নদীর ভাঙন। কুন্তীঘাটের রামনগরে মাঝের পাড়ায়। — নিজস্ব চিত্র।
গঙ্গার ভাঙনে উদ্বেগ ছিলই। এ বার বলাগড়ে গঙ্গার শাখানদী কুন্তীর ভাঙনেও দুশ্চিন্তা বাড়ল গ্রামবাসীর। কুন্তীঘাটে ঝুলন্ত সেতু থেকে তিনশো মিটারের বেশি এলাকা জুড়ে দিন সাতেক ধরে ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙন ঠেকাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে এলাকার মানুষজন প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন।
প্রশাসনের কর্তারা জানিয়েছেন, সমস্যার কথা তাঁরা জেনেছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন চুঁচুড়ার মহকুমাশাসক মধুশ্রী।
স্থানীয়েরা জানান, রামনগর মাঝেরপাড়ায় দিন কয়েক ধরে কুন্তী নদীর পাড়ে ভাঙনের জেরে পাঁচ-ছ’টি বাড়ির দেওয়ালে এবং স্থানীয় প্রাথমিক স্কুলে ফাটল দেখা দিয়েছে। নদীর একটি ঘাটের একাংশওভেঙে গিয়েছে।
বলাগড়ের ন’টি পঞ্চায়েত গঙ্গা ভাঙনের কবলে। এ বারে বর্ষার শুরু থেকেই গঙ্গা ভয়ঙ্কর রূপ নিয়েছে। কিছু দিন আগে জিরাটের খাসের চর এলাকায় ভাঙন দেখা দেয়। এ বার কুন্তীপারের বাসিন্দারাও ভাঙনের কবলে। তাঁরা জানান, দু’বছর আগে কুন্তীর অপর প্রান্তে ভাঙন দেখা দিয়েছিল। শালবল্লা দিয়ে ভাঙন রোধ করা হয়। এলাকাবাসীর দাবি, এ বারের ভাঙনের বহর তার চেয়ে অনেকটাই বেশি। তাঁদের বক্তব্য, গঙ্গায় জল বাড়ায় তার প্রভাব পড়ছে কুন্তীতে। তার ফলেই এই পরিস্থিতি। অবিলম্বে ঠেকানো না গেলে ভাঙন ভয়াবহ আকার নেবে বলেতাঁদের আশঙ্কা।
বলাগড় বিধানসভার ডুমুরদহ নিত্যানন্দপুর ২ এবং চন্দ্রহাটি ১ পঞ্চায়েত এলাকার উপর দিয়ে কুন্তী বয়ে গিয়েছে। নদীর ধার বরাবর দু’শোর বেশি বাড়ি রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা শম্পা হালদার বলেন, ‘‘বাড়িতে শ্বশুর-শাশুড়ি অসুস্থ। এক মেয়ে। স্বামী দিনমজুরের কাজ করে। ঋণ নিয়ে কোনওক্রমে বাড়ি করছে। এখনও তা শেষ হয়নি। তার মধ্যেই শৌচালয় ভাঙনে ভেঙে গিয়েছে। আদৌ বাড়িটা থাকবে কি না, তা নিয়ে চিন্তায় রয়েছি।’’
সম্প্রতি জেলাশাসক-সহ প্রশাসনের নানা বিভাগে বিষয়টি জানানো হয় এলাকাবাসীর তরফে। ভাঙন মেরামতে দ্রুত পদক্ষেপের আবেদন জানানো হয়।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে