Election Commission

পশ্চিমবঙ্গের ভোটে এ বার কত কেন্দ্রীয় বাহিনী? প্রাথমিক হিসাব কষতে সোমবার বৈঠকে নির্বাচন কমিশন

বিগত কয়েকটি নির্বাচনের অভিজ্ঞতা থেকে বাহিনী মোতায়েনের নকশা তৈরি হবে। সেইমতো রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকে বেশ কয়েকটি বিষয়ে তথ্য নিয়ে যেতে বলেছে কমিশন।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৪ জানুয়ারি ২০২৬ ২১:৪৭
Share:

কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের টহল। — ফাইল চিত্র।

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন নিয়ে বৈঠকে বসছে নির্বাচন কমিশন। সোমবার দিল্লির নির্বাচন সদনে হবে ওই বৈঠক। কমিশন সূত্রে খবর, রাজ্যে কত দফায় ভোট এবং সেই অনুযায়ী কত কেন্দ্রীয় বাহিনী প্রয়োজন সেই বিষয়ে আলোচনা হবে ওই বৈঠকে। আলোচনায় উঠবে রাজ্য পুলিশকে ভোটে ব্যবহারের প্রসঙ্গও। তাদের কী ভাবে কাজ লাগানো হবে সেই বিষয়টিও বৈঠকে উঠতে পারে। বৈঠকে যোগ দিতে দিল্লি গিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজকুমার আগরওয়াল। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার-সহ উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা ওই বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন। শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, বাহিনী মোতায়েন নিয়ে ভোটমুখী পাঁচ রাজ্যের সিইও-র সঙ্গেও বৈঠক করবে কমিশন।

Advertisement

বিধানসভা ভোটের আগে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন নিয়ে কমিশনের এই বৈঠক খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। কমিশন সূত্রে খবর, বিগত কয়েকটি নির্বাচনের অভিজ্ঞতা থেকে বাহিনী মোতায়েনের নকশা তৈরি হবে। সেইমতো রাজ্যের সিইও মনোজকে বেশ কয়েকটি বিষয়ে তথ্য নিয়ে যেতে বলেছে কমিশন। বিগত কয়েকটি নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কমিশন। এ বারও তেমনটাই হতে চলেছে বলে খবর। তবে কমিশন সূত্রে খবর, রাজনৈতিক ভাবে স্পর্শকাতর বুথগুলিতে অতিরিক্ত নজর দেওয়া হবে। অতীতে রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে তীব্র লড়াই হয়েছে এবং আসন্ন ভোটেও তেমন হতে পারে, সেই সব বিধানসভা কেন্দ্রে বাহিনী মোতায়েনে জোর দেওয়া হবে। এ ছাড়া রাজনৈতিক ভাবে সংবেদনশীল বিধানসভাগুলিতেও নিরাপত্তা আঁটোসাঁটো করার পরিকল্পনা নিয়েছে কমিশন।

শেষ বিধানসভা বা লোকসভা নির্বাচনে ৮০ শতাংশের বেশি ভোটগ্রহণ হয়েছে এমন জায়গায় কী ভাবে বাহিনী মোতায়েন করা হবে তা নিয়েও কমিশনের বৈঠকে আলোচনা হওয়ার কথা। পাশাপাশি, গত লোকসভা নির্বাচনে কোনও একক প্রার্থী ৭০-৭৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছেন সেই কেন্দ্রও দেখা হবে। এ ছাড়া বাহিনী মোতায়েন নিয়ে কমিশনের আলোচনায় থাকবে সাম্প্রদায়িক ও জাতিভিত্তিক উত্তেজনা, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হিংসা হয়েছে এমন এলাকা। কমিশনের এক আধিকারিক জানান, বেশ কয়েকটি বিষয় মাথায় রেখে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়। এ নিয়ে কমিশনের নির্দিষ্ট পদ্ধতি রয়েছে। মাওবাদী উপদ্রুত এবং অপরাধপ্রবণ এলাকা নজরে থাকবে, তা স্বাভাবিক। কিন্তু অশান্তি এবং পুনর্নির্বাচন হয়েছে এমন এলাকাগুলিতেও বাহিনী মোতায়েনে জোর দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

Advertisement

পশ্চিমবঙ্গে ২০১১ সালের পর থেকে প্রতিটি নির্বাচনেই কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন বৃদ্ধি করা হয়েছে। গত লোকসভা নির্বাচনে শেষ তথা সপ্তম দফার ভোটে হাজার কোম্পানির বেশি বাহিনী মোতায়েন করেছিল কমিশন। শুধু ওই দফাতেই ১০১৯ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী দেওয়া হয়েছিল। জম্মু-কাশ্মীরের থেকেও রাজ্যে বেশি বাহিনী মোতায়েন হয়েছিল। এর আগে বিধানসভা নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বাহিনী ছাড়াও অন্য রাজ্যের পুলিশকেও পশ্চিমবঙ্গের ভোটের কাজে ব্যবহার করেছিল কমিশন। কমিশনের এক আধিকারিকের কথায়, রাজ্যে কত দফায় ভোট হয় তার উপরই নির্ভর করবে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন। দফা কম হলে আরও বেশি বাহিনী প্রয়োজন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement