CV Ananda Bose and Droupadi Murmu

খেলা কখন শেষ করতে হবে, তা জানতে হয়: ইস্তফা প্রসঙ্গে আনন্দ বোস! রাষ্ট্রপতি-বিতর্ক এড়িয়ে বললেন, কোনও মন্তব্য করব না

সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন আনন্দ বোস। তাঁর আচমকা ইস্তফা ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে বিস্তর আলোচনা শুরু হয়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এ নিয়ে সরব হন।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৮ মার্চ ২০২৬ ১৫:২৯
Share:

(বাঁ দিকে) পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস এবং রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। —ফাইল চিত্র।

পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালের পদ থেকে ভেবেচিন্তেই ইস্তফা দিয়েছেন। কলকাতায় ফিরে এমনটাই জানালেন বিদায়ী রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। তাঁর দাবি, ইস্তফা দেওয়ার জন্য এটিই সঠিক সময় বলে তাঁর মনে হয়েছে। তবে কেন ইস্তফা, সেই কারণ আপাতত গোপন রাখতে চান তিনি। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে রাষ্ট্রপতিকে ঘিরে বিতর্ক থেকেও দূরত্ব রেখেই রবিবার মুখ খোলেন প্রাক্তন রাজ্যপাল।

Advertisement

রাষ্ট্রপতি মুর্মুর উত্তরবঙ্গ সফর এবং তাঁর মন্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন সংঘাতে জড়িয়েছে তৃণমূল এবং বিজেপি। সেই সংঘাতের আঁচ ছড়িয়েছে দিল্লিতেও। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে শুরু করে কেন্দ্রের প্রথম সারির মন্ত্রীরা এ নিয়ে মন্তব্য করেছেন। রাজ্য সরকার তথা রাজ্যের শাসকদল তৃণমূলকে একযোগে নিশানা শানাচ্ছে বিজেপি। নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলের দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও সরব হয়েছেন। তবে দিল্লি থেকে কলকাতায় ফিরে এই বিতর্ক থেকে নিজেকে দূরেই রাখলেন আনন্দ বোস। তিনি বলেন, “বিদায়ী রাজ্যপাল হিসাবে আমার এ প্রসঙ্গে মন্তব্য করা উচিত নয়।”

দমদম বিমানবন্দর চত্বরে রাষ্ট্রপতিকে ঘিরে বিতর্ক নিয়ে প্রশ্ন করা হয় আনন্দ বোসকে। রাষ্ট্রপতি যে আদিবাসী সমাজের প্রতিনিধি, সে কথা উল্লেখ করে সাম্প্রতিক বিতর্ক নিয়ে বোসের প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হয়। জবাবে তিনি বলেন, “আমি আপনার প্রশ্ন শুনলাম। তবে আমার এ বিষয়ে আর কিছু বলার নেই।” পরে তিনি আরও বলেন, “আমাদের রাষ্ট্রপতি খুবই অভিজ্ঞ, নিরপেক্ষ এবং সম্মাননীয় মহিলা। তাঁর ওই মন্তব্যের নিজস্ব কোনও কারণ রয়েছে। রাষ্ট্রপতি কী বলেছেন, তার প্রেক্ষিতে মন্তব্য করার আমি কেউ নই।”

Advertisement

সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন আনন্দ বোস। তাঁর আচমকা ইস্তফা ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে বিস্তর আলোচনা শুরু হয়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এ নিয়ে সরব হন। রাজ্যপালের পদ থেকে আনন্দ বোসের আচমকা ইস্তফার নেপথ্যে রাজনৈতিক অভিসন্ধি থাকতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী সমাজমাধ্যমে লেখেন, ‘‘রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে কিছু রাজনৈতিক স্বার্থরক্ষার জন্য রাজ্যপাল যদি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর চাপের মুখে পড়েন, তবে আমি অবাক হব না।’’ রাজনৈতিক চাপের সেই অভিযোগ প্রসঙ্গেও কোনও মন্তব্য করতে চাননি বোস। তাঁর দাবি, এ বিষয়ে তাঁর কিছু বলার নেই। বোসের কথায়, “দেয়ার ইজ় নো অ্যাকশন, দেয়ার ইজ় নো রিঅ্যাকশন।”

রাজ্যপালের পদ থেকে আনন্দ বোসের ইস্তফার খবর যখন প্রকাশ্যে আসে, তখন তিনি দিল্লিতে। তবে বোসের দাবি, তিনি কলকাতায় বসেই ইস্তফা দিয়েছেন। দিল্লিতে যাওয়ার পরে নয়। তিনি বলেন, “আমি দিল্লি গিয়েছিলাম। আবার দিল্লিতে যাব।” বোসের দাবি, রাজ্যপালের পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার জন্য এটিই সঠিক সময় বলে তিনি মনে করছেন।

ইস্তফার সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে বোস বলেন, “খেলায় একটা নিয়ম আছে। খেলার নিয়ম হল, কখন তা শেষ করতে হবে সেটা জেনে রাখা। রাজ্যপাল হিসাবে যখন এসেছি, তখন এই পদ থেকে কোনও না কোনও সময় সরতেই হত। আমাকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, ইস্তফা দেওয়াই শ্রেয়।” তবে একই সঙ্গে তিনি এ-ও বলেন, “কেন এই সিদ্ধান্ত, তা সঠিক সময় না-আসা পর্যন্ত গোপনই থাকবে।” রাজ্যপাল পদে থাকাকালীন পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় নাম তুলিয়েছেন তিনি। এখন তিনি পশ্চিমবঙ্গের ভোটার। আনন্দ বোস জানান, তিনি আগামী দিনে ভোট দিতে আসবেন পশ্চিমবঙ্গে। তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের ভোটার হিসাবে আমি গর্বিত।”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement