যুবভারতীতে লিয়োনেল মেসির সঙ্গে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। — ফাইল চিত্র।
মেসি-কাণ্ডে প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে তলব করল বিধাননগর দক্ষিণ থানা। ৪ জুন, বৃহস্পতিবার তাঁকে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যুবভারতীতে লিয়োনেল মেসির অনুষ্ঠান ঘিরে বিশৃঙ্খলার জেরে শনিবারই তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছিল। তার মধ্যেই ক্রীড়া সংগঠক শতদ্রু দত্ত প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রীর বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ, আর্থিক ক্ষতি ও মানহানির মামলা দায়ের করার কথা জানিয়েছেন।
যুবভারতীতে মেসির অনুষ্ঠানের আয়োজক ছিলেন শতদ্রু। বিশৃঙ্খলার ঘটনার পর পরই তাঁকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। বর্তমানে তিনি জামিনে মুক্ত। তার পরই শতদ্রু অরূপ-সহ কয়েক জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। শতদ্রুর সেই অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার এফআইআর করে বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশ। অরূপদের বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি ধারায় এফআইআর হয়। সেগুলি হল— অভিন্ন উদ্দেশ্য ৩(৫), তোলাবাজি ৩০৮(২), প্রতারণা ৩১৮(৪), অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন ৩৫১(২) এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র ৬১(২)। সেই এফআইআরের পরই যুবভারতী-কাণ্ডে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রীকে তলব করল পুলিশ। যদিও ইতিমধ্যেই গ্রেফতারির আশঙ্কায় আগাম জামিন চেয়ে আদালতে দ্বারস্থ হয়েছেন অরূপ। বারাসত আদালতে মামলা করেছেন তিনি।
মেসির সফরে যুবভারতীর অনুষ্ঠানের প্রচুর টিকিট শতদ্রুর কাছ থেকে অরূপ দাবি করেছিলেন বলে অভিযোগ। আরও অভিযোগ, টিকিট দেওয়া না হলে বা তাঁর কথা অমান্য করলে অনুষ্ঠান বাতিল করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। শতদ্রুর দাবি, ২২ হাজার ‘কমপ্লিমেন্টারি’ টিকিট নিয়েছিলেন অরূপ। পরে সেগুলি কালোবাজারি করা হয়। যুবভারতীতে মেসিদের ঘিরে যে ভিড় হয়েছিল, সেখানে মন্ত্রী, নেতা এবং তাঁদের ঘনিষ্ঠজনেরাই ছিলেন। অভিযোগ, অরূপকে কার্যত লেপ্টে থাকতে দেখা গিয়েছিল মেসির গায়ে। শতদ্রু আরও দাবি করেন, অরূপ-সহ প্রশাসনের কয়েক জনের ‘ভুলের’ কারণে মেসির অনুষ্ঠান ‘পণ্ড’ হয়ে গিয়েছে। অনুমতি ছাড়া অনেকে মাঠে প্রবেশ করেছিলেন। যাঁরা টাকা দিয়ে টিকিট কেটেছিলেন, তাঁদের কেউ মেসিকে দেখতেই পাননি।
যুবভারতীতে বিশৃঙ্খলায় অরূপের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সমালোচনার শিকার হন তিনি। ক্রীড়ামন্ত্রীর দায়িত্ব থেকেও তিনি অব্যাহতি নিয়েছিলেন তদন্ত শুরু হওয়ার পর। পুলিশ আদালতে জানিয়েছিল, ৩৫ হাজার দর্শক মেসিকে দেখার জন্য টিকিট কেটেছিলেন। টিকিট বিক্রি হয়েছিল ১৯ কোটি টাকার। বিধানসভা ভোটে রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল ঘটে গিয়েছে। তৃণমূলকে ক্ষমতাচ্যুত করে সরকার গঠন করেছে বিজেপি। তার পর নতুন করে মেসিকাণ্ড আলোচনায় উঠে এসেছে।
এফআইআর দায়ের পর শতদ্রু আবার মুখ খোলেন অরূপের বিরুদ্ধে। তিনি জানান, ইতিমধ্যেই দায়ের হওয়া এফআইআরে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২০বি (ফৌজদারি ষড়যন্ত্র) ধারা-সহ প্রতারণা, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক ধারায় আরও কয়েক জনের নাম যুক্ত করার আবেদন করা হবে। এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে নথিপত্র, ভিডিও ফুটেজ এবং অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে।