— ফাইল চিত্র।
আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতির টানাপড়েনে রান্নার গ্যাস নিয়ে অনিশ্চয়তার আবহে মুশকিল আসানের নয়া সূত্র উঠে এল শিবপুরে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং, সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (আইআইইএসটি) তরফে। দেশের প্রথম গ্রিন হাইড্রোজেন কুকিং আভেন গড়ার শরিক হয়েছে শিবপুর। অপ্রচলিত শক্তি ব্যবহারে নয়া প্রযুক্তিতে রান্নার চাবিকাঠি উঠে এসেছে শিবপুরের উদ্ভাবনীমূলক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্র ইনকিউবেশন সেন্টার থেকে।
শিবপুর কর্তৃপক্ষের দাবি, ভারত বা পশ্চিমবঙ্গে লক্ষাধিক পড়ুয়ার জন্য যেখানে মিড-ডে মিলের ব্যবস্থা করতে হয়, সেখানে এই গ্রিন হাইড্রোজেন কুকিং আভেন বড় ভরসা হতে পারে। সেই সঙ্গে রেস্তরাঁ, ক্লাউড কিচেন অফিস বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হেঁশেলে অনেক জনের রান্নার জন্য এই পদ্ধতি সাশ্রয় হতে পারে বলেও দাবি।
শিবপুরের মানবসম্পদ উন্নয়নের বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মানসকুমার সান্যাল এই নয়া প্রযুক্তির ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‘এই রান্নার স্টোভটি ৬ লিটার মতো জল নিয়ে ৬-৭ ঘণ্টা চলবে। জল থেকে হাইড্রোজেন উৎপন্ন করে সেই হাইড্রোজেন ব্যবহার করে রান্নার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।’’ তিনি জানান, এই আভেনে জল ‘ইলেকট্রোলাইসিস’ প্রক্রিয়ার সময়ে সামান্য বিদ্যুৎ সংযোগ লাগছে। তবে বিষয়টি সৌরশক্তির প্রয়োগেও করা সম্ভব। একটি স্টার্ট-আপ সংস্থার সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে শিবপুরের ইনকিউবেশন সেন্টারটির তত্ত্বাবধান এবং পরিচর্যায় অভিনব এই উদ্ভাবনের কাজটি এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বিষয়টির পেটেন্ট নিয়ে স্টার্ট-আপ সংস্থাটির মাধ্যমে এই গ্রিন হাইড্রোজেন আভেনের বাণিজ্যিক প্রসারের কাজও রয়েছে।
আইআইইএসটি-র ইনকিউবেশন সেন্টারটি ইতিমধ্যে ২০-২৫টি স্টার্ট-আপ সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে নানা উদ্ভাবনের কাজে শরিক। অপ্রচলিত শক্তি প্রয়োগে রান্নার এই আবিষ্কারটি ল্যাব থেকে শিল্পক্ষেত্রের সেতুবন্ধনের একটি গুরুত্বপূর্ণ নমুনা হতে পারে বলেই দাবি।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে