WBCSSC

স্কুল সার্ভিস কমিশনের নতুন চেয়ারম্যান দুষ্মন্ত নারিওয়ালা! নিয়োগে স্বচ্ছতার প্রতিশ্রুতি পালন, পোস্ট শুভেন্দুর

দুষ্মন্তের নিয়োগ নিয়ে সমাজমাধ্যমে দীর্ঘ পোস্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। তিনি জানান, তাঁর সরকারের প্রতিশ্রুতি ছিল নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা আনা হবে। সেই প্রতিশ্রুতি পূরণে কাজ করছে তাঁর সরকার।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬ ২২:১০
Share:

দুষ্মন্ত নারিওয়ালা। — ফাইল চিত্র।

রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিওয়ালাকে পশ্চিমবঙ্গ সেন্ট্রাল স্কুল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ করা হয়েছে। রাজ্যের মুখ্যসচিব পদ থেকে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়ার পরেই দিল্লিতে রেসিডেন্ট কমিশনারের দায়িত্বও দেওয়া হয়েছিল। শুধু তা-ই নয়, একই সঙ্গে তিনি সামলাচ্ছিলেন এনএসএটিআইয়ের ডিরেক্টর জেনারেল এবং এসএনটিসিএসএসসির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব। এ বার তার সঙ্গে জুড়ল স্কুল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান পদও। এই নিয়োগ নিয়ে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, তাঁর সরকারের প্রতিশ্রুতি ছিল নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা আনা হবে। সেই প্রতিশ্রুতি পালনে বদ্ধপরিকর তাঁর সরকার।

Advertisement

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার পর রাতারাতি রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব পদে বদল করে নির্বাচন কমিশন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিয়োগ করা নন্দিনী চক্রবর্তীকে মুখ্যসচিব পদ থেকে সরিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয় ১৯৯৩ ব্যাচের আইএএস দুষ্মন্তকে। রাজ্যে পালাবদলের পর শুভেন্দু অধিকারীর সরকার নতুন মুখ্যসচিব হিসাবে নিয়োগ করে মনোজ অগ্রবালকে। সেই সময়েই জানানো হয় দুষ্মন্তকে দিল্লিতে রেসিডেন্ট কমিশনার পদে নিয়োগের কথা।

সেই দুষ্মন্তকে আরও দায়িত্ব দিল শুভেন্দুর সরকার। সরকার গঠনের পর পরই নির্দেশিকা জারি করে তৃণমূল সরকারের মনোনীত পদাধিকারীদের সরে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তার পরেই স্কুল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন সিদ্ধার্থ মজুমদার। ১১ মে তিনি পদত্যাগ করেন। তাঁর ইস্তফার পরে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করা হয় স্কুল সার্ভিস কমিশনের সচিব অরুণ রায়কে। এ বার সেই পদে বসানো হল দুষ্মন্তকে।

Advertisement

শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগে জর্জরিত ছিল পূর্বতন তৃণমূল সরকার। প্রাথমিক, উচ্চ প্রাথমিক থেকে নবম-দশম, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণিতে শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। সেই অভিযোগ গড়ায় আদালত পর্যন্ত। সিবিআই, ইডির মতো কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা তদন্ত শুরু করে। ধরপাকড়ও হয়। সেই সময় অনেক নেতা-মন্ত্রী গ্রেফতারও হয়েছিলেন। ভোটপ্রচারে বিজেপি বার বার এই দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনেছিল। প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল স্বচ্ছ নিয়োগের।

দুষ্মন্তের নিয়োগ নিয়ে সমাজমাধ্যমে দীর্ঘ পোস্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। তিনি জানান, তাঁর সরকারের প্রতিশ্রুতি ছিল, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা আনা হবে। নিয়োগ সংক্রান্ত কোনও কমিটিতে কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব থাকবেন না। শুভেন্দুর কথায়, ‘‘প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে পালনে বদ্ধপরিকর সরকার। সেই লক্ষ্যপূরণে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। আইএএস দুষ্মন্ত নারিওয়ালাকে স্কুল সার্ভিস কমিশনের দায়িত্ব দেওয়া হল।’’ মুখ্যমন্ত্রী এ-ও জানান, চাকরিতে নিয়োগের মাপকাঠি হবে মেধা এবং যোগ্যতা। অতীতের দুর্নীতির আর কোনও জায়গা নেই পশ্চিমবঙ্গে।

প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির দায়ে ২০১৬ সালে এসএসসির নিয়োগ সংক্রান্ত পুরো প্যানেলই বাতিল হয়েছিল। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে আবার নিয়োগ পরীক্ষা হয়। শুরু হয় নিয়োগ প্রক্রিয়া। তবে সিদ্ধার্থের পদত্যাগের পরে একাদশ-দ্বাদশে কাউন্সেলিং মাঝপথে থমকে রয়েছে। নবম-দশমে নথি যাচাই প্রক্রিয়া সবেমাত্র শুরু হয়েছিল। অনেকে মনে করছেন, চেয়ারম্যান পদে দুষ্মন্তকে বসানোর পর থমকে যাওয়া নিয়োগ প্রক্রিয়ায় গতি আসবে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement