নামমাত্র প্লাস্টিক চাপা দিয়ে ডাম্পারে করে যাচ্ছে বালি। নিজস্ব চিত্র।
পর পর বালিবোঝাই ডাম্পার চলেছে মুম্বই রোড ধরে। তা থেকে রাশি রাশি বালি উড়ছে। হাওড়ায় ওই জাতীয় সড়কে এ দৃশ্য প্রতিদিন দেখা যায়। সমস্যায় পড়ছেন মোটরবাইক বা স্কুটার আরোহীরা। দুর্ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ। এমনকি, ওই সড়কের পাশের বাড়ি-দোকানেও বালি ঢুকে যাচ্ছে। তবু পরিবহণ দফতর বা পুলিশ প্রশাসন কোনও ব্যবস্থা নেয় না বলে অভিযোগ।
হাওড়া গ্রামীণ পুলিশের ট্র্যাফিক বিভাগের এক কর্তার দাবি, ঢাকা না দেওয়া বালিবোঝাই ডাম্পার দেখলে চালকদের সতর্ক এবং জরিমানাও করা হয়। তাঁর আশ্বাস, ‘‘নজরদারি বাড়ানো হবে। শীঘ্রই ডাম্পার চালক ও মালিকদের নিয়ে একটি বৈঠক করে সতর্কও করা হবে।’’
উলুবেড়িয়ার সহকারী আঞ্চলিক পরিবহণ দফতরের অধিকর্তা রবীন্দ্রনাথ বিশ্বাস বলেন, ‘‘বালি উড়ে রাস্তায় পড়লে খুবই বিপজ্জনক। পরিবহণ দফতরের পক্ষ থেকে মাঝেমধ্যেই নজরদারি চালানো হয়। আরও বেশি নজরদারি চালানো হবে। ঢাকা না দিয়ে কোনও ডাম্পার যদি বালি নিয়ে যায় বা অতিরিক্ত বালি বহন করে, তা হলে জরিমানা করা হবে।’’
বাইক আরোহীদের অভিযোগ, মুম্বই রোড দিয়ে গেলেই বালি উড়ে চোখে পড়ে। বালি ঢাকতে ডাম্পারের মাথায় এক চিলতে প্লাস্টিক বাঁধা হয় ঠিকই। কিন্তু তা কাজে আসে না। প্রতিদিন শত শত ডাম্পার অতিরিক্ত বালি নিয়ে যায়। রাস্তায় ডাম্পার ঝাঁকুনি খেলেই বালি রাস্তায় পড়েও যায়।
সমস্যার সুরাহা কবে হবে, জানেন না মুম্বই রোডের পাশে বসবাসকারী লোকজন এবং বাইক আরোহীরা। তাঁদের অভিযোগ, সমস্ত বিষয়টি পুলিশ এবং পরিবহণ দফতরকে জানানো হলেও কোনও পদক্ষেপ হয়নি।
বাগনানের বাসিন্দা শেখ আনোয়ার বলেন, ‘‘বাইক নিয়ে মুম্বই রোডে যাতায়াত করাই সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ডাম্পার থেকে বালি উড়তে থাকে। বাইক আরোহীদের চোখে ঢুকলে চোখ জ্বালা করতে থাকে। প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে।’’
সূত্রের খবর, রূপনারায়ণ ও দামোদর নদের একাধিক জায়গা থেকে বালি তোলা হচ্ছে। সেই বালি বিভিন্ন কারখানা বা বহুতল তৈরির জন্য নিচু জমি ভরাট করতে ডাম্পারে করে নিয়ে যাওয়া হয়। বালি ব্যবসায় যুক্ত এক ব্যক্তির বক্তব্য, ‘‘ডাম্পার চালকদের বার বার বলা হয়, সম্পূর্ণ ঢেকে তবেই বালি নিয়ে যাতায়াত করতে। অনেকে তা করেন। হয় তো অনেকে প্লাস্টিক ভাল ভাবে না বাঁধায় হাওয়ায় খুলে যায়। ফের ওঁদের সতর্ক করা হবে।’’
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে