Abhishek Banerjee CID

শান্তিনিকেতনের সামনে হঠাৎ সিআইডি! ‘স্যর বাড়িতে নেই’, জানালেন কর্মী! কালীঘাটের বাড়িতে ফিরলেন অভিষেক

হরিশ মুখার্জি রোডে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে গিয়েছে সিআইডির চার সদস্যের একটি দল। কিন্তু অভিষেক বাড়িতে নেই বলে জানিয়েছেন তাঁর বাড়ির কর্মীরা।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ৩০ মে ২০২৬ ১৩:৩৬
Share:

রামমোহন রায় রোডে কুণাল ঘোষের বাড়িতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার। —নিজস্ব চিত্র।

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে সিআইডি। শনিবার দুপুরে রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের চার সদস্যের একটি দল গিয়েছে হরিশ মুখার্জি রোডে। সঙ্গে রয়েছেন ভিডিয়োগ্রাফারও। কর্মীরা জানিয়ে দিয়েছেন, অভিষেক বাড়িতে নেই। তবে অভিষেক রয়েছেন রামমোহন রায় রোডে দলের বিধায়ক কুণাল ঘোষের বাড়িতে। কুণাল নিজেই সে কথা জানিয়েছেন। অভিষেকের বাড়ির সামনে অপেক্ষা করছে সিআইডি।

Advertisement

অভিষেকের বাড়ি ‘শান্তিনিকেতনে’ কী কারণে সিআইডি হানা, এখনও স্পষ্ট নয়। মনে করা হচ্ছে, বিধানসভায় তৃণমূলের পরিষদীয় দলের চিঠিতে স্বাক্ষর সংক্রান্ত বিতর্কের তদন্তেই সিআইডি আধিকারিকেরা অভিষেকের সঙ্গে কথা বলতে গিয়েছেন। নোটিস দেওয়া হতে পারে ওই বাড়িতে।

বেলেঘাটায় ভোট-পরবর্তী হিংসায় এক তৃণমূলকর্মীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ। তাঁর পরিবারের সঙ্গেই শনিবার দেখা করতে গিয়েছিলেন অভিষেক। কুণালের বাড়িতে ওই কর্মীর পরিবারের সদস্যেরা আসেন এবং অভিষেকের সঙ্গে দেখা করেন। কুণাল বলেন, ‘‘আমার বাড়িতে অভিষেক ছিলেন। যিনি মারা গিয়েছেন, তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অভিষেক দেখা করেন। ওঁদের সমস্যাগুলি শোনেন। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার আশ্বাস দিয়েছেন।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘বিশ্বজিতের ময়নাতদন্তের সময় থেকেই আমি ছিলাম। ওঁদের পরিবারের সমস্যার কথা নেত্রীকে জানিয়েছিলাম। শীর্ষ নেতৃত্ব জানিয়েছিলেন, দলের তরফে বিষয়টি দেখা হবে।’’ সিআইডি হানা প্রসঙ্গে কুণাল কোনও মন্তব্য করেননি।

Advertisement

বিধানসভায় তৃণমূলের পরিষদীয় দলের তরফে যে চিঠি দেওয়া হয়েছিল, তাতে কয়েক জন বিধায়কের সইতে ‘অসঙ্গতি’ পাওয়া গিয়েছে বলে অভিযোগ। সিআইডি সেই সংক্রান্ত তদন্তে কলকাতা পুলিশকে সাহায্য করছে। এর আগে এই সূত্রেই সিআইডি আধিকারিকেরা গিয়েছিলেন চৌরঙ্গীর বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষের বাড়িতে। এ ছাড়া, ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক বাহারুল ইসলাম এবং ডোমজুডের বিধায়ক তাপস মাইতির বাড়িতেও সিআইডি গিয়েছিল।

কী নিয়ে বিতর্ক? বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা, উপদলনেতা এবং মুখ্যসচেতক কে হবেন, এ নিয়ে পরিষদীয় নিয়মের জটিলতায় পড়তে হয়েছে প্রাক্তন শাসকদলকে। ৪ মে ভোটের ফলঘোষণার পরে ৬ মে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কালীঘাটের বাড়িতে জয়ী বিধায়কদের বৈঠকে ডেকেছিলেন। সে দিনই দলের প্রস্তাবে বিধায়কেরা হাত তুলে সায় দিয়ে জানান, পরিষদীয় দলের নেতা, উপনেতা এবং মুখ্যসচেতক কে হবেন তা ঠিক করুন দলনেত্রী মমতা। এর পর শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় ও অসীমা পাত্রকে উপদলনেতা এবং ফিরহাদ হাকিমকে মুখ্যসচেতক করার কথা জানানো হয় তৃণমূলের তরফে। সেই মর্মে দলের তরফে সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসাবে অভিষেকের সই করা একটি চিঠি পাঠানো হয় বিধানসভায়। তা গৃহীত হয়নি। সেই সংক্রান্ত তদন্তেই অভিষেকের বাড়িতে গিয়েছিল সিআইডি। তাঁর বাড়ি থেকে এক কর্মী বাইরে বেরিয়ে এসে বলেন, ‘‘বাড়িতে কেউ নেই। স্যর বাড়িতে নেই। আমরা কয়েক জন কর্মী রয়েছি। গত কয়েক দিনে বাড়িতে কেউ আসেননি।’’ তাঁর সঙ্গে সিআইডি আধিকারিকেরা কিছু ক্ষণ কথা বলেন। তার পর ওই কর্মী আবার বাড়িতে ঢুকে যান।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement