রোদ বাঁচাতে কপিলকৃষ্ণের মাথায় টোকা পরিয়ে দিচ্ছেন এক চাষি। ছবি: নির্মাল্য প্রামাণিক।
চৈত্রের মাটি ফাটা রোদ্দুর। সড়ক ধরে ছুটছে প্রার্থীর গাড়ি। দূরে নজরে পড়ল চাষিরা খেতে কাজ করছেন। গাড়ি থামিয়ে চড়া রোদ মাথায় করেই খেতের আল ধরে হাঁটতে শুরু করলেন বনগাঁর তৃণমূল প্রার্থী কপিলকৃষ্ণ ঠাকুর। সঙ্গে বনগাঁ উত্তর কেন্দ্রের বিধায়ক বিশ্বজিত্ দাস, জেলা পরিষদের সভাধিপতি রহিমা মণ্ডল, গাইঘাটা পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি ধ্যানেশ নারায়ণ গুহ-সহ নেতা-কর্মীর দল। মাঠে তখন চাষিদের কেউ লাঙল দিচ্ছেন, কেউ নিরানি দিচ্ছেন, কেউ বা ব্যস্ত শ্যালো মেশিন চালাতে।
বেলা ১১টাতেই রোদে ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। চারদিক যেন ঝলসে যাচ্ছে। খেতের মধ্যে দিয়ে বেশ খানিকটা হাঁটার পরে এক কর্মী চিত্কার করে চাষিদের ডাক দিলেন। মাঠে হঠাত্ ধোপদুরস্ত নেতাদের হাজির হতে দেখে সকলে একটু অবাকই। একটু পরে এক এক করে এগিয়ে এলেন সবাই। রোদ এড়াতে কয়েকজনের মাথায় বাঁশের টোকা। বিধায়ক বিশ্বজিত্বাবু প্রার্থীর সঙ্গে তাঁদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে বললেন, “ওঁকে চেনেন। উনি কপিলকৃষ্ণ ঠাকুর। আমাদের প্রার্থী। বাড়িতে গেলে আপনাদের সঙ্গে তো দেখা হত না, তাই এখানেই আপনাদের সঙ্গে পরিচয় করতে এসেছেন।” ইতিমধ্যে একজন নিজের টোকা পরিয়ে দিয়েছেন প্রার্থীর মাথায়। তিনি নিজেও যে এক সময় চাষের কাজ করেছেন তা জানিয়ে প্রার্থী বলেন, “১৯৪৮ সালে এ পারে চলে আসি। তখন ঠিক করে খাওয়া জুটত না। আমার মা বীণাপানি দেবীও জমিতে নেমে আল বেঁধেছেন। তাই মনে করবেন না প্রার্থী হয়েছি বলে লাটসাহেব হয়ে গিয়েছি।”
হাতের কাছে প্রার্থীকে পেয়ে নিজেদের অভাব-অভিযোগ জানাতে মুখিয়ে উঠলেন কয়েকজন চাষি। ইউনুস মণ্ডল, দীপঙ্কর মণ্ডল, তারাপদ বিশ্বাস জানালেন, “বর্ষায় ভিড়ে এলাকায় খেত জলে ডুবে যায়। আমন ধান চাষ করতে পারি না। বিদ্যুত্ না থাকায় সেচ হয় না।” প্রার্থী যখন মন দিয়ে শুনছেন এ সব, তখন কয়েকজনকে ঠেলে সামনে এগিয়ে এলেন একজন। প্রার্থীর দিকে ছুড়ে দিলেন একইসঙ্গে অভিযোগ ও প্রশ্ন, “টাকা খরচ করে চাষ করেও পাটের দাম পাচ্ছি না। ভাল দাম দূরঅস্ত, যাতে চাষের খরচটুকু ওঠে তার ব্যবস্থা করে দিতে পারেন?” প্রার্থী কোনও উত্তর দেওয়ার আগেই, “আর একজন বলে উঠলেন, “নাওভাঙা নদী ও ভিড়ের বাওড় যদি সংস্কারের ব্যবস্থা করেন তাহলে বর্ষায় ডুবতে হয় না। এখন শ্যালো ভাড়া করে ডিজেল খরচ করে খেতে জল দিতে হচ্ছে। বিদ্যুত্ এনে সেচের ব্যবস্থা হলে চাষের খরচ অনেকটাই কমে যাবে। দয়া করে তার ব্যবস্থা করে দিন।” কথা শেষ হতেই কপিলকৃষ্ণ বললেন ‘চেষ্টা করব’। তার পর নেতা-কর্মীদের নিয়ে এগিয়ে গেলেন গাড়ির দিকে।