Anandapur Fire Incident

‘বাবার শেষকৃত্য করতে পেরেছি, অন্তত এইটুকু শান্তি পেলাম’

অগ্নিকাণ্ডের প্রায় ২৫ দিন পরে, শনিবার সেই দেহ নিয়েই এলাকায় ফিরল বাসুদেবের পরিবার। দেহাংশ হস্তান্তরের জন্য এ দিন দুপুরে কাঁটাপুকুর মর্গে ডাকা হয়েছিল পরিবারের সদস্যদের। তবে, দেহাংশ হাতে পেতে সন্ধ্যা গড়িয়ে যায়।

সমীরণ দাস 

শেষ আপডেট: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৭:১২
Share:

—ফাইল চিত্র।

নাজিরাবাদের অগ্নিকাণ্ডে ২৭ জনের দেহাংশ উদ্ধার করেছিল পুলিশ। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই প্রায় সম্পূর্ণ দগ্ধ কিছু হাড়গোড় উদ্ধার হয়েছিল। একমাত্র একটি ক্ষেত্রেই কিছুটা গোটা দেহ মিলেছিল বলে সেই সময়ে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছিল। ডিএনএ পরীক্ষার পরে দেখা যায়,সেই দেহ বারুইপুরের বাসিন্দা,মোমো সংস্থার কর্মী বাসুদেব হালদারের।

অগ্নিকাণ্ডের প্রায় ২৫ দিন পরে, শনিবার সেই দেহ নিয়েই এলাকায় ফিরল বাসুদেবের পরিবার। দেহাংশ হস্তান্তরের জন্য এ দিন দুপুরে কাঁটাপুকুর মর্গে ডাকা হয়েছিল পরিবারের সদস্যদের। তবে, দেহাংশ হাতে পেতে সন্ধ্যা গড়িয়ে যায়।

গত ২৫ জানুয়ারি গভীর রাতে আগুন লাগে নাজিরাবাদের পাশাপাশি দু’টি গুদামে। তারই একটিতে কাজ করতেন বছর ষাটের বাসুদেব। বাসুদেব-সহ তিন জন মোমো সংস্থার ওই গুদামে ছিলেন। পাশে ডেকরেটর সংস্থার গুদামে ছিলেন আরও অনেকে। সকলেরই মৃত্যু হয়। পরে একে একে ২৭ জনের নামে নিখোঁজ ডায়েরি হয়। পুলিশ টানা তল্লাশি চালিয়ে ২৭টি দেহাংশ উদ্ধার করে। নিখোঁজদের আত্মীয়দের রক্তের নমুনা নেওয়া হয়। আত্মীয়দের নমুনার সঙ্গে মিলিয়ে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে ফরেন্সিক বিভাগ ইতিমধ্যে ১৮টি দেহ শনাক্ত করেছে। এ দিন সেই দেহাংশ তুলে দেওয়ার জন্যই পরিবারের সদস্যদের ডাকা হয়েছিল।

এ দিন সকালেই বারুইপুরের বাসুদেব-সহ দুই মেদিনীপুরের বাকি মৃতদের পরিবারের সদস্যেরা হাজির হন নরেন্দ্রপুর থানায়। সেখান থেকে সকলকে নিয়ে যাওয়া হয় কাঁটাপুকুর মর্গে। দেহাংশ হস্তান্তরের আগে নানা প্রক্রিয়ায় প্রায় দিনভর কেটে যায়। এর মধ্যেই দেখা যায়, দু’টি দেহাংশের ডিএনএ একটি রক্তের নমুনার সঙ্গে মিলছে। পুলিশ জানায়, একই পরিবারের দুই সদস্য ছিলেন। তাঁদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা হয়েছে। কোনটি কার, বুঝতে আরও কিছু পরীক্ষা করবে ফরেন্সিক। তাই আপাতত ওই দু’টি দেহাংশ দেওয়া হয়নি। বাকি ১৬টি দেহাংশ পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। দেহাংশ বলতে বেশির ভাগের হাতেই প্যাকেটবন্দি হাড়গোড় তুলে দেওয়া হয়েছে। বাসুদেবের পরিবার প্লাস্টিকবন্দি দেহ নিয়ে ফেরে। পরিবারের সদস্যেরা জানান, দেহ দেখে চেনার উপায় ছিল না। দেহে চামড়া-মাংস কিছুই ছিল না। ছিল কঙ্কাল।

দেহ নিয়ে প্রথমে মদারাটের টগরবেড়িয়ার বাড়িতে ফেরেন তাঁরা। দেহ ফিরতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যেরা। সেখান থেকে রাত ন’টা নাগাদ বারুইপুরের পুরন্দরপুর শ্মশানে পৌঁছন সকলে। সেখানেই হয় শেষকৃত্য। বাসুদেবের মেয়ে টগরী মণ্ডল বলেন, ‘‘ভাবতে পারিনি, বাবার মুখটাও দেখতে পাব না।’’ ছেলে দয়াময় হালদার বলেন, ‘‘গত পঁচিশ দিন ধরে দেহের জন্য বার বার পুলিশের কাছে ছুটে গিয়েছি। অবশেষে দেহ পেলাম। বাবার শেষকৃত্য করতে পেরেছি, অন্তত এইটুকু শান্তি পেলাম।’’ তিনি জানান, দেহ মিললেও এখনও মৃত্যুর শংসাপত্র মেলেনি। দ্রুত সেই শংসাপত্র দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

পুলিশ জানিয়েছে, যাঁদের দেহাংশ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের দ্রুত মৃত্যুর শংসাপত্র তুলে দেওয়া হবে। শনাক্ত হওয়া বাকি দু’টি দেহাংশ তুলে দেওয়ার বিষয়টিরও দ্রুত নিষ্পত্তি করা হবে। পাশাপাশি, এখনও পর্যন্ত চিহ্নিত না হওয়া দেহাংশগুলি দ্রুত শনাক্তকরণের চেষ্টা চলছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন