নবরূপে: সেজে উঠেছে ভবন। নিজস্ব চিত্র
সব প্রতীক্ষার অবসান। কোনও এক সময়ের ‘বিপজ্জনক ভুতূড়ে বাড়ি’ আজ আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে নব কলেবরে। তার হাত ধরেই হুগলির গঙ্গাপাড়ের শহর শ্রীরামপুর ফিরে যাচ্ছে সেই ১৭৮৬ সালে। শ্রীরামপুর শহরে ড্যানিশ উপনিবেশের সরাইখানা ‘ডেনমার্ক ট্যাভার্ন’-এর উদ্বোধন আজ। উদ্বোধনে আসছেন রাজ্যের পর্যটন এবং তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের প্রতিমন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। ডেনমার্ক, নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড এবং সুইডেনের রাষ্ট্রদূতেরাও হাজির থাকবেন অনুষ্ঠানে।
১৭৫৫ থেকে ১৮৪৫ সাল পর্যন্ত শ্রীরামপুরে ডেনমার্কের উপনিবেশ ছিল। ডেনমার্ক শাসকদের হাত ধরে গভর্নমেন্ট হাউজ, সেন্ট ওলাভ গির্জা, ট্যাভার্ন-সহ বিভিন্ন স্থাপত্য গড়ে উঠেছিল সেই সময়। ডেনমার্কের রাজা ষষ্ঠ ফ্রেডারিকের সনদবলে ১৮২৭ সালে শ্রীরামপুর কলেজ ধর্মতত্বের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিরোপা পায়। কয়েক বছর আগে ডেনমার্কের জাতীয় মিউজিয়ামের সঙ্গে এ রাজ্যের হেরিটেজ কমিশন এবং প্রশাসনের সঙ্গে একটি মৌ-স্বাক্ষরিত হয়। সেই অনুযায়ী শ্রীরামপুরে ড্যানিশ আমলের জীর্ণ স্থাপত্যগুলি সংস্কার শুরু হয় ড্যানিশদের অর্থানুকূল্যে। সেই সময় স্থাপত্যগুলির চেহারা যেমন ছিল, অবিকল সেই আদলে সংস্কারের কাজ শুরু হয়। ট্যাভার্ন সংস্কার আরম্ভ হয়েছিল ২০১৫ সালের ৬ অক্টোবর। সেই কাজই শেষ হয়েছে।
ডেনমার্কের জাতীয় মিউজিয়ামের কিউরেটর বেনতে উলফ জানান, উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বিকেল সাড়ে ৩টেয়। তার আগে দ্বিশতবর্ষ উপলক্ষে শ্রীরামপুর কলেজে এক অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন বিদেশী রাষ্ট্রদূতরা। বিশেষ লঞ্চে গঙ্গাবক্ষে তাঁরা শ্রীরামপুরে আসবেন। শুধু ট্যাভার্নই নয়, আদালত চত্বরে ক্যান্টিনও স্বমহিমায় ফিরেছে। আজ, ওই ক্যান্টিনেরও উদ্বোধন হবে। খাবার বিক্রির ব্যবস্থা থাকবে সেখানে। রাজ্য পর্যটন দফতরের উদ্যোগে দ্বিতল ট্যাভার্নে ক্যাফে এবং
রেস্তোঁরা থাকছে।
গভর্নমেন্ট কম্পাউন্ডে ঢোকার জন্য দু’টি গেট ছিল। একটি দক্ষিণে (সাউথ গোট), অন্যটি উত্তরে (নর্থ গেট)। নর্থ গেটটি জৌলুস হারিয়েছিল। সেটি ডেনিশ-যুগের আদলে সংস্কার করা হয়েছে। আর শ্রীরামপুর থানার পাশে সাউথ গেট দীর্ঘদিন যাবৎ বন্ধ ছিল। সেটিও সংস্কারের পরে খুলে দেওয়া হচ্ছে। সাউথ গেট লাগোয়া দু’টি ঘরও সংস্কার করা হয়েছে।সাউথ গেট সংলগ্ন জায়গা সাজানো হয়েছে।
স্থানীয় কাউন্সিলর সন্তোষ সিংহ জানান, ওই জায়গায় বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মানুষ এসে বসতে পারবেন। সেন্ট ওলাভ গির্জার সামনে পার্কটি কার্যত ঢাকা পড়ে গিয়েছিল। সেটি নতুন করে সাজানো হয়েছে। মহকুমাশাসক (শ্রীরামপুর) রজত নন্দা জানান, গভর্নমেন্ট হাউজ (যে ভবনে বসে ড্যানিশ শাসকরা রাজ্যপাট চালাতেন। পরবর্তী কালে মহকুমাশাসকের দফতর ছিল। সংস্কারের কাজ শেষ পর্যায়ে। মে মাসের মধ্যে কাজ শেষ হয়ে যাবে।
শহর পুরনো চেহারায় ফেরায় শ্রীরামপুরবাসী খুশি। শহরের প্রবীন বাসিন্দা অসিত দত্ত স্থানীয় ইতিহাস নিয়ে চর্চা করেন। অশীতিপর মানুষটির কথায়, ‘‘যে জায়গাগুলো সাপখোপের আস্তানা হয়ে উঠেছিল, সেগুলো স্বমহিমায় ফিরছে। এর থেকে ভাল কী হতে পারে!’’ শহরবাসী বলছেন, টাইম মেশিনে চড়ে সত্যিই পুরনো আমলে ফিরছে শহর শ্রীরামপুর। যেখানে বর্তমান চলবে অতীতের সঙ্গে হাত ধরাধরি করে।