তারকেশ্বর ডিগ্রি কলেজ

সভাপতি মনোনয়ন নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় তদন্ত

কয়েক সপ্তাহ আগে নিজের বাড়িতে দলীয় বৈঠকে যে নেতার নাম করে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তারকেশ্বরের সেই উপ-পুরপ্রধান উত্তম কুণ্ডুকে ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ অব্যাহত। তাঁকে নিয়ে নয়া অভিযোগ, বেআইনি ভাবে তারকেশ্বর ডিগ্রি কলেজের পরিচালন সমিতিতে ঢুকে সভাপতি বনে যাওয়া। এই মর্মে ওই কলেজের পরিচালন সমিতির একাংশ বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে অভিযোগও জানিয়েছে। তবে, শুধু কলেজের অন্দরেই নয়, ওই পদে তাঁর মনোনয়ন নিয়ে দলের ভিতরেও প্রশ্ন উঠেছে।

Advertisement

প্রকাশ পাল

শেষ আপডেট: ১৮ জানুয়ারি ২০১৬ ০১:৫৬
Share:

কোনও ওষুধেই কাজ হচ্ছে না!

Advertisement

কয়েক সপ্তাহ আগে নিজের বাড়িতে দলীয় বৈঠকে যে নেতার নাম করে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তারকেশ্বরের সেই উপ-পুরপ্রধান উত্তম কুণ্ডুকে ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ অব্যাহত। তাঁকে নিয়ে নয়া অভিযোগ, বেআইনি ভাবে তারকেশ্বর ডিগ্রি কলেজের পরিচালন সমিতিতে ঢুকে সভাপতি বনে যাওয়া। এই মর্মে ওই কলেজের পরিচালন সমিতির একাংশ বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে অভিযোগও জানিয়েছে। তবে, শুধু কলেজের অন্দরেই নয়, ওই পদে তাঁর মনোনয়ন নিয়ে দলের ভিতরেও প্রশ্ন উঠেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তরফে অবশ্য জানানো হয়, সভাপতি ঠিক করা নিয়ে তাঁদের কোনও ভূমিকা নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ সমূহের ভারপ্রাপ্ত পরিদর্শক সুজিত চৌধুরী জানান, অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Advertisement

উত্তমবাবু অবশ্য দাবি করেছেন, ‘‘অকারণে বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে। অনিয়মের প্রশ্নই নেই।’’ একই দাবি অধ্যক্ষ অমলকান্তি হাটিরও। তিনি বলেন, ‘‘যা হয়েছে তা নিয়ম মেনেই। এর বেশি কিছু বলা যাবে না।’’

গত দু’বার ওই কলেজের সভাপতি ছিলেন তারকেশ্বরের পুরপ্রধান স্বপন সামন্ত। এ বার তাঁর জায়গায় সভাপতি পদে মনোনীত হন উত্তমবাবু। গোটা প্রক্রিয়া নিয়েই অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

সাহায্য করেছে এমন কিছু প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তি কলেজের দাতা-সদস্য (ডোনার-মেম্বার) হিসেবে বিবেচিত হন। পুরসভা এর অন্যতম। স্বপনবাবু দু’দফায় ৬ বছর সভাপতির ওই দায়িত্ব সামলেছেন। এ বার ‘তারকেশ্বর মিউনিসিপ্যাল এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশন’ নামে পুরকর্মীদের একটি সংগঠন পরিচালন সমিতির সদস্য হিসেবে উত্তমবাবুর নাম পাঠায়। অভিযোগ, ২০১১ সালে গঠিত ওই সংগঠনটি আদৌ দাতা-সদস্য নয়। ফলে, তাদের তরফে কেউ পরিচালন সমিতিতে ঢুকতে পারেন না। কলেজ কর্তৃপক্ষ অবশ্য ওই সংগঠনের আবেদনক্রমে উত্তমকে সমিতির সদস্য করে নেন। তৃণমূলের জেলা বা রাজ্য নেতৃত্বের কানে বিষয়টি পৌঁছলেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। স্রেফ চোখকান বুজে থাকেন তাঁরা।

কলেজ সূত্রের খবর, পুরকর্মীদের সংগঠন ‘তারকেশ্বর মিউনিসিপ্যালিটি ওয়ার্কার্স অ্যান্ড এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন’ কলেজের ডোনার-মেম্বার। ওই সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে, এ বার তারা পরিচালন সমিতিতে কারও নাম পাঠায়নি।

দিন কুড়ি আগে সভাপতি পদে স্বপনবাবুর সঙ্গে উত্তমের ভোটাভুটির পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরে আলোচনার মাধ্যমে উত্তমের নাম ঠিক হয়। সরকারি প্রতিনিধি তথা ‘উত্তম ঘনিষ্ঠ’ হিসেবে পরিচিত তৃণমূল কাউন্সিলর মহম্মদ নইম ওই পদে উত্তমের নাম প্রস্তাব করেন। এতে চাপান-উতোর বাড়ে। ওই পদে উত্তমবাবুর বসার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর এবং কলেজ সমূহের পরিদর্শককে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়।

উত্তমের ‘কাজকর্মে’ বারেবারেই বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে তাঁর দলকে। বিরোধীরা বলছেন, তৃণমূলের নীতি-নৈতিকতা যে কিছুই নেই, এটি তার নয়া নজির। পুরপ্রধান স্বপনবাবু অবশ্য সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি। তিনি বলেন, ‘‘কিছু জানার থাকলে দলের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জিজ্ঞাসা করুন।’’

কিন্তু উত্তমবাবুকে যে সভাপতি করা হয়েছে, তাতে কলেজ-শিক্ষকদের একাংশ অসন্তুষ্ট। তাঁরা জানিয়েছেন, ওই পদে উত্তমবাবুর নিয়োগ অবৈধ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, ‘‘রিটার্নিং অফিসার হিসেবে অধ্যক্ষ উত্তমকে পরিচালন সমিতিতে ঢোকানোর সিদ্ধান্ত নেন। বিষয়টি কানে আসার পরে অধ্যক্ষকে বলি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে কথা বলতে। অধ্যক্ষ জানিয়ে দেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে কলেজকেই সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়েছে।’’ অন্য এক শিক্ষক বলেন, ‘‘অনিয়ম দেখছি চোখের সামনে। কিন্তু ভয়ে কিছু বলতে পারি না।’’

দুষ্কৃতীর মৃত্যু। এক দুষ্কৃতীকে অনিচ্ছাকৃত খুনের অভিযোগ উঠল তার নাবালক ছেলের বিরুদ্ধে। শনিবার বিকেলে হুগলির শ্রীরামপুরের ৪ নম্বর কলোনির ঘটনা। মৃতের নাম দেবাশিস মালিক ওরফে ট্যাম (৩৭)। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতের বিরুদ্ধে পুলিশের খাতায় অনেক অভিযোগ রয়েছে। সে মাঝেমধ্যেই মদ্যপ অবস্থায় স্ত্রীর উপর চড়াও হত। শনিবার সেই নিয়ে গোলমালের জেরেই ট্যাম জখম হয়। প্রথমে তাকে শ্রীরামপুর ওয়ালশ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement
Advertisement