‘একটু বাইরে আসুন, কথা আছে’। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা অপেক্ষার পরে হাসপাতালের এক কর্মীর ডাকে জরুরি বিভাগের বাইরে এসেছিলেন রোগীর ছেলে। অভিযোগ, জানানো হয় ১৪ হাজার টাকা দিলেই মিলবে শয্যা। রাজি হতেই আধ ঘণ্টার মধ্যে আইসিইউ-তে ঠাঁই মেলে। ওয়ার্ডের করিডরে দাঁড়িয়েই রোগীর ছেলের থেকে ১২ হাজার টাকা গুনে নেন ওই কর্মী!
এমনই অভিযোগ আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বিরুদ্ধে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিলেন, হাসপাতাল থেকে দালাল চক্র নির্মূল করতে হবে। তার পরেও যে দালাল চক্র সক্রিয়, তার প্রমাণ মিলল। রোগীর পরিজন দিন সাতেক আগে অভিযোগ দায়ের করলেও শুক্রবার বিষয়টি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নজরে আসার পরে পুলিশ হাসপাতালের অস্থায়ী কর্মী তারকনাথ সাহা ওরফে নাড়ুকে গ্রেফতার করে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘হাসপাতালে দালাল চক্র এবং কোনও অসাধু কাজ বরদাস্ত করা হবে না। রোগীর সুষ্ঠু পরিষেবা নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য।’’
গত ২৫ মে সকালে অফিস যাওয়ার পথে দুর্ঘটনায় মাথায় গুরুতর চোট পান হাওড়ার বাসিন্দা প্রবীর গুহ। আলিপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হলে তাঁকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়। প্রবীরের ছেলে শিবব্রত জানান, খরচ টানতে না পেরে ২৮ মে দুপুরে বাবাকে নিয়ে আর জি করের ট্রমা কেয়ারে আসেন। ‘লাইফ-সাপোর্ট’ অ্যাম্বুল্যান্সের স্ট্রেচারে করেই প্রবীরকে ‘রেড জ়োন’-এ রাখা হয়েছিল। শিবব্রত বলেন, ‘‘শল্য, স্নায়ু-শল্য এবং বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসকেরা এসে বাবাকে দেখে অবস্থা সঙ্কটজনক বলেছিলেন। কিন্তু কেউই শয্যা দিতে পারছিলেন না।’’
শিবব্রতের দাবি, দীর্ঘক্ষণ ট্রমা কেয়ারে বসে থাকার সুবাদে নাড়ুর সঙ্গে পরিচয় হয়। সেই সূত্রেই সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ তাঁকে ট্রমা বিল্ডিংয়ের বাইরে ডেকে, ১৪ হাজার টাকায় ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা জানান নাড়ু। রাজি হতেই ওই কর্মী নিজেই ছোটাছুটি করে শল্য বিভাগের আইসিইউ-এর ন’নম্বর শয্যায় ভর্তির ব্যবস্থা করেন। যুবক বলেন, ‘‘অন্য জায়গা থেকে ভেন্টিলেটরও এনে দেন নাড়ু। রাত ৮টা নাগাদ ওঁকে নগদ ১২ হাজার টাকা দিই।’’ ২ জুন প্রবীরকে হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়া হলেও এখনও তাঁর উঠে বসার ক্ষমতা নেই বলে জানাচ্ছেন পরিজনেরা।
শিবব্রত বলেন, ‘‘বাবার অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে, কী ভাবে শয্যা পাব, সেই চিন্তায় টাকা দিতে রাজি হয়েছিলাম। পরে ভাবলাম, যেখানে সবাই বলছিলেন শয্যা নেই। সেখানে টাকা দিতেই ব্যবস্থা হল কী ভাবে?’’ ১১ জুন তিনি সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন। সেটির ভিত্তিতেই টালা থানা এফআইআর দায়ের করে।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে