মাছের সঙ্গে লক্ষ্মীলাভ, সরগরম গোটা পাড়া

‘মাছ ধরতে গিয়ে আমি তোমায় ধরে ফেলেছি!’ খুশিতে ডগমগ হয়ে, ভাগ্যকে সেলাম ঠুকে নির্ঘাত এমনটাই ভাবছেন সোদপুর পানশিলার যুবক। এলাকার মধ্যে দিয়ে গিয়েছে খড়দহ খাল। সোমবার সকালে পানশিলা মাকালতলায় সেই খালের জলে রোজকার মতোই জাল ফেলেছিলেন স্থানীয় এক জেলে।

Advertisement

শান্তনু ঘোষ

শেষ আপডেট: ১৩ ডিসেম্বর ২০১৬ ০১:৩৩
Share:

অলঙ্করণ: সুমিত্র বসাক

‘মাছ ধরতে গিয়ে আমি তোমায় ধরে ফেলেছি!’

Advertisement

খুশিতে ডগমগ হয়ে, ভাগ্যকে সেলাম ঠুকে নির্ঘাত এমনটাই ভাবছেন সোদপুর পানশিলার যুবক।

এলাকার মধ্যে দিয়ে গিয়েছে খড়দহ খাল। সোমবার সকালে পানশিলা মাকালতলায় সেই খালের জলে রোজকার মতোই জাল ফেলেছিলেন স্থানীয় এক জেলে। প্রথমে জালে উঠে এল পুঁটি, তেলাপিয়ার মতো ছোট ছোট কয়েকটা মাছ। কিছুটা মুষড়েই পড়েছিলেন তিনি। সেই সময়েই হাজির ওই যুবক। জেলের থেকে জাল চেয়ে নিয়ে নিজেই ফের জলে ফেলেন।

Advertisement

কিছুক্ষণ পরে সেই জাল টেনে তোলা হল পাড়ে। চারা মাছের সঙ্গে পাঁকে-কাদায় মাখামাখি কী যেন একটা উঠে এসেছিল। গায়ের পাঁক সাফ করতেই দেখা গেল, দু’জনের চক্ষুস্থির! পুরনো পাঁচশো টাকার নোটের আস্ত একটা বান্ডিল!

কথা না বাড়িয়ে সেই টাকা নিয়ে বাড়িতে ছুটলেন যুবক। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এর পরেই বাড়ি থেকে মশারি নিয়ে এসে খালে ফেলতেই ফের পুঁটি, তেলাপিয়ার সঙ্গে আরও বেশ কয়েকটা পুরনো ৫০০ টাকার নোট। ততক্ষণে খাল থেকে টাকা ওঠার খবর চাউর হয়ে গিয়েছে। সরগরম গোটা পাড়া।

দ্বিতীয় বার মশারিতে টাকা ওঠার পরে স্থানীয় আরও কয়েক জন জলে নেমে পড়েন। প্রত্যেকের মুখেই এক কথা— ‘‘দেখি, যদি লক্ষ্মীলাভ হয়!’’ বেশ কিছুক্ষণের খোঁজাখুজির পরে তাঁদেরও অবশ্য নিরাশ করেনি ভাগ্য। জল হাতড়ে অন্তত কয়েকটা পুরনো পাঁচশো টাকার নোট পেয়েছেন প্রত্যেকেই। স্থানীয় বাসিন্দা অরূপকুমার চক্রবর্তী বলেন, ‘‘প্রথমে জালে টাকা ওঠার পরে মশারিতেও কিছু টাকা ওঠে। তা দেখেই কয়েক জন জলে নেমে টাকা খুঁজে আনে। কোথা থেকে এই টাকা এল, বোঝা যাচ্ছে না।’’

কিছুক্ষণের মধ্যেই খবর পৌঁছয় খ়ড়দহ থানায়। ঘটনাস্থলে আসে পুলিশ। যদিও পুলিশ আসার আগেই টাকা নিয়ে যে যার মতো চম্পট দিয়েছেন। এক বাসিন্দার কথায়, ‘‘পুলিশ এলে তো যে ক’টা টাকা পাওয়া গিয়েছে, তা-ও বেহাত হয়ে যাবে!’’ পুলিশ এসেও জলের নীচ থেকে কয়েকটা পুরনো নোট উদ্ধার করেছে।

টাকা উদ্ধার-পর্বে আরও অনেকের মতো দর্শক ছিলেন খালের উল্টো দিকের বাড়ির বাসিন্দা আলো ভট্টাচার্য। তিনি জানান, দু’তিন দিন ধরে খালের জলে দুটো বালিশের মতো কিছু একটা ভাসতে দেখা গিয়েছিল। সেগুলো ডুবে যাওয়ার পরেই টাকা মিলল। আলোদেবী বলেন, ‘‘বালিশের মতো দেখতে ওই বস্তাগুলোর মধ্যেই টাকা ছিল। তা থেকেই আজ টাকা বেরিয়েছে।’’ পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অনুমান, জলের নীচে টাকার গোছা পড়েছিল। জাল ফেলতেই নীচের পাঁক ঘেটে গিয়ে সেই টাকা ভেসে উঠেছে।

কিন্তু কী হবে ওই টাকা নিয়ে? পুরনো পাঁচশো টাকার নোট তো বাতিল হয়ে গিয়েছে! কারও কারও যুক্তি— নিজের অ্যাকাউন্টে জমা দিলেই তো হল! এখনও তো সময় আছে।

ঘটনা যা-ই হোক, আচমকা লক্ষ্মীলাভে ভাগ্যকেই ধন্যবাদ দিচ্ছেন সকলে। বিশেষত ওই যুবক।

ভাগ্যিস জেলের থেকে জালটা চেয়েছিলেন!

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement