কোলাঘাটের রাকসাচকে দোপাটি ফুলের বাগানে এখনও জমে রয়েছে জল। নিজস্ব চিত্র।
ঢাকে কাঠি পড়তে খুব বেশি দেরি নেই। বাহারি মণ্ডপের কাজ চলছে। নাওয়া-খাওয়ার সময় নেই প্রতিমা শিল্পীদের। কিন্তু বাদ সাধছে নিম্নচাপ। আর সেই দুর্যোগের শিকার ফুলচাষও। পুজোর মরসুমে ফুলের পর্যাপ্ত জোগান দেওয়া আদৌ কতটা সম্ভব হবে— সংশয়ে ফুলচাষিরা। মহার্ঘ ফুল কিনতে হাত পুড়বে না তো! আশঙ্কায় পুজো কমিটিগুলিও।
রকমারি ফুল চাষের নিরিখে রাজ্যের মধ্যে অন্যতম পূর্ব মেদিনীপুর। জেলায় পাঁশকুড়া ব্লকের পাশাপাশি কোলাঘাট, তমলুক, শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকের একাংশে গাঁদা, রজনীগন্ধা, গোলাপ, দোপাটির পাশাপাশি চাষ হয় পদ্মও। কিন্তু গত কয়েকদিনে নিম্নচাপের বৃষ্টি ও ঝড়ে জেলার ফুল চাষে বেশ ক্ষতি হয়েছে। পরিস্থিতি সামলে পুজোর বাজার ধরতে ফুলচাষিরা মরিয়া হলেও তাঁদের চিন্তায় রাখছে আবহাওয়া।
এ বার বাংলা বছরের প্রথম থেকেই ফুলের দাম খুব একটা ভাল ছিল না। গত জানুয়ারি থেকে করোনার সংক্রমণ রুখতে বেশ কিছু পদক্ষেপ করেছিল সরকার। কাটছাঁট চলেছিল বিয়ে-সহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে। তা ছাড়া, ভিন্ রাজ্যের সব ট্রেন চালু না হওয়ায় ফুল বাইরে পাঠাতে পারছিলেন না চাষিরা। সব প্রতিকূলতা কাটিয়ে গত ১৫ অগস্ট নাগাদ ফুলের বাজার চাঙ্গা হতে শুরু করে। চড়তে থাকে দামও। জন্মাষ্টমীর ঠিক আগে ফুলের দাম একলাফে অনেকটাই বেড়ে যায়। কিন্তু ওই দিনই সব তছনছ করে দেয় নিম্নচাপের প্রবল বৃষ্টি। সঙ্গে টানা কয়েকঘণ্টা প্রায় ৭০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ের তাণ্ডব।
এই দুর্যোগে প্রচুর ক্ষতি হয়েছে ফুল চাষে। হাওয়ার তোড়ে বাগানেই নুইয়ে পড়ে রজনীগন্ধা, গ্ল্যাডিওলাসের মতো ডাঁটাযুক্ত ফুল। এ বার পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় প্রায় আড়াই হাজার হেক্টর জমিতে ফুলের চাষ হয়েছে। বৃষ্টিতে তার অনেকটাই ক্ষতির মুখে পড়েছে। জেলা উদ্যানপালন দফতরের ডেপুটি ডিরেক্টর দীপক ষড়ঙ্গী বলেন, ‘‘ব্লক আধিকারিকদের থেকে রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে।’’
দুর্গাপুজোর সময় কলকাতার মল্লিকঘাট ফুলবাজার ভরে থাকে মূলত পূর্ব মেদিনীপুরের ফুলের জোগানেই। আগামী কয়েক সপ্তাহ আবহাওয়া থাকে তার উপরই নির্ভর করবে কলকাতার বাজারে ফুলের দাম, জানাচ্ছেন ফুল ব্যবসায়ীরা। মল্লিকঘাট ফুলবাজারের ব্যবসায়ী ভোলানাথ সাউ বলেন, ‘‘ঝড়ে পূর্ব মেদিনীপুরের ফুলবাগানে ক্ষতি হয়েছে। যদি আর দুর্যোগ না হয়, তা হলে পুজোতে ফুলের জোগান ঠিকই থাকবে।’’ সারা বাংলা ফুলচাষি ও ফুল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নারায়ণচন্দ্র নায়ক বলেন, ‘‘পুজোকে মাথায় রেখে নতুন করে বাগান তৈরি করছেন চাষিরা।’’ তবে এই বৃষ্টি জেলায় পদ্ম চাষের পক্ষে সহায়ক হয়েছে বলেই জানাচ্ছেন চাষিরা।