টোটোর ধাক্কায় মৃত্যু বালিকার

পুলিশ সূত্রের খবর, কুলিলাইনে এক নম্বর শ্রমিক বস্তির বাসিন্দা শিবকুমার গৌতমের মেয়ে রেশমী স্থানীয় একটি স্কুলে পড়ত।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১২ জুলাই ২০১৮ ০১:৫৩
Share:

রেশমী কুমারী

আট বছরের মেয়ে স্কুল থেকে ফিরছে না দেখে দুশ্চিন্তা হচ্ছিল মায়ের। বারবার রাস্তায় গিয়ে দেখছিলেন, মেয়ে ফিরছে কি না। শেষে পরিচিতদের থেকে শুনলেন, বাড়ির কিছুটা দূরেই রাস্তায় পড়ে রয়েছে মেয়ে। টোটো ধাক্কা মেরেছে তাকে।

Advertisement

মা গিয়ে দেখেন, অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে রয়েছে তৃতীয় শ্রেণির ওই পড়ুয়া। স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বুধবার দুপুরে ঘটনাটি ঘটেছে বেলুড়ের গিরিশ ঘোষ রোডের কুলিলাইন মোড়ে। ম়ৃতার নাম রেশমী কুমারী।

পুলিশ সূত্রের খবর, কুলিলাইনে এক নম্বর শ্রমিক বস্তির বাসিন্দা শিবকুমার গৌতমের মেয়ে রেশমী স্থানীয় একটি স্কুলে পড়ত। এ দিন বিকেল তিনটে নাগাদ স্কুল থেকে একাই ফিরছিল সে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, কুলিলাইন মোড়ের কাছে দৌড়ে রাস্তা পার হতে যায় মেয়েটি। তখনই একটি টোটো তাকে ধাক্কা মারে। রাস্তায় পড়ে গেলে রেশমীর উপর দিয়েই চলে যায় টোটোটি। তবে কিছুটা দূরে গিয়ে দাঁড়িয়ে যান টোটোচালক।

Advertisement

ছুটে আসেন লোকজন। খবর যায় রেশমীর বাড়িতে। বাবা শিবকুমার গৌতম বলেন, ‘‘কারখানায় কাজ করছিলাম। এক জন গিয়ে খবর দিল। হাসপাতালে এসে দেখি, সব শেষ।’’ চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, বুকে ও পেটে জোরে আঘাত লাগার ফলেই মৃত্যু হয়েছে রেশমীর।

গত বছর ওই এলাকাতেই টোটোর ধাক্কায় এক বালকের মৃত্যু হয়েছিল। সে সময়ে প্রশাসন আশ্বাস দিয়েছিল, বেপরোয়া টোটো নিয়ন্ত্রণ করা হবে। এ দিনও বেপরোয়া টোটো নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের কয়েক জন বলেছেন, মেয়েটি ছুটে রাস্তা পার হতে গিয়েই বিপত্তি ঘটিয়েছে। পুলিশ অবশ্য ওই টোটোটি আটক করে চালকের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত ভাবে মৃত্যু ঘটানোর অভিযোগ দায়ের করেছে। হাওড়া সিটি পুলিশের এক কর্তা বলেন, ‘‘টোটো নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement