রাজারহাটে উদ্ধার বিপুল কার্তুজ, শুরু রাজনৈতিক তরজা

রাজারহাটের বাবলাতলা থেকে উদ্ধার হল বিপুল পরিমাণ কার্তুজের খোল। ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এক ব্যক্তিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। এ দিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজারহাটে। শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপান-উতোর। ঘটনার পিছনে স্থানীয় সিপিএম নেতা তাপস চট্টোপাধ্যায়ের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তৃণমূল।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৬ মার্চ ২০১৫ ০৩:২৮
Share:

রাজারহাটের বাবলাতলা থেকে উদ্ধার হল বিপুল পরিমাণ কার্তুজের খোল। ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এক ব্যক্তিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

Advertisement

এ দিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজারহাটে। শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপান-উতোর। ঘটনার পিছনে স্থানীয় সিপিএম নেতা তাপস চট্টোপাধ্যায়ের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তৃণমূল। বাম নেতাদের অবশ্য পাল্টা দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে চক্রান্ত করা হচ্ছে। তাঁদের নেতার নামে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ ভিত্তিহীন।

এ দিন ঠিক কী ঘটেছে? পুলিশ সূত্রে খবর, বাবলাতলার কাছে একটি সিসা সংস্থার কারখানা বহু দিন ধরেই বন্ধ। এ দিন দুপুরে ওই কারখানার কাছে এক ব্যক্তি রিকশায় ৬টি টিনের বাক্স তুলছিলেন। আচমকাই একটি বাক্স মাটিতে পড়ে গিয়ে ছড়িয়ে পড়ে বিপুল পরিমাণ কার্তুজের খোল। তাই দেখে ছুটে আসেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এর পরেই পুলিশে খবর দেওয়া হয়। এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, পালন অধিকারী বলে এক ব্যক্তি বাক্সগুলি রিকশায় তুলছিলেন। তখনই ঘটে ওই ঘটনা।

Advertisement

এলাকাবাসীর একাংশের অভিযোগ, বন্ধ হয়ে যাওয়া ওই কারখানায় মাঝেমধ্যেই চুরির ঘটনা ঘটে। এর আগেও রাজারহাটে অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। এ বার মিলল কার্তুজের খোল। তাঁদের দাবি, পুলিশ অবিলম্বে ঘটনার তদন্ত করুক। কারণ, এতে বাসিন্দাদের নিরাপত্তার প্রশ্ন জড়িত।

তবে, বাসিন্দারা নিরাপত্তাজনিত প্রশ্ন তুললেও তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই ঘটনায় সরাসরি বামেদের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে। যাঁর দিকে অভিযোগের তির, সেই সিপিএম নেতা তাপস চট্টোপাধ্যায় বলেন, “এটা চক্রান্ত ছাড়া কিছুই নয়। ঘটনার সঙ্গে আমার বা দলের কোনও সম্পর্ক নেই। যিনি এক পা বিজেপিতে বাড়িয়েছেন এবং আর এক পা তৃণমূলে, পারলে তিনি রাজনৈতিক ভাবে এর মোকাবিলা করুন। ব্যক্তিগত কুৎসা ছড়িয়ে নয়। পুলিশ প্রকৃত তদন্ত করে দেখুক।”

তাপসবাবুর বক্তব্যের বিরোধিতা করে রাজারহাট-নিউ টাউনের বিধায়ক, তৃণমূলের সব্যসাচী দত্ত বলেন, “যিনি ধরা পড়েছেন, শুনছি তিনি সিপিএমের ওই নেতার এক ঘনিষ্ঠের নাম বলেছেন।” তাঁর আরও বক্তব্য, “কার্তুজের খোল মিলেছে, এটা তো বাস্তব। চক্রান্ত কেন হবে? এই ঘটনায় ওই সিপিএম নেতার এক ঘনিষ্ঠের নাম এসেছে। সে ক্ষেত্রে আমরা কী ভাবে চক্রান্ত করলাম?” সব্যসাচীবাবুও দাবি করেছেন, নিরপেক্ষ তদন্ত করে পুলিশ প্রকৃত দোষীদের গ্রেফতার করুক।

উল্লেখ্য, বাবলাতলা নিয়ে এর আগেও সরগরম হয়েছিল রাজ্য-রাজনীতি। এখানেই বছরখানেক আগে বর্তমান বিধায়ক সব্যসাচীবাবুর অনুগামীদের সঙ্গে সিপিএম নেতা তাপস চট্টোপাধ্যায়ের অনুগামীদের সংঘর্ষ হয়। আহত হয়েছিলেন বিধায়কের গাড়ির চালক ও দেহরক্ষী।

তবে বিধাননগর কমিশনারেটের এডিসিপি (এয়ারপোর্ট) অনন্ত নাগ জানান, ঘটনায় এক জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ওই ব্যক্তি বিপুল পরিমাণ কার্তুজের খোল কোথা থেকে পেলেন, কোথায় সেগুলি তিনি নিয়ে যাচ্ছিলেন, সে বিষয়গুলিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement