই জটিলতার জন্য আজ তৃণমূল নির্বাচন কমিশনকে দায়ী করেছে। বিজেপি দায়ী করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে। কমিশন সূত্রের বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া অন্য কোনও রাজ্যে এসআইআর-এ এই সমস্যা তৈরি হয়নি। বিজেপি-বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, সুপ্রিম কোর্ট শুধুমাত্র তথ্যগত অসঙ্গতি, আনম্যাপড-দের নিয়ে নির্দেশ দিয়েছে। রাজ্যে খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়া যে সব মানুষ ফর্ম-৬-এর মাধ্যমে নতুন করে ভোটার তালিকায় নাম তোলার আবেদন জানিয়েছেন, সেই সব আবেদনের কী গতি হচ্ছে, তার কোনও তথ্য মিলছে না। তামিলনাড়ুতে দেখা গিয়েছে, এসআইআর-এ প্রথমে ১৫% নাম বাদ পড়লেও শেষে ৮% মতো নাম বাদ পড়েছে। যার অর্থ, অনেকেই ফর্ম-৬ পূরণ করে ভোটার তালিকায় ফিরে এসেছেন। পশ্চিমবঙ্গে খসড়া তালিকায় বাদ পড়া ৫৮ লক্ষের মধ্যে কত জন এই প্রক্রিয়ায় ফিরে আসবেন, সেটাও দেখার বিষয়।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন