চাকায় তাপ্পি, ফের দুর্ঘটনায় স্কুলগাড়ি

হুঁশ ফেরেনি স্কুলগাড়ির চালক ও মালিকদের একাংশের। তাপ্পি মারা চাকা নিয়ে দিব্যি চলছে পড়ুয়াদের নিয়ে যাতায়াত। যার জেরে সোমবার দু’টি স্কুলগাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১২ জুলাই ২০১৬ ০১:৩৭
Share:

দুর্ঘটনার পরে। সোমবার। — নিজস্ব চিত্র।

হুঁশ ফেরেনি স্কুলগাড়ির চালক ও মালিকদের একাংশের। তাপ্পি মারা চাকা নিয়ে দিব্যি চলছে পড়ুয়াদের নিয়ে যাতায়াত। যার জেরে সোমবার দু’টি স্কুলগাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

Advertisement

পুলিশ জানায়, একটি স্কুলগাড়ির চাকায় ছিল তাপ্পি। সেটির কমার্শিয়াল লাইসেন্সও নেই। ওই গাড়িটিই গিয়ে ধাক্কা মারে অন্য স্কুলগাড়িটিকে। প্রথম গাড়িতে কোনও পড়ুয়া না থাকলেও দ্বিতীয় গাড়িটিতে পাঁচটি শিশু ছিল। তারা সবাই অক্ষত। শুধু অমিত দাস নামে সেই গাড়ির চালক চোট পেয়েছেন। পুলিশের বক্তব্য, দ্বিতীয় গাড়িটির চাকার অবস্থা তুলনায় ভাল ছিল। তবে অভিভাবকদের অভিযোগ, যে চালক নিয়মিত গাড়িটি চালাতেন, এ দিন তাঁর বদলে অন্য এক যুবক গাড়িটি চালাচ্ছিলেন।

শহরে একের পর এক স্কুলবাস ও গাড়ি দুর্ঘটনার পরে সতর্ক করা হয়েছিল চালক ও মালিকদের। পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজে স্কুলগাড়ি ও স্কুলবাস মালিকদের নিয়ে বৈঠকে বসে তাঁদের সতর্ক করেন। পুলিশ বলে দেয়, স্কুলগাড়ির স্বাস্থ্য পরীক্ষার ভার নেবে তারা। খেয়াল রাখতে হবে চাকা যেন বেশি পুরনো না হয়, যন্ত্রপাতি যেন নিয়মিত পরীক্ষা হয়। স্কুলগাড়ির চালকদের প্রশিক্ষণের বিষয়েও জোর দেওয়া হয়।

Advertisement

কিন্তু সেই সতর্কবার্তায় যে বাস ও স্কুলগাড়ি মালিকদের একাংশ কর্ণপাত করেননি, ফের তার প্রমাণ মিলল সোমবার। পুলিশ জানিয়েছে, এ দিন সকাল সাড়ে সাতটা থেকে পৌনে আটটার মধ্যে বিধাননগরের বিএ ব্লকে একটি বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের কাছে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। একটি গাড়ির চালক পলাতক। অভিভাবকদের অভিযোগ, বারবার বলেও স্কুলগাড়ি রক্ষণাবেক্ষণের কোনও ব্যবস্থা করা যায়নি।

পুলিশ জানিয়েছে, এ দিন বিধাননগরে বিএ ব্লকের ওই স্কুলের সামনে ছাত্রদের নামিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছিল একটি টাটা সুমো। তারই চাকায় ছিল তাপ্পি মারা। সে সময়ে উল্টো দিক থেকে ওই স্কুলেরই ছাত্রদের নিয়ে আসছিল একটি মারুতি ভ্যান। বিধাননগর ১ নম্বর গেটের কাছে একটি বাঁকের মুখে দু’টি গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সুমোটি একটি গলির শেষে এত জোরে বাঁক নিয়েছিল যে ভ্যানের চালক তা দেখেও গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। পুলিশের একাংশের দাবি, টাটা সুমোর চাকার অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। চাকায় তাপ্পি মারা ছিল। মারুতির চালক অমিত দাস এ দিন বলেন, ‘‘গলির মুখে গাড়ি ঘোরাতেই উল্টো দিক থেকে আসা সুমোটা ধাক্কা মারল। তার পরে আমার আর কিছু মনে নেই।’’

ওই গাড়িতেই ছিল সিঁথির বাসিন্দা, দ্বিতীয় শ্রেণির সৌম্যজিৎ মহন্ত। তার বাবা মানসবাবুর অভিযোগ, গাড়িটির চালক সামনের সিটে বসেছিলেন। তাঁর হেল্পার অমিত এ দিন গাড়ি চালাচ্ছিলেন। হেল্পার কেন গাড়ি চালাচ্ছিলেন, তার জবাব অবশ্য মেলেনি সংশ্লিষ্ট ট্রাভেলস এজেন্সির তরফে।

গত ২৪ জুন, শুক্রবার বাইপাসে তপসিয়ার কাছে দুর্ঘটনার মুখে পড়েছিল একটি স্কুলবাস। সে দিন শিশুদের বাঁচাতে গিয়ে বাস নিয়ে গিয়ে স্তম্ভে ধাক্কা মারেন চালক। মারা যান সেই চালক বিশ্বনাথ সামন্ত। পরে দেখা যায়, বাসটির চাকা ছিল তাপ্পি মারা। এর পরে ১ জুলাই আর জি করের সামনে ফের দুর্ঘটনায় পড়ে পড়ুয়া বোঝাই একটি স্কুলবাস। দেখা যায়, সেই বাসটিরও চাকা অনেক পুরনো, তাপ্পি মারা। এর পরে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। বিধানসভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। পরিবহণমন্ত্রী নিজে বৈঠকে বসেন। তবু যে কাজ হয়নি, প্রমাণ মিলল এ দিন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement
Advertisement