Juvenile jailed

বিচারে ত্রুটি, ১৪ বছর কারাবাস ‘নাবালকের’

কোর্টের খবর, ২০১১ সালে স্ত্রীকে খুন করার অভিযোগে গ্রেফতার হয় বীরভূম ধনঞ্জয়পুরের বাসিন্দা নবতুল শেখ।

সব্যসাচী ভট্টাচার্য

শেষ আপডেট: ০৭ মার্চ ২০২৬ ০৮:২৯
Share:

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

নাবালক অপরাধী হওয়ায় সর্বোচ্চ ৭ বছর হোমে থাকার কথা ছিল। কিন্তু নাবালকত্বের বিচার না-করেই বীরভূমের এক বাসিন্দাকে বধূ হত্যার মামলায় কারাবাসের সাজা দিয়েছিল রামপুরহাট কোর্ট। অবশেষে কলকাতা হাই কোর্ট থেকে ছাড়া পেয়েছে সে। তবে এরই মধ্যে প্রায় সাড়ে ১৪ বছর জেলে কাটাতে হয়েছে বীরভূমের মুরারইয়ের বাসিন্দা নবতুল শেখকে। হাই কোর্টের বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা এবং বিচারপতি রাই চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, কোনও নাবালক অপরাধীকে সাত বছরের বেশি সাজা দেওয়া যায় না। কিন্তু ১৪ বছরের বেশি জেলে কাটিয়েছে অভিযুক্ত। তাই অন্য কোনও মামলায় অভিযুক্ত না-হলে তাকে জেল থেকে মুক্তি দিতে হবে।

কোর্টের খবর, ২০১১ সালে স্ত্রীকে খুন করার অভিযোগে গ্রেফতার হয় বীরভূম ধনঞ্জয়পুরের বাসিন্দা নবতুল শেখ। ২০১৩ সালে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন বীরভূম রামপুরহাটের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক। সেই রায়ের বিরুদ্ধে নবতুল হাই কোর্টে আবেদন করলেও কোনও আইনজীবী নিয়োগ করতে পারেনি। তাই মামলার শুনানি হয়নি। শেষমেশ লিগ্যাল এড সার্ভিসেস-এর মাধ্যমে আইনজীবী পাওয়ায় ২০২৫ সালে মামলার শুনানি শুরু হয়। নবতুলের আইনজীবী অচিন জানা, প্রসেনজিৎ ঘোষ এবং চেতনা রাস্তোগি অভিযোগ করেন যে নিম্ন আদালত নবতুলের বয়স নির্ধারণ না করেই সাজা দিয়েছে। বয়সের প্রমাণ হিসাবে নবতুলের স্কুলের শংসাপত্র-সহ বিভিন্ন নথিও পেশ করেন আইনজীবীরা।

হাই কোর্টের নির্দেশে নবতুলের অসিফিকেশন টেস্ট (হাড় পরীক্ষা করে বয়স নির্ধারণ) করে নিম্ন আদালত। সম্প্রতি সেই রিপোর্ট কোর্টে জমা পড়ে এবং তা থেকেই জানা যায়, ২০১১ সালে ঘটনার সময় নবতুলের বয়স ছিল ১৫ বছর ৯ দিন। উল্লেখ্য, এর আগে মামলার শুনানিতে রামপুরহাটের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারকের ভূমিকায় উষ্মা প্রকাশ করেছিল হাই কোর্ট। বয়স নিয়ে সন্দেহ থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় নথি যাচাই বা বয়স নির্ধারণের ক্ষেত্রে পরীক্ষা কেন করা হয়নি, প্রশ্ন তোলেন বিচারপতিরা। পুনরায় নথি যাচাইয়ের নির্দেশও উপেক্ষা করেছিল রামপুরহাট কোর্ট। তাই ওই কোর্টের বিচারককে ‘শো-কজ়’ করেছিল হাই কোর্ট।

নবতুলের আইনজীবী অচিন জানা বলেন, “এমন নানা মামলায় পুলিশি তদন্তের গাফিলতি এবং নিম্ন আদালতের পদ্ধতিগত ত্রুটির ফলে অভিযুক্ত এবং মামলাকারীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এ ক্ষেত্রেই যেমন নবতুলকে সাত বছরের বদলে ১৪ বছর বন্দি থাকতে হল!” অচিনের দাবি, এই ধরনের ত্রুটি সংশোধন করা গেলে ন্যায্য বিচার দেওয়া সম্ভব।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন