Wetlands

জলাজমি ভরাট করে আবাসন, প্রতিবাদে পথ অবরোধ হাওড়ায়

২০২১ সাল থেকে ১১৬ নম্বর জাতীয় সড়কের পাকুড়িয়া এলাকায় প্রায় ১০০ বিঘা জলাজমির ভিতরে থাকা ২১টি পুকুর ধীরে ধীরে মাটি ফেলে বুজিয়ে সেখানে আধুনিক টাউনশিপ তৈরির কাজ শুরু করে একটি নির্মাণকারী সংস্থা।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৭:৪০
Share:

—প্রতীকী চিত্র।

হাওড়া পুরসভার ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের কোনা পর্বতপাড়ার ১২ কাঠা পুকুরই শুধু নয়, এ বার পাকুড়িয়া এলাকার জাতীয় সড়কের পাশে প্রায় ১০০ বিঘা জলাজমি বুজিয়ে আবাসন তৈরির অভিযোগ উঠল। অভিযোগ, ওই জলাজমি ভরাটের জন্য আশপাশের পাঁচটি গ্রামের নিকাশি ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। মঙ্গলবার ভোরের সামান্য বৃষ্টিতেই জল জমেছে এলাকায়। অবিলম্বে জলাজমিটি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে এ দিন সকাল থেকে উত্তাল হয়ে ওঠে পাকুড়িয়া এলাকা। স্থানীয় একসরার পাঁচটি এলাকার পুরুষ-মহিলারা জড়ো হয়ে কিছু ক্ষণের জন্য জাতীয় সড়ক অবরোধের পাশাপাশি যে সংস্থাটি আধুনিক টাউনশিপ তৈরি করছে, সেই সংস্থার গেট বন্ধ করে দিয়ে, টায়ার জ্বালিয়ে অবস্থান-বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে বিশাল পুলিশবাহিনী এসে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিলে বিক্ষোভ উঠে যায়।

২০২১ সাল থেকে ১১৬ নম্বর জাতীয় সড়কের পাকুড়িয়া এলাকায় প্রায় ১০০ বিঘা জলাজমির ভিতরে থাকা ২১টি পুকুর ধীরে ধীরে মাটি ফেলে বুজিয়ে সেখানে আধুনিক টাউনশিপ তৈরির কাজ শুরু করে একটি নির্মাণকারী সংস্থা। প্রথমে ডাম্পারে করে নিচু জমিতে মাটি ফেলার কাজ শুরু হলে এলাকার বাসিন্দারা প্রতিবাদ করেননি। কিন্তু তার পরে রাতের অন্ধকারে একের পর এক ঝিল, পুকুর, ডোবা বোজানোর কাজ শুরু হওয়ার পরেই এলাকার লোকজন প্রতিবাদ করতে শুরু করেন। তার পর থেকে প্রতি বর্ষায় একসরার পাঁচটি এলাকা প্রায় চার মাস ধরে জলমগ্ন হয়ে থাকে। এলাকার লোকজন দফায় দফায় স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক কল্যাণ ঘোষ, চামরাইল গ্রাম পঞ্চায়েত, জেলা প্রশাসনের পদাধিকারীদের কাছে এ নিয়ে লিখিত অভিযোগ জানিয়ে অবিলম্বে জলাজমি ভরাটের কাজ বন্ধ করার আবেদন জানান। কিন্তু অভিযোগ, কোনও লাভ হয়নি। অবাধে ওই জলাজমি ভরাটের কাজ হতে থাকে।

এলাকার বাসিন্দাদের আরও অভিযোগ, জমি ভরাট হয়ে গেলে নির্মাণকারী সংস্থার সঙ্গে কাঠা প্রতি ১ লক্ষ টাকা পাওয়ার চুক্তিতে তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিদের একাংশ এই কাজে সরাসরি যুক্ত রয়েছেন। তাই প্রতিবাদ করতে গেলে উল্টে জেল, জরিমানার মুখে পড়ছেন এলাকাবাসীরা। স্থানীয় বাসিন্দা মানিক সরকার, আকাশ মল্লিক, নজরুল মল্লিকদের অভিযোগ, ‘‘টাউনশিপ তৈরির করতে গিয়ে ২১টি পুকুর বুজিয়ে ফেলে গোটা এলাকার নিকাশি ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই জলমগ্ন হয়ে পড়ছে গোটা এলাকা। তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিদের একাংশ এই ভরাটের কাজে জড়িত। এই কাজ অবিলম্বে বন্ধ না হলে আমরা আরও বড় আন্দোলনে নামব।’’

যদিও বাসিন্দাদের এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন তৃণমূলের চামরাইল গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান ঊর্মিলা বাড়ুই। তিনি বলেন, ‘‘ওই জায়গায় জলাজমি ভরাট হচ্ছে না। একসরা অঞ্চলটি নিচু এলাকা। অন্য দিকে, জাতীয় সড়ক অনেক উঁচুতে। জাতীয় সড়কের নীচ দিয়ে নিকাশির পাইপ না বসানোয় এলাকার জল নিকাশি খালে গিয়ে মিশতে পারছে না। তাই জল দাঁড়িয়ে থাকছে। যাঁরা তৃণমূলের একাংশের বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ করছেন, তাঁরাই এ সব প্রতিবাদের নাটক করে তোলাবাজির সঙ্গে জড়িত।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন