স্কুলে যাওয়ার পথেই প্রাণ গেল ছোট্ট আজিজের

এক মাসের রমজান শেষ হচ্ছে মঙ্গলবার। রোজ সকালে নমাজ পড়ে এসে বাড়ির সকলকে সেলাম করত সে। প্রতি বছরই এমনটা করে সে। কিন্তু তার আগের দিনই সোমবার সকালে বাবার চোখের সামনে পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল বছর আটের আজিজ সেন্টওয়ালার।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৪ জুলাই ২০১৬ ১৩:৫৭
Share:

দুর্ঘটনায় মৃত আজিজ সেন্টওয়ালা। নিজস্ব চিত্র।

এক মাসের রমজান শেষ হচ্ছে মঙ্গলবার। রোজ সকালে নমাজ পড়ে এসে বাড়ির সকলকে সেলাম করত সে। প্রতি বছরই এমনটা করে সে। কিন্তু তার আগের দিনই সোমবার সকালে বাবার চোখের সামনে পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল বছর আটের আজিজ সেন্টওয়ালার।

Advertisement

পুলিশ জানিয়েছে, পেশায় ব্যবসায়ী কাঈদ সেন্টওয়ালার বৌবাজারের হাভেরলি লেনে এবং চাঁদনি চকে দু’জায়গায় বাড়ি রয়েছে। হাভেরলি লেনে তাঁর বাড়ির উল্টো রাস্তাতেই রয়েছে ছেলের স্কুল। কিন্তু রবিবার রাতে চাঁদনির বাড়িতেই ছেলে আর স্ত্রীকে নিয়ে থেকে গিয়েছিলেন কাঈদ। এ দিন সকালে বাবার সঙ্গে স্কুলে আসার জন্য রওনা দিয়েছিল বৌবাজারের ফিয়ার্স লেনের সেন্ট স্টিফেন স্কুলের প্রথম শ্রেণির ছাত্র আজিজ।

তখন সকাল সাড়ে সাতটা। গণেশ চন্দ্র অ্যাভিনিউ এবং চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউ ক্রসিংয়ে সিগন্যাল তখন খোলাই ছিল। গাড়ি কম থাকায় তাড়াহুড়ো করে ছেলেকে নিয়ে পেরোতে যান বাবা। কিন্তু, পশ্চিমমুখী একটি লরি হঠাৎই তাঁদের সামনে এসে যায়। লরিটি শেষ মুহূর্তে কাটানোর চেষ্টা করলেও শেষরক্ষা হয়নি। লরির ধাক্কায় রাস্তায় ছিটকে পড়েন বাবা-ছেলে দু’জনেই। বাবার সামান্য চোট লাগলেও মাথায় গুরুতর চোট লাগে আজিজের। সঙ্গে সঙ্গেই দু’জনকে স্থানীয় লোকজন মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা আজিজকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। কাঈদকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ আটক করে লরিটিকে। গ্রেফতার করা হয়েছে কার্তিক জায়সবাল নামে ওই লরির চালককে।

Advertisement

আরও পড়ুন: জীর্ণ দেহ, চাকায় তাপ্পি, ফের দুর্ঘটনায় স্কুলবাস

তবে, হাসপাতালে সময়মতো নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকেরা ঠিক মতো আজিজের চিকিত্সা করেননি বলে অভিযোগ স্থানীয় ও পরিবারের লোকজনের। তাঁরা জানান, দু’-এক বার নাড়ি পরীক্ষা করে আর বুকে চাপ দিয়েই তাঁরা আজিজকে মৃত ঘোষণা করে দেন। জীবনদায়ী কোনও চিকিৎসার ব্যবস্থাই তাঁরা করেননি। উল্টে তাঁদের সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করেন। যদিও এ রকম কিছুই হয়নি বলে দাবি মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসকদের।

বাবা কাঈদ এবং মা তসলিম সেন্টওয়ালার একমাত্র সন্তান ছিল আজিজ। এ দিন হাভেরলি লেনে তাঁদের বাড়িতে গেলে দেখা যায়, কান্নায় ভেঙে পড়েছেন বাবা-মা দু’জনেই। আজিজের এক পিসি নিশরিন বলেন, ‘‘ভীষণ ছটফটে আর দুষ্টু ছিল আজিজ। কিন্তু কখনও কারও অবাধ্য ছিল না। কোথা থেকে কি যে হয়ে গেল, কিছুই বুঝতে পারছি না।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement